সিলেটে ওসি খায়রুলের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রীতি ও হয়রানীর অভিযোগ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে ওসি খায়রুলের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রীতি ও হয়রানীর অভিযোগ

প্রকাশিত: ৪:৩৮ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০১৬

সিলেটে ওসি খায়রুলের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রীতি ও হয়রানীর অভিযোগ
journaliswt confarince picসিলেটের মোগলাবাজার থানার ওসি খায়রুল ফজলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টতা, আঁতাত, জামায়াতপ্রীতি, ওয়ারেন্ট কেলেংকারী ও জনহয়রানীর গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। দক্ষিন সুরমার হবিনন্দী গঙ্গানগরের প্রবাস ফেরত নজরুল ইসলাম ফোকন শনিবার (১৪মে) সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম ফোকন জানান, গতবছরের নভেম্বর মাসে হবিনন্দী গ্রামে থাকা তার মায়ের বসতভিটে থেকে তাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে দেয় একই গ্রামের জুনেদ আহমদ, জুয়েল আহমদ, ফারুক মিয়া, আব্দুল জলিল ময়না, বাবু মিয়া, আব্দুস সালাম উজ্জল, সাজন আহমদ, লুৎফুর রহমান সেলিম, রেহেনা উদ্দিন ও মসুদ শাহ সহ তাদের সহযোগীরা। এঘটনার তার মা রোকিয়া বেগম মোগরাবাজার থানায় অভিযোগ দিলে ওসি খায়রুল ফজল তা আমলে না নিয়ে উল্টো দখলবাজদের সহায়তা করেন। ফলে বাস্তুহারা নজরুল বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে একই থানাধীন পশ্চিমভাগ আবাসিক এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হন। থানা পুলিশের সহায়তা পেয়ে ভুমিদস্যুচক্র আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। তারা এ বছরের ২২ মার্চ তার স্বত্বদখলীয় মার্কেট ও স্কুল তওহীদ একাডেমীতে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাংচুর চালায়। এসময় হামলাকারীরা একাডেমীর শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে রাখলে পুলিশের উপস্থিতে এলাকার লোকজনের সহায়তায় তারা মুক্তি পায়। হামলাকারীরা তাওহীদ একাডেমীর দেয়ালে রাখা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিড়ে পদদলিত করে। এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম ফোকন এসএমপির মোগলাবাজার থানায় অভিযোগ দেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে ওসি খায়রুল ফজল তার মামলা নেন নি। মামলা নেয়ার জন্য তিনি এসএমপির ডিসি (দক্ষিণ) বাসুদেব বনিক-এর হস্তক্ষেপ চাইলে ওসি খায়রুল ফজল ‘থানায় এসি-ডিসির কোন বেইল নেই’ বলে তাকে তাড়িয়ে দেন। ঘটনাটি তিনি এসএমপি কমিশনার ও ব্যাব-৯ কেঅবহিত করেও কোন প্রতিকার পান নি। ভুমিখেকো জামায়াত-শিবির চক্রের সাথে আঁতাত করে ওসি খায়রুল ফজল নজরুলের বিচার প্রাপ্তির সব পথ রূদ্ধ করে দেন। এতে করে ভুমিদস্যুদের আস্ফালন আরো বেড়ে যায়। তারা গত ১২এপ্রিল ফের নজরুল ইসলামের উপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। এসময় তারা তার গাড়ি ভাংচুর , নাগদ ৩৫হাজার টাকা, গাড়ি ও স্কুলের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় । গুরুতর অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও এ ঘটনায় কোন মামলা নেয়নি মোগলাবাজার থানা পুলিশ। উপরন্ত ১৪এপ্রিল অমানবিকভাবে আহতাবস্থায় নজরুলকে আটক করে থানা পুলিশ । পরে ওসি খায়রুল নিজে জনৈকা নাজমীনকে দিয়ে মিথ্যে মামলা (নং-০৩(৪)১৬ ) করিয়ে তাকে জেলে প্রেরন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম ফোকন নিজেকে স্বাধীনতা স্বপক্ষের ও মেগলাবাজার থানার ওসি খায়রুল ফজলকে জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট দাবি করে জানান, মিথ্যে মামলায় গ্রেফতারের পর তার জেলবাস দীর্ঘায়িত করার হীন মানসে ওসি খায়রুল জামায়াত-শিবিরের সাথে আঁতাত করে ওয়ারেন্ট কেলেংকারীর মাধ্যমে তাকে আরেকটি মামলায় অহেতুক গ্রেফতার দেখান। তিনি জানান, ২০১১সালে তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। এসময় জামায়াত-শিবিরের সাথে কোতোয়ালী পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় সিলেট কোতায়ালী মডেল থানায় একটি পুলিশ এসল্ট মামলা (নং-১৫(০৯)১১) হয়। মামলায় জামায়াত-শিবিরের ৩০৫ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয় পুলিশ। এ চার্জশিটে ২৭৬ নং আসামী হচ্ছেন এসএমপির দক্ষিন সুরমা থানার পালপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম সিরাজের পুত্র জামায়াতকর্মী নজরুল ইসলাম কিরণ (৩০)। নামের সাথে আংশিক মিল থাকার সুযোগে ওমি খায়রুল পলাতক আসামী জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলাম কিরনকে গ্রেফতার না করে এর বদলে তাকে গ্রেফতার করেন। থানা গ্রাম ও নামে ভিন্নতা থাকা সত্বেও ওসি খায়রুল ওয়ারেন্ট জালিয়াতি ও কেলেংকারীর মাধ্যমে তাকে গেফতার করেন। পাশপাশি সুক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে পলাতক জামায়াতকর্মী নজরুল ইসলাম কিরণকেু এ মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে দেন। ওয়ারেন্ট জালিয়াতি ও কেলেংকারীর এ ঘটনার মধ্যদিয়ে মোগলাবাজার ওসি খায়রুল ফজলের জামায়াতপ্রীতির মূখোম উন্মোচিত হয়েছে বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে নজরুর ইসলাম ফোকন এহেন জালিযাতি কারচুপি ও কেলেংকারীর দায়ে ওসি খায়রুলের বিরুদ্ধে বিহীত ব্যবস্থা গ্রহনে সরকার ও প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম ফোকন-এর মা রোকিয়া বেগম, স্ত্রী বাবলী ইসলাম ও শিশুপুত্র তওহীদ ইসলাম।