সিলেটে পলিথিন আলী ফের সক্রিয় – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে পলিথিন আলী ফের সক্রিয়

প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০১৬

সিলেটে পলিথিন আলী ফের সক্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেটে চোরাকারবারি পলিথিন আলী আবারও লালদিঘীরপাড়ে পলিথিন ব্যবসা, ভেজাল জর্দা উৎপাদন ও লুটপাটে সক্রিয় হয়েছে। কিছুদিন আগেও ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে। সেই মামলায় দীর্ঘ কারাবাসের পর বের হয়েই আবার সে লালদিঘীরপারে সেই চোরাকারবারি চক্র গড়ে তুলেছে। এই চক্রের মাধ্যমে কালিঘাট এলাকার দোকানেও লুটপাট শুরু করেছে। কালিঘাটে ব্যবসায়ীর উপর হামলা করে স্বর্ণ ও ক্যাশবাক্সের টাকা লুটের ঘটনায় পলিথিন ব্যবসায়ী আলী হোসে+ন সরকার ওরফে পলিথিন আলীসহ দুইজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। শনিবার কোতোয়ালী থানায় ব্যবসায়ী আলমগীর বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামীরা হলেন, ছড়ারপারের সাহেদ আহমদ ও পলিথিন ব্যবসায়ী লালদিঘীরপাড় নতুন মার্কেটের সোনালী ট্রেডার্সের আলী হোসেন সরকার ওরফে পলিথিন আলী।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামীরা গত ৮ মে কালিঘাটস্থ খান ম্যানশনের নীচতলায় আবির স্টোরে হামলা করে মারপিট করে নগদ ৬৫ হাজার টাকা ও ২ ভরি স্বর্ণ নিয়ে যায়।
এর আগে ১৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কালাম আহমদ গত ২৩ এপ্রিল পলিথিন ব্যবসায়ী আলী হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে মহানগর পুলিশ কমিশনারের নিকট লিখিত অভিযোগ দেন। এতে আলী হোসেনের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে কালাম আহমদ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।
কোতোয়ালী থানার ওসি সোহেল আহমদ বলেন, আসামীদের গ্রেফতারের জন্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভূয়া সাংবাদিক আলী::
ভ্যান চালক ছিল আলী সরকার। সিলেটের বাজারে লাখ লাখ টাকার অবৈধ পলিথিন আমাদানি করে , ভেজাল পণ্যের কারখানা করে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছে। তার বিরুদ্ধে আছে বেশকটি মামলা। সম্প্রতি ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে। জেল খেটে বের হয়েই আবার নামে পলিথিন ব্যবসায়। র‌্যাব সিলেটের বন্দরবাজার এলাকা থেকে ১৬ লাখ টাকার পলিথিনবোঝাই ট্রাক আটক করেছিল। এই পলিথিনের চালান আলী সরকারই সিলেটে প্রবেশ করিয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে র‌্যাব-পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটে আলী সরকার দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবসা করে আসছে। লালদিঘীরপারে তার একটি জর্দার দোকান রয়েছে। এই দোকানের আড়ালে সে পলিথিন ও ভেজাল জর্দার ব্যবসা করছে। পোল্ট্রি মুরগীর প্লাস্টিক বস্তায় ভরে আলী সরকার সিলেটের দোকানগুলোতে পলিথিন সরবরাহ করে। প্রতিদিন পলিথিন থেকে তার আয় হচ্ছে লাখ টাকা। একপর্যায়ে সে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের কালাম কমিউনিটি সেন্টারে জর্দার কারখানা গড়ে তুলে। গত ১৩ জুলাই রোববার ডিবি পুলিশ তার ওই কারখানায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ নকল জর্দা ও ভেজাল পণ্যসহ তাকে আটক করে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ দুমাস সে কারাভোগ করে বের হয়েই আবারও পলিথিনের চালান আমাদানিতে নেমেছে।
সূত্র জানায়, গত ৪ অক্টোবর ভোরে র‌্যাব-৯ বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৬ লাখ টাকার পলিথিন বোঝাই ট্রাক আটক করে। এ ঘটনায় র‌্যাব বাদি হয়ে সিলেট কতোয়ালি থানায় মামলা করেছে। এই ট্রাকের পলিথিন আলী সরকারই সিলেটে এনেছিল বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
ডিবি পুলিশের সূত্র জানায়, আলীর ব্যাপারে একটি প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছে। সে এক সময় ভ্যান চালাতো। হকার্স মার্কেটে সোনালী স্টোর নামে তার ছোট্ট একটি দোকান আছে। এই দোকান নামে মাত্র। মূলত এখান থেকেই সিলেটের বাজারে আলী পলিথিন ও ভেজাল পণ্য ছড়ায়। তার একসময় কিছুই ছিল না। সিলেটের কুশিঘাটে এখন বাড়ি করেছে, ৪ টি ভ্যান, ৩ টি অটোরিকশা ও একটি প্রাইভেটকার আছে। তার ওপরে ডিবি পুলিশের নজরদারি আছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআাই শাহ মো. মোবাশ্বির আলী বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। ওই ট্রাকের নাম্বার মিলিয়ে মালিক শনাক্ত করেছি। মালিকের দেওয়া তথ্যমতে সিলেটের একটি বড় পলিথিনচক্র ট্রাকটির পলিথিনের সঙ্গে জড়িত। তথ্যগুলো আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সূত্র: http://www.newsaction24.com/?p=10082

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল