সিলেটে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৬ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৬ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

প্রকাশিত: ৯:০৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

সিলেটে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৬ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডিস মশার লার্ভা থাকায় সিলেটে ৬ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের ক্বীন ব্রিজ সংলগ্ন ভার্থখলা এলাকায় সিরামিক ও প্লাস্টিক পণ্যের দোকানগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এসময় এডিস মশার লার্ভার সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি ও সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে পণ্য রাখার অভিযোগে ৬ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরক্রমে জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম উদ্দিন। এসময় সিসিকের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-১ মোহাম্মদ তৌফিক বকস ও সিসিকের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে সহায়তা করেন সিলেট জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ মো. নজরুল ইসলাম। এসময় তিনি অভিযুক্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর খোলা স্থানে রাখা প্লাস্টিক ও সিরামিক পণ্যে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভার অস্থিত্ব পান।

সিসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাজমুল অ্যান্ড ব্রাদার্স-২, ধর স্যানিটারি মার্ট, মেসার্স হিমালয় স্যানেটারি, মেসার্স কয়েস অ্যান্ড ব্রাদাসসহ ৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এডিস মশার লার্ভার জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃস্টিতে তাদের অপরাধ এবং সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে পণ্য রাখার অপরাধ স্বীকার করেন। ভ্রাম্যমান আদালত তাদের বিরুদ্ধে পৃথক ৬টি মামলা করেন এবং সর্বমোট ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

এছাড়া সরকারি জায়গা থেকে দু’দিনের মধ্যে পণ্যসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। খোলা স্থান থেকে পণ্যগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গুদামজাতের নির্দেশ দেন।

এসময় এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব ও জমা পানি ফেলে দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে।একইসময় এলাকায় ফগার মেশিন দ্বারা মশকনিধনের ওষুধ ছিটানো হয়।

সিসিকের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, গতবার এসব স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় এবার সিসিকের পক্ষ থেকে বছরের শুরু থেকেই সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

টায়ার-টিউব ব্যবসায়ীরা খোলা স্থান থেকে তাদের পণ্য সামগ্রী সরিয়ে নিলেও ভার্থখলার প্লাস্টিক ও সিরামিকের ব্যবসায়ীরা কোনো পদক্ষেপ নেননি। ফলে এরই মধ্যেই এসব এলাকায় এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিনত হয়েছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারের যুগ্ম সচিব বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, নগরবাসীকে এডিস মশার হাত থেকে রক্ষায় বছরব্যাপী কার্যক্রম চালাচ্ছে সিসিক। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার জন্য নগরজুড়ে মাইকিং করা হচ্ছে এবং বিতরণ করা হচ্ছে সচেতনতামূলক লিফলেট।

সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এডিস মশার সম্ভাব্য উৎসস্থল পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও স্বচ্ছ পানি জমে থাকতে দেবেন না। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ডেঙ্গুর প্রার্দুভাব দেখা দিলে নতুন করে স্বাস্থ্য সঙ্কটে পড়বে নগরজীবন। ডেঙ্গুমুক্ত নগরী গড়তে নগরবাসীর কাছে সহযোগিতাও চান সিসিক মেয়র।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল