সিলেটে বহুল আলোচিত নজরুল ইসলাম হত্যা মামলার রায় : ৮ জনের যাবজ্জীবন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে বহুল আলোচিত নজরুল ইসলাম হত্যা মামলার রায় : ৮ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০

সিলেটে বহুল আলোচিত নজরুল ইসলাম হত্যা মামলার রায় : ৮ জনের যাবজ্জীবন

* মামলার অন্যতম ২ আসামী পলাতক
* ৩ জনকে বেখসুর খালাস

স্টাফ রিপোর্টার

সিলেটে বহুল আলোচিত নজরুল ইসলাম হত্যা মামলায় ৮ আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও প্রত্যেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছর কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালত।

নজরুল হত্যার জড়িত না থাকায় মামলায় অভিযুক্ত ৩জনকে বেখসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১২ ফেব্র“য়ারি) দুপুরে সিলেট মহানগর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক রেজাউল করিম এ রায় ঘোষনা করেন।

এ রায়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। তবে এ রায়কে প্রহসনের রায় উল্লেখ করে উচ্চ আদালতে আপীল করবেন বলে জানিয়েছেন আসামী পক্ষের আইনজীবীরা।

যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সিলেট জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুহেল আহমদ (৪২), সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নিজামুল হক (৩৬), ৬নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম (৪০), মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কে.আর রশিদ (৩২), জেলা ছাত্রদল নেতা জমির মিয়া (২৫), মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সদরুল ইসলাম লোকমান (২৭), ছাত্রদল নেতা ফরহাদ আহমদ (২৬) ও সিরাজুল হক (২৫)।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সিলেট জজ কোর্টের পিপি এডভোকেট নিজাম উদ্দিন জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত ৮ জনের মধ্যে সুহেল আহমদ ও নিজামুল হক পলাতক রয়েছেন। এছাড়াও মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বিএনপি নেতা রফিক উদ্দিন, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ইকবাল আহমদ ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শফিকুর রহমান।

জানা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কর্তৃক পূর্ব ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচী পালনের জন্য গত ২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারি মিছিল সহকারে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে যেতে চাইলে স্থানীয় আম্বরখানা পয়েন্টে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ কর্মীদের বাধার সম্মুখীন হয় মিছিলটি। নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তৃপক্ষীয় ব্যাপক সংঘর্ষ ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে অনেকে আহত হন। এ সময় নজরুল ইসলাম নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন। মৃত নজরুল ইসলামকে আওয়ামী লীগ তাদের কর্মী দাবী করে বর্তমান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ বাদী হয়ে বিএনপির ১১ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ওই দিন দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেন। বিচারকার্য শুরু হয়ে ২৬ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের স্বাক্ষ্যপ্রমাণের পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় প্রদান করা হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল