দীর্ঘ ৬বছরেও জনচলাচলের রাস্তা উদ্ধার ও উন্মুক্ত করে দিতে পারেনি সিলেট সিটি কর্পোরেশন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

দীর্ঘ ৬বছরেও জনচলাচলের রাস্তা উদ্ধার ও উন্মুক্ত করে দিতে পারেনি সিলেট সিটি কর্পোরেশন

প্রকাশিত: ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৬

দীর্ঘ ৬বছরেও জনচলাচলের রাস্তা উদ্ধার ও উন্মুক্ত করে দিতে পারেনি সিলেট সিটি কর্পোরেশন

unnamedদীর্ঘ ৬বছরেও জনচলাচলের রাস্তা উদ্ধার ও উন্মুক্ত করে দিতে পারেনি সিলেট সিটি কর্পোরেশন। অজ্ঞাত কারণে উদ্ধারকাজ ঝুলিয়ে রাখা হযেছে। ফলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার জনসাধারণকে। নগরীর লামাবাজারস্থ ছায়তরু-২১নং বাসার সামনের সরকারী রাস্তাটি জবরদখল করে নেয়া হয়েছে। জানা গেছে,সিলেট নগরীর লামাবাজারস্থ ৩৬২৬ নং দাগের ভূমি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অধীন জনচলাচলের সরকারী রাস্তা। রাস্তাটি ২০১০সালের প্রথমভাগে জবরদখল করে নেন ছায়াতরু-২১বাসার বাসিন্দা পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এএসপি আব্দুস সত্তার ওরফে ডিআউবি সাত্তার। দখলের পর রাস্তার উপর অবৈধভাবে গ্যারেজ ও গেইট নির্মান করে রেখেছেন। ফলে পার্শ্ববর্তী বাসাবাড়ির লোকজনের চলাচলে বাঁধা ও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে রাস্তা উদ্ধার ও উন্মুক্ত করে দেয়ার জোর দাবি জানান। সিলেট সিটি কর্তৃপক্ষ আব্দুস সত্তার ওরফে ডিআইবি সাত্তারকে একএক করে তিনবার নোটিশ করে। সর্বশেষ রাস্তার উপর নির্মিত ইমারত ২৪ঘন্টার মধ্যে অপসারনরে চুড়ান্ত নোটিশ দেয় সিলেট সিটি কর্তৃপক্ষ। বিগত ২০১০সালের ৩০ডিসেম্বর এ নোটিশ প্রদান করা হয়, যার স্মারক নং-১২৪৮। এ নোটিশ দিয়েই ক্ষান্ত হয়ে পড়ে সিলেট সিটি কর্তৃপক্ষ। চুড়ান্ত নোটিশ পেয়েও ডিআইবি সাত্তার অবৈধ ইমারত ও স্থপনা অপসারন না করে বহাল তবিয়তে জবরদখলে রেখেছেন জনচলাচলের রাস্তা। দীর্ঘ ৬বছর পার হয়ে গেলেও পূর্ন হয়নি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৪ঘন্টা। এলাকবাসীর প্রশ্ন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনেসর ২৪ঘন্টা পার হতে আর ক’বছর লাগবে? স্থানীয়রা জানান, পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এএসপি আব্দুস সত্তারের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। সিলেটে কর্মরত থাকাকালে নগরীর লামাবাজারস্থ ৩৬২৭ ও ৩৬২৮ নং দাগের ৭১ শতক সরকারী খাস ভূমি জবরদখলে নিয়ে তিনি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মান করেন। যে ভূমির বর্তমান বাজারমূল্য ১৪কোটি টাকারও বেশী। ভূমি দখল ও বাড়ি নির্মানের পর বাড়ির সামনের সরকারী রাস্তাটিও (দাগ নং-৩৬২৬) জবরদখল করে নেন তিনি। পরে রাস্তার উপর একটি গ্যারেজ ও কিছুদূরে বাড়ির গেইট নির্মান করে ফেলেন। ফলে এলাকার জনচলাচলে বিঘœ ঘটতে শুরু করে। এলাকার জনসাধারণের পক্ষে লামাবাজার ১৭পুলেরপারের নাজমূল হাসান রাস্তা উদ্ধারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন স্থাপনা অপসারনের জন্য ১৩.০৫.২০১০, ০২.০৬.২০১০ ও ০৭.১১.২০১০ ইংরেজী তারিখে পর পর ৩টি নোটিশ প্রদান করে। তিনবার নোটিশ পেয়েও এএসপি(অবঃ) আব্দুস সত্তার ওরফে ডিআইবি সাত্তার অবৈধ স্থাপনা অপসারন করেন নি। ফলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ৩০.১২.২০১ ইংরেজী তারিখে চুড়ান্ত নোটিশ দিয়ে ২৪ঘন্টার মধ্যে অবৈধ স্থাপনা অপসারনের নির্দেশ দেয়। অন্যথায় সিটি কর্পোরেশন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়। চুড়ান্ত এ নোটিশ প্রদানের দীর্ঘ ৬বছর অতিবাহিত হয়ে গেলে রাস্তার উপর নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে এলাকার জনগনকে চরম বন্দীদশায় দিনযাপন করতে হচ্ছে। কেউ কেউ বিকল্প পথ বের করে বাসাবাড়িতে যাতায়াত করছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এব্যাপারে এএসপি (অবঃ) মো. আব্দুস সত্তারের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তার দখলে সরকারী রাস্তা থাকার কথা তিনি সম্পূর্ন অস্বীকার করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল