সিলেটে পানের দাম আকাশচুম্বি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে পানের দাম আকাশচুম্বি

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০১৮

সিলেটে পানের দাম আকাশচুম্বি

মো.নাঈমুল ইসলাম (প্রতিবেদক): যে কোন অনুষ্টানে পান ছাড়া অতিথি আপ্যায়ন পরিপূর্ণতা পায়না। ঝাল আর মিষ্ঠির মিশ্রণের কারণে দেশজুড়ে জাফলং, শ্রীমঙ্গল ও বরিশালীয় পান। তবে আমাদের সমাজে বেশী সমাদৃত বরিশালের পান। গত দুই মাস ধরে পানের পাইকারী আড়ৎ গুলোতে সর্ব কালের রেকর্ডমূল্যে পান বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে একটি পানই ক্রেতারা কিনে খাচ্ছেন পাচঁ থেকে শুরু দশ টাকা।

পানের মধ্যে এখন কোয়ালিটিও বাছাই করে পান ক্রয় করা যায়। স্থানীয় “কিল্লি পান” নামে বেশী সমাদৃত পায় আমাদের সমাজে। তাছাড়াও পানের দোকান পান কিনতে গেলে পানের দোকানদাররা বলেন মামা কয় টাকার পান দিবো পাচঁ টাকা না সাত টাকা না দশ টাকা।

পাইকারী পান বিক্রেতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার কারণে পানের ফলনে এবছর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে চাহিদানুযায়ী বাজারে পানের যোগান কম থাকায় পানের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একারণেই পানের দাম বাড়তি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

পাইকারী ও খুচরা পান বিক্রেতারা জানান, আগামী এপ্রিল মাসের আগে পানের দাম নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। পান মোকামের পাইকারী পান ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ভালমানের পানের প্রতি গাদি বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৮ হাজার টাকা যা আগে ছিল ২২হাজার টাকা। মাঝারী মানের প্রতি গাদি বিক্রি হচ্ছে ২৪ হাজার টাকায় যা আগে ছিল ১৩ হাজার টাকা ও ছোট পানের প্রতি গাদি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকা যা আগে ছিল মাত্র ১৬শ’টাকা। পান বিক্রেতাদের হিসাব অনুযায়ী প্রতি ৮০ পিস পানে এক বিড়া আর প্রতি ৮০ বিড়ায় এক গাদি পান হয়।

নগরীসহ জেলার দশটি উপজেলার উল্লেখযোগ্য পান মোকামের সবশেষ খুচরা বিক্রির তথ্য অনুযায়ী, ভালমানের পানের প্রতিবিড়া বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা যা আগে ছিল ১২৫ থেকে ১৫০টাকা। মাঝারি মানের প্রতিবিড়া পান বিক্রি হচ্ছে ২০০টাকা যা আগে ছিল ১৪০ টাকা ও ছোট আকারের পানের প্রতি বিড়া বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা যা আগে ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা করে।

ব্যবসায়ীরা জানান, শৈত্যপ্রবাহ ও প্রচন্ড কুয়াশার কারণে বরিশাল সদর, আগৈলঝাড়া, গৌরনদী, উজিরপুর, বাবুগঞ্জ, মুলাদী, বানারীপাড়া, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ উপজেলায় পান চাষের প্রায় অর্ধেক ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে। এরই মধ্যে যেসব চাষী বিভিন্নভাবে কিছু পান বাঁচাতে পেরেছেন সেসব পান এখন বাজারে আসছে। এই পান চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে বাজারে পানের দাম আকাশচুম্বি।

বিশেষ সূত্রে আরও জানা গেছে, ফলন নষ্ট হওয়ায় আগের তুলনায় পানের আমদানি অনেক কম হচ্ছে। এ অবস্থা আরও দেড় মাস চলবে। এপ্রিলের ১৫ তারিখ নাগাদ নতুন পান বাজারে আসবে তখন থেকে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

নগরীর জিন্দাবাজার মেইন রোডের খুচরা পান বিক্রেতা বলেন, মান অনুযায়ী পানের দাম বিড়া প্রতি ১৫০ থেকে ২০০টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতো দামে পান আগে কখনো বিক্রি করিনি। নগরীর বন্দর বাজারের একজন খুচরা পান বিক্রেতা জানান বাজারে পানের দাম বাড়লেও কাস্টমার অনেক সময় বাড়তি টাকা দিতে চায়না। চার টাকায় কেনা ১ পিস পান সুপারি, জর্দ্দা, চুন দিয়ে পাঁচ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই একমাস ধরে তিনি পান বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন।

পানের আড়ৎ পাইকাররা জানান নিয়মানুযায়ী নতুন করে পাতা উৎপাদন না হওয়ায় মাঘ মাস থেকে পানের যোগান কমে গেছে। অল্পদিনের মধ্যেই বাজারের অবস্থা স্বাভাবিক হবে। সর্বকালের সবচেয়ে বেশি দামে পান বিক্রি হওয়ার কথা উল্লেখ করে গৌরনদীর এলাহী পান আড়তের মালিক আলহাজ মো.নুরুজ্জামান ফরহাদ জানান, গেলো শীতে অতিরিক্ত কুয়াশার কারণে পান বরজের সব পান ঝড়ে গেছে। ফলে বর্তমানে পানের দাম আকাশচুম্বি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল