সিলেটে টিলা কেটে জলাভূমি ভরাট: চার ভূমিমালিকের বিরুদ্ধে মামলা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে টিলা কেটে জলাভূমি ভরাট: চার ভূমিমালিকের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৬

সিলেটে টিলা কেটে জলাভূমি ভরাট: চার ভূমিমালিকের বিরুদ্ধে মামলা

talacata২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬, বুধবার: সিলেটের বিমানবন্দর থানার বাইশটিলা এলাকায় টিলা কেটে জলাভূমি ভরাট করার ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তর চারজন ভূমিমালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিমানবন্দর থানায় অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলায় ভূমিমালিক সালাম মশরুর, সিরাজুল ইসলাম, শাফিকুর রহমান ও সেবুল আহমদের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন মামলা নথিভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাইশটিলা এলাকায় টিলা কেটে ৩৬০ শতক জলাভূমি ভরাট করার ঘটনায় শনিবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম নুরুল হুদার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক অভিযান চালিয়ে সাতটি খননযন্ত্র জব্দ করে পুরো এলাকা সিলগালা করেন। পরে এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত দুই দিন তদন্ত করে ওই মামলা করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মামলায় পরিবেশগত ক্ষতির পাশাপাশি বিশাল টিলাভূমি কেটে মাটি নিচু ভূমিতে ফেলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবেশগত ক্ষতির দায় পুরোটা ভূমিমালিকদের বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পৃথক মামলা: টিলা কাটায় ব্যবহৃত জব্দকৃত খননযন্ত্র নিয়ে যাওয়ায় সিলেটের এক্সকাভেটর ব্যবসায়ী মিজান আজিজ চৌধুরীকে আসামি করে পৃথক মামলা হয়েছে। জব্দ করা খননযন্ত্র হেফাজতে রাখা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আবদুল করিম সোমবার রাতে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন। মামলাটি রাতেই নথিভুক্ত করে তদন্তের জন্য একজন উপপরিদর্শক নিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি মো. মোশাররফ হোসেন।
টিলা কেটে জলাভূমি ভরাট করার সময় শনিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত সাতটি খননযন্ত্র জব্দ করেছিলেন। ব্যয়বহুল এসব যন্ত্র জব্দ করে নির্বাহী হাকিম খননযন্ত্রগুলো প্রকাশ্য নিলাম ডাকের মাধ্যমে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা পুলিশকে দিয়েছিলেন।
এ অবস্থায় অভিযান শেষ হওয়ার পর ওই দিন সন্ধ্যায় সাতটি যন্ত্রের মধ্যে তিনটি খননযন্ত্রের মালিক দাবি করে এগুলো ভাড়ায় দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে জোর করে নিয়ে যান মিজান আজিজ চৌধুরী। জব্দ খননযন্ত্রের জিম্মাদার আবদুল করিম বলেন, জোর করে খননযন্ত্রগুলো মিজান নিয়ে গেলে তাৎক্ষণিক বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানান। পরে লিখিতভাবে নির্বাহী হাকিমকে জানানোর পর মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া হলে সোমবার রাতে মামলা করেন। ওসি বলেন, মামলা করার পরপরই বাকি খননযন্ত্রগুলো পুলিশের নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি খননযন্ত্রগুলোর মালিক দাবিদার কোথায় রেখেছেন সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল