সিলেটে কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস নেই – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস নেই

প্রকাশিত: ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

সিলেটে কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস নেই

* অচিরেই দলীয় কার্যক্রমের জন্য কার্যালয় : আওয়ামী লীগ
* নিরাপত্তাহীনতার কারণে কার্যালয় নেই : বিএনপি

লতিফ নুতন/ নুরুল ইসলাম
সিলেটে জাতীয় পার্টি ব্যতীত কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস নেই। সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে নেতাদের বাসা, মার্কেট, ক্লিনিক আর নেতাদের কমিউনিউটি সেন্টারে। প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কার্যক্রম চলছে নেতাদের বাসা থেকে নেতা পূজা মাধ্যম বাসা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সুবহানীঘাট ইব্রাহিম স্মৃতি সংসদ অফিস থাকলেও বছরের বছরের পর বছর কেউ অফিস খুলে না। হঠাৎ মাঝে মধ্যে অঙ্গ সংগঠন সভা করে। বিএনপি একবার দরগা গেইট এলাকায় অফিস করলেও তা এখন নেই। জামায়াতের অফিস কুদরত উল্লাহ মার্কেটে থাকলেও বর্তমানে সেখানে কোনো কার্যক্রম নেই। চলছে নগরীর ইবনে সিনা হাসপাতাল ও সুরমা টাওয়ারে। জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক অফিস রয়েছে নগরীর সুরমা মার্কেটে। তবে সেখানে লোক সমাগম নেই। বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকে।
রাজনৈতিক দলের অফিস না থাকায় আওয়ামী লীগ অঙ্গ সংগঠনের কার্যক্রম চলে নেতা পূজার মাধ্যমে। যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম চলে নেতাদের বাসা বাড়ী থেকে পরিচালিত হয়। আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সাংগঠনিক কাজে কেউ প্রয়োজন হলে ছাড়ারপারে সাবেক মেয়র, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন কামরান, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, ও জেলা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমানের জেলা পরিষদে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে মোমেন ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছে যেতে হয় হাফিজ কমপ্লেক্সে। ছাত্রলীগ সিলেটে নানা গ্রুপে বিভক্ত। সাধারণত যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ব্যাকেট বন্দী। ব্যাকেট বন্দী গ্রুপ গুলোর মধ্যে টিলাগড় গ্রুপ, তালতলা গ্রুপ, কাশমীর গ্রুপ, তেলীহাওর গ্রুপে নামে চলছে। এই গ্রুপ গুলো এলাকাকেন্দ্রিক বসে আড্ডা দিয়ে গ্রুপ রাজনীতি করছেন।
একই অবস্থা বিএনপি রাজনীতিতে। বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের কার্যক্রম চলছে নেতাদের বাসা কেন্দ্রীক। সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপি সভাপতি নাসিম হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইউম পংকি, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, জেলা আহবায়ক কামরুল হুদা জায়গিরদাদের বাসায় সাংগঠনিক কাজে যেতে হয়। সিলেটে ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিকদল, কৃষকদল, মহিলা দল রাজনৈতিক অস্থিত সংকটে। সম্প্রতি যুবদলের জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষণা হওয়ায় যুবদল নেতা-কর্মীরা উৎফুল্ল।
রাজনীতিতে জামায়াত হওয়া হলেও মূলত তাদের রাজনীতি পরিচালিত হয় নগরীর কুদরত উল্লাহ মার্কেট হতে। বর্তমানে তাদের প্রকাশ্য কোনো কার্যক্রম চোখে দেখার মত নেই। কিন্তুু তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে মূলত নগরীর সুবহানীঘাট ইবনেসিনা হাসপাতাল ও সুরমা টাওয়ার হতে। দক্ষিন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান ইবনেসিনা হাসপাতালে পরিচালক হওয়ায় সেখান থেকে তিনি জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের দেখভাল করছেন। এছাড়া নগরীর সুরমা টাওয়ার পরিচালক জামায়াত নেতা মামুন আহমদ বর্তমান সরকারের আমলে রাজনীতি থেকে নিরব ভূমিকা রাখলেও তিনি জামায়াত শিবিরকে আর্থিক সহ নানা ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
সিলেটে বাম রাজনীতি চলছে নিরবে নিরবে। তাদের নেই তেমন কোনো কর্মসূচি। তাদের মধ্যে জাসদ, বাসদ, ওয়ার্সকার্স পার্টি রয়েছে। তাদের নেই কোনো রাজনৈতিক কার্যালয়। দ্বিধাবিভক্ত জাসদের মধ্যে লোকমান আহমদ ও জাকির আহমদের নেতৃত্বে আলাদা আলাদাভাবে জাসদ রাজনীতি পরিচালনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সিলেটের রাজনীতিতে বর্তমান আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সরব। আগামী ৫ ডিসেম্বর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী পদ প্রত্যাশায় নেতাদের কাছে বাসা বাড়ীতে গিয়ে ধর্না দিচ্ছেন। আবার জেলা বিএনপি’র নতুন কমিটি হওয়ায় আহবায়ক কামরুল হুদা জায়গিরদারের বাসায় অস্থায়ী ভাবে কার্যক্রম চলছে।
এই বিষয়ে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী বলেন, আগামী সম্মেলনের পরপরই জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় করা হবে। তিনি বলেন, আমরা আশাকরি অচিরেই জেলা আওয়ামী লীগ দলীয় সকল কার্যক্রম তাদের নিজস্ব কার্যালয় থেকে পরিচালনা করবে।
মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট শামসুল ইসলামের মুঠোফোনে বারবার ফোন দেওয়ার হলে তিনি রিসিভ করেন নি।
জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট ফখরুল হক বলেন, দেশে রাজনৈতিক সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় আমরা দলীয় কার্যালয় করতে পারছি না। সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরলে দলীয় কার্যালয় করব।
মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক রেজাউল করিম আলো বলেন, কার্যালয় ছাড়া আমরা আমাদের নিরাপদ মনে করছি। কারণ কার্যালয় করলে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী আমাদের হয়রানী করবে। তাই আমরা যে স্থানে নিরাপদ মনে করছি সে স্থানে আপাতত রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আমাদের পরিকল্পনা আছে কার্যালয়ের।