সিলেটে গুলশান সেন্টারে হামলার একযুগ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে গুলশান সেন্টারে হামলার একযুগ

প্রকাশিত: ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০১৬

সিলেটে গুলশান সেন্টারে হামলার একযুগ

goltion sylhet‘মিটিং শেষ করে গল্প করছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ। চারদিকে আহতদের আর্তনাদ। আমি নিজেও আহত। তাই কী করব না করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। তবু আহত আরেকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করছিলাম। সে এক ভয়ার্ত পরিবেশ! কী করে যে বেঁচে গেলাম!’
সিলেটে গুলশান সেন্টারে গ্রেনেড হামলার ১২ বছর সামনে রেখে কথাগুলো বলছিলেন সিলেটের সরকারি কৌঁসুলি মিসবাহউদ্দিন সিরাজ। তিনি তখন সিলেট নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
কাল রোববার ৭ আগস্ট ওই হামলার ১২ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০০৪ সালের এই দিনে গুলশান সেন্টারে চলছিল সিলেট নগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভা। সন্ধ্যার পর ওই সভা শেষে সেখানে অতর্কিত গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে নগর আ.লীগের প্রচার সম্পাদক ইব্রাহিম আলী নিহত হন। আহত হন নগর কমিটির বিভিন্ন পদে থাকা ২১ নেতা। তাঁদের সবার শরীরে এখনো স্প্লিন্টারের ক্ষতচিহ্ন।
আজ শনিবার আয়োজন করা হয়েছে হামলায় আহত ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক মতবিনিময় সভার। বেলা ১১টায় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভায় আহত ব্যক্তিরা ঘটনার বর্ণনা দেবেন। সভায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রতিবাদ জানানো হবে।
পেশাগত কারণে গুলশান সেন্টারে গ্রেনেড হামলার মামলা নিজেই তদারক করছেন সরকারি কৌঁসুলি মিসবাহউদ্দিন সিরাজ। নিজের টেবিলে রাখা মামলা-সংক্রান্ত নথিপত্র দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘সিলেটের এই জঙ্গি হামলা গুলশানের গ্রেনেড হামলা হিসেবে পরিচিত। গত ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে ঘটল আরেক ভয়ংকর জঙ্গি হামলা। যদি সিলেটের গুলশানে হামলাকারীদের যথাসময়ে শনাক্ত করা হতো, তাহলে ঢাকায় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটত না। কেননা, গুলশান সেন্টারের হামলাকারীরাই ২১ আগস্টের হামলায় অংশ নিয়েছিল। এখন আমাদের দেখতে হতো না গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর জঙ্গি হামলাও।’
সিলেটের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরে সংরক্ষিত মামলার নথি থেকে জানা যায়, ঘটনার পর ২০০৪ সালের ৮ আগস্ট সিলেট কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এনামুল হক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন। এই হামলা নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি-বি) জঙ্গিরা করেছে বলে আদালতে তারা স্বীকারোক্তি দেয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ২০০৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। এতে মুফতি আবদুল হান্নান ও শরিফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুলসহ আট জঙ্গিকে অভিযুক্ত করা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই হামলায় আহত আ.লীগ নেতা মিসবাহউদ্দিন সিলেটের সরকারি কৌঁসুলি নিযুক্ত হন। আদালতে মামলা পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে তিনি ২০১০ সালের ২ আগস্ট ঘটনার পুনঃ তদন্তের আবেদন করেন। গ্রেনেড হামলার মদদদাতা ও গ্রেনেডের উৎস বের করতে ওই আবেদনের পর অধিকতর তদন্ত শেষে সিআইডি সিলেট অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার রওনকুল হক চৌধুরী প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে নতুন করে অভিযুক্ত করা হয় আরও দুজনকে। তারা হলো তাজ উদ্দিন ও ‘কাশ্মীরি জঙ্গি’ আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট।
সিলেটের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি শামসুল ইসলাম বলেন, মহানগর দায়রা জজ আদালতে দুটি মামলার মধ্যে বিস্ফোরক মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। আর হত্যা মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
বিচার বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে শামসুল ইসলাম বলেন, মামলার সব আসামি দেশে অন্যান্য জঙ্গি হামলার মামলার আসামি। একই দিন একাধিক আদালতে মামলার তারিখ থাকায় বিচার-প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হলেও প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত ও বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল