সিলেটে গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘর উপহার দিল সেনাবাহিনী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘর উপহার দিল সেনাবাহিনী

প্রকাশিত: ৯:২৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২০

সিলেটে গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘর উপহার দিল সেনাবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাত্তরে রণাঙ্গনের অকুতোভয় সৈনিক ময়না মিয়া। মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে অস্ত্র হাতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

দেশ স্বাধীনের ৪৯ বছরে অনেকের ভাগ্য বদল হলেও বদলায়নি ময়না মিয়াদের ভাগ্য। নিজের জীবন বাজি রেখে দেশ উপহার দিলেও এতোদিন গৃহহীন থেকেছেন ময়না মিয়া।

ভাগ্যবিড়ম্বিত হলেও কেউ খোঁজ নেয়নি তার। অবশেষে গৃহহীন ময়না মিয়াকে ঘর উপহার দিল সেনাবাহিনী।

সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার লালা বাজার পোস্ট অফিসের অন্তর্গত টেংরা চানপুর গ্রামের দুস্থ গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধা ময়না মিয়ার জন্য বসত ঘর তৈরি করে দিয়েছে সেনাবাহিনী।

সেনা প্রধানের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে তৈরিকৃত ঘরের চাবি রোববার (০৫ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে ময়না মিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সিলেটে সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের পৃষ্ঠপোষকতায়, ৫২ পদাতিক ব্রিগেডের ব্যবস্থাপনায় সিলেটের দায়িত্ব প্রাপ্ত সেনা ইউনিট ৩৪ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক (অব.) ময়না মিয়ার হাতে নতুন ঘরের দলিলপত্র ও চাবি হস্তাস্তর করা হয়েছে।

এদিকে, নতুন ঘর পেয়ে ময়না মিয়ার পরিবারে খুশির অন্ত নেই।

নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ময়না মিয়া বলেন, একটি ঘর বড়ই প্রয়োজন ছিল। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুব কষ্টে জীবনযাপন করছিলাম। কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি শেষ বয়সে এতটা ভালোভাবে কাটাতে পারব। আমাদের কাছে ঘরটি মহামূল্যবান। যতদিন বেঁচে থাকব, পরম মমতায় ঘরটিকে আগলে রাখব।

এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর ৩৪ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের (রিয়ার) অধিনায়ক মেজর মো. কামরুল হাসান বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের ঋণ কখনও পরিশোধ করা যাবে না। আর এ ঘরগুলো তাদের ঋন পরিশোধের জন্য দেওয়া হচ্ছে না। তারা যাতে পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকতে পারেন, এ জন্যই এটি সেনা প্রধানের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র উপহার মাত্র।

তিনি বলেন, আমরা যদি আমাদের ইতিহাসকে সম্মান করতে না জানি, তাহলে কখনওই আমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ হবে না। তাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে হবে। তাদের আমাদের অন্তরে ধারণ করতে হবে।

ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল