সিলেটে করোনা সংকটে মানুষের পাশে দাড়ানোর প্রচেষ্ঠা অব্যাহত যাদের – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে করোনা সংকটে মানুষের পাশে দাড়ানোর প্রচেষ্ঠা অব্যাহত যাদের

প্রকাশিত: ১১:১৭ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০২০

সিলেটে করোনা সংকটে মানুষের পাশে দাড়ানোর প্রচেষ্ঠা অব্যাহত যাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহামারী করোনাভাইরাসের প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি ও উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে মানুষের পাশে দাড়ানোর প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছেন সিলেটের অনেক রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা। সমগ্র দেশের কিছু কিছু স্থানে ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাতসহ নানা অভিযোগ উঠেছে অনেকের বিরুদ্ধে। এমন সমালোচনার মধ্যেও সিলেটের রাজনৈতিক ব্যাক্তিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে ময়দানে করোনা মোকাবিলায় নিরলস ভাবে কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দেশের মানুষ এদের ভালবাসায় সিক্ত হয়েছেন। সিলেটের এমন আলোচিত জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের পাশে দাড়ানোর প্রচেষ্ঠা নিয়ে আমাদের প্রথম পর্বের প্রতিবেদন। ধারাবাহিকভাবে যারা পাশে দাড়ানোর প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছেন তাদের সকলের কথা তুলে ধরা হবে।
মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি: করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রথম থেকে নিজের নির্বাচনী এলাকায় (দক্ষিণ সুরমা-বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ) উপস্থিত থেকে এলাকার সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশায় পাশে ছিলেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি। তিনি বার বার এলাকার সাধারণ অসহায় মানুষের জন্য খাবার পাঠিয়েছেন এবং নিজ উদ্যোগে দুঃস্থদের তালিকা তৈরি করে নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন। শুধু দুঃস্থ নয়, মধ্যবিত্ত ও যারা অভাবগ্রস্ত তাদেরও সহযোগিতা করেছেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েছ এমপি। তিনি সব সময় এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন এই করোনার দুর্যোগময় মুহূর্তে। পাশে দাড়ানোর প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে এই সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্যের।
সরওয়ার হোসেন : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কানাডা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাবাজন হিসেবে পরিচিত সরওয়ার হোসেন গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন এই সংকটকালীন মুহুর্তে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ ঔষধ সামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন এই দুই উপজেলার মানুষের কাছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় এবং নিজে গাড়ির পেছনে করে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছেন উপজেলার মানুষের কাছে। বাসার সমনে খাদ্য সামগ্রী রেখে ফোন করে বলছেন আপনার বাসার সামনে আপনার প্রয়োজন সকল জিনিস পত্র রেখে এসেছি। প্রতিনিয়ত বিয়ানীবাজারে নিজ বাড়িতে থেকে মানুষের কষ্ট নিবারনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন এই নেতা।

শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, ভাইরাস মোকাবিলায় তিনি সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ত্রাণ সামগ্রী জনগণের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। বিশেষ করে অসহায় গরীব মানুষের নিকট নিয়মিত খোঁজ খবর নিয়ে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে তিনি জনবন্ধু হিসেবে আলোচিত হয়েছেন। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে নিজে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হোম কোয়ারান্টামে রয়েছেন।
এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান : সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান এই সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে সিলেটের নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে খাদ্য সহায়তা প্রদান করে আসছেন। নাসির খান পর্যায়ক্রমে খাদ্য, সবজি ও ইফতার সামগ্রী নিয়ে বিভিন্ন ভাবে মানুষের পাশে দাড়ানোর চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন। নাসির উদ্দিন খানের পাশে দাড়ানোর প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে।
বদর উদ্দিন আহমদ কামরান : সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, নগরবাসীর দুঃখ কষ্টকে নিজের মাথায় তুলে নিয়ে, নগরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে খাদ্য সহায়তা নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটেছেন। যা দেখে তার শত্রুরাও অবাক হয়েছেন। জীবনের মায়া ত্যাগ করে মহামারী করোনা ঝুঁকি তোয়াক্কা না করে নগরবাসীর খেদমতে মাঠে ময়দানে আছেন। খাদ্য ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন। নিজে সব সময় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ মানুষের পাশে। জীবনের মায়া ত্যাগ করে করোনা দুর্যোগে সিলেট নগরীতে চষে বেড়িয়েছেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।
আসাদ উদ্দীন আহমদ : সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট চেম্বারের সাবেক প্রশাসক আসাদ উদ্দীন আহমদ। মহামারী করোনা সংকটের সময় উপস্থিত থেকে জনগণের আস্থা অর্জন ও ত্রাণ সহায়তা দিয়ে অন্য আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছেন। ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখে তিনি মানুষের দুঃখ দুর্দশায় কাছে আছেন।
কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ : সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও সিসিক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ করোনা মোকাবিলায় নিজ ২০নং ওয়ার্ডে জনগণের বন্ধু হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছেন। বৈশ্বিক মহামারী করোনা সংকটের মুহূর্তে তিনি জনগণের অভাব অনটন, দুঃখ দুর্দশা লাঘবের জন্য জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার নিজ ওয়ার্ডে হতদরিদ্র মানুষ যেন ত্রাণ সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করার জন্য সব সময় এলাকায় ছিলেন। চিকিৎসা সেবাসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে নিজে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ড. শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসোলিউশনে রয়েছেন।
মস্তাক আহমদ পলাশ : করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রথম থেকে কানাইঘাটসহ বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশায় পাশে ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, শ্রীহট্ট মিডিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা সাতঁবাঘ ইউনিয়ন পরিষদের বার বার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান মস্তাক আহমদ পলাশ। তিনি বার বার এলাকার সাধারণ অসহায় মানুষের জন্য খাবার পাঠিয়েছেন এবং নিজ উদ্যোগে দুঃস্থদের তালিকা তৈরি করে নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন। শুধু দুঃস্থ নয়, মধ্যবিত্ত ও যারা অভাবগ্রস্ত তাদেরও সহযোগিতা করেছেন মস্তাক আহমদ পলাশ। তিনি সব সময় এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন এই করোনার দুর্যোগময় মুহূর্তে এছাড়া প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশেও নগদ অর্থসহায়তা পৌছে দিচ্ছেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। মস্তাক আহমদ পলাশ শহরে বসবাসরত অনেক প্রবীণ সাংবাদিক রয়েছে যারা কারো কাছে সহযোগিতা চাইতে পারছেন না। তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন। শুরু থেকেই করোনা মোকাবিলায় কানাইঘাটবাসীর কাছে ছিলেন এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি কানাইঘাটের মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিন ও খাদেমের জন্য খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ উপহার দিয়েছেন। তার এই প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে।
এডভোকেট আফসর আহমদ : সিলেট সদর উপজেলার ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা যুবলীগ নেতা এডভোকেট আফসর আহমদ মহামারী করোনা মোকাবিলায় তার ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নে অসহায় জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষের নিকট খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। ফোন কলের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের নিকট খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। নিজ এলাকায় ভ্যানগাড়িতে ফ্রি শাকসবজি বিরতণ করেছেন।
আলম খান মুক্তি : সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আলম খান মুক্তি। করোনা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে কখন খাদ্য সামগ্রী, আবার ইফতার, ঈদ উপহার, সবজী নিয়ে নগরবাসীর পাশে দাড়িয়েছেন আলম খান মুক্তি। নগরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে খাদ্য সহায়তা নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটেছেন। জীবনের মায়া ত্যাগ করে মহামারী করোনা ঝুঁকি তোয়াক্কা না করে নগরবাসীর খেদমতে মাঠে ময়দানে আছেন। খাদ্য ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন। করোনা প্রকোপ সহায়তা চাইতে না পারা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের নিকট ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।
ইমদাদ হোসেন চৌধুরী : সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী করোনার শুরু থেকে নিজ উদ্যোগে মানুষের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। বৈশ্বিক মহামারী করোনা সংকটের মুহূর্তে তিনি জনগণের অভাব অনটন, দুঃখ দুর্দশা লাঘবের জন্য জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ২৭টি ওয়ার্ডের দলীয় নেতাকর্মী ও হতদরিদ্র মানুষদের ত্রাণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া নির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মী, গুম নেতা, প্রতিবন্ধী, শ্রমিক ও হকার্সদের বিভিন্ন ভাবে সহায়তা করে যাচ্ছেন।

ডিএম ফয়সল : সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা আওয়ামীলীগ এর কোষাধ্যক্ষ, দুই বারের সেরা করদাতা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ডিএম ফয়সল করোনা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েছ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নিদের্শে অব্যাহত ভাবে নিজ এলাকা ফেঞ্চুগঞ্জসহ বিভিন্ন মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও সমাজের অসহায় হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ প্রদান করে আসছেন। এই ধারাবাহিকতায় শনিবার পরিবারিক ভাবে গঠন করা তোতা মিয়া ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে গরিব অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করেন।

হুমায়ন আহমদ মাসুক : সিলেট নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন আহমদ মাসুক নগরীর ৫ নং ওয়ার্ডের মানুষের পাশে দাড়ানোর প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছেন। এই ওয়ার্ডের মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও সমাজের অসহায় হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ প্রদান করে আসছেন। প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন মানুষের পাশে দাড়িয়ে কষ্ট নিবারনের।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •