সিলেটে টানা অভিযানেও আটকানো যাচ্ছে না ভারতীয় চোরাইপণ্য! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে টানা অভিযানেও আটকানো যাচ্ছে না ভারতীয় চোরাইপণ্য!

প্রকাশিত: ৬:২২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২০

সিলেটে টানা অভিযানেও আটকানো যাচ্ছে না ভারতীয় চোরাইপণ্য!

গোয়াইনঘাটে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক :: পার্শ্ববর্তী দেশের সীমান্তঘেষা জনপদ সিলেট। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই জেলার দুই দিকেই ভারত সীমান্ত। এই সীমান্ত এলাকা ঘিরে সক্রিয় একাধিক চোরকারবারিচক্র। সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিনিয়তই ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসে চক্রগুলো, ছড়িয়ে দেয় সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, চোরকারিদের বিরুদ্ধে জোরালো নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চোরাকারবারিদের অপতৎপরতা ও চোরাই পণ্য আটকাতে প্রায় প্রতিদিনই র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ বাহিনীর অভিযানে চোরকারবারি ও ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা পণ্য ধরা পড়ে। কিন্তু তবু আটকানো যাচ্ছে না চোরাই পণ্য, থামানো যাচ্ছে না চোরাকারবারিদের তৎপরতা। গতকালও সিলেটের গোয়াইনঘাটে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য জব্দ ও এক চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৯ এর একটি দল সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার গুচ্ছগ্রামে অভিযান চালিয়ে শরীফ মিয়া (২৫) নামের এক চোরাকারবারিকে আটক করে। শরীফ গুচ্ছগ্রামের চেরাগ আলীর ছেলে।

গ্রেফতারকালে তার কাছ থেকে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১ শ ৫০ টাকার টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করে র‌্যাব। পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় হরলিক্স, স্কিন ক্রিম, ও চকলেট ইত্যাদি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ ভারতীয় পণ্য অবৈধভাবে দেশে নিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছে বলে র‌্যাব জানায়।

উদ্ধারকৃত মালামালসহ গ্রেফতার শরীফকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শরীরেফর মতো অনেক চোরাকারবারি সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে পণ্য নিয়ে আসে বাংলাদেশে। এসব পণ্যের মধ্যে আছে কাপড়, কসমেটিকস, বিড়ি, সিগারেট, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক, চা পাতা প্রভৃতি।

এছাড়া গরু, মহিষ এবং মোবাইল ফোনের চালানও সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনা হয়। এমনকি কিছুদিন আগে অত্যাধুনিক রিভলবারের একাধিক চালান সিলেটের গোয়াইনঘাটের পূর্ব বিছনাকান্দি সীমান্ত দিয়ে দেশে আনার ঘটনাও ঘটেছে। ওই ঘটনায় গোয়াইনঘাটের চোরকারবারি আরব আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের চোরাকারবারিচক্রের সাথে বাংলাদেশের চোরাকারবারিদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে কেউ কেউ চোরকারবারের সাথে জড়িত। সীমান্ত এলাকার এসব চোরাকারবারিদের কারণেই চোরাকারবার থামানো কঠিন হয়ে ওঠছে। কারণ- এসব চোরকারবারি রাতের আঁধারে চোরাই পণ্য ভারত থেকে এনে লুকিয়ে রাখে। পরে সুবিধামতো সময়ে এসব পণ্য সিলেট শহরে পাঠানো হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীলরা বলছেন, চোরকারবারিদের বিষয়ে তাদের কড়া নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফলে প্রায় সময়ই অভিযানে চোরাকারবারিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, জব্দ করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকার চোরাই পণ্য।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল