সিলেটে ভুয়া বরসহ দুই খালা আটক – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে ভুয়া বরসহ দুই খালা আটক

প্রকাশিত: ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ১, ২০১৬

সিলেটে ভুয়া বরসহ দুই খালা আটক

atoke rab9কিশোরীর সঙ্গে মামুনের বিয়ে ছিল নাটক। ভুয়া মাওলানার মাধ্যমে মামুন বিয়ে করে ওই কিশোরীকে। এরপর থেকে কিশোরীটি মামুনের সঙ্গে বসবাস করতে অনীহা প্রকাশ করে। নিজেকে রক্ষা করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। কিন্তু পারেনি। দুই খালার মাধ্যমে টানা দুই দিন ওই কিশোরীকে কলোনির ভেতরে ধর্ষণ করে মামুন। পরে বিষয়টি র‌্যাবের নজরে এলে তারা অভিযান চালিয়ে ভুয়া বর মামুন ও তার দুই খালাকে আটক করেছে। আর আটকের পর তারাও মেয়েটিকে টানা দুইদিন জোরপূর্বক ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। র‌্যাব-৯ এর সদস্যরা জানান, সোমবার  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরতলীর ইসলামপুর মেজরটিলা  এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানকালে বাজারের পার্শ্ববর্তী ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকীর মালিকানাধীন কলোনি  থেকে ভুয়া বরসহ তার দুই কথিত খালাকে আটক করে। তারা হচ্ছে, কিশোরগঞ্জ জেলার কালিয়াঝুরি থানার ধনপুর পাঁচহাই গ্রামের বর্তমানে মেজরটিলার মিস্তিক কলোনির বাসিন্দা জানু মিয়ার স্ত্রী মোসাম্মৎ নূরুন্নাহার (৩০) ও  নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার হালেঙ্গা পুতিগাঁও গ্রামের মাইনুদ্দিন মিয়ার স্ত্রী মোসাম্মৎ রহিমা বেগম (৫০)। উদ্ধারকৃত ভিকটিম কিশোরী কবিতা (ছদ্মনাম) জানায়, প্রায় ২ বছর আগে জীবিকার তাগিদে গৃহকর্মী হিসেবে সিলেটে কাজ করতে আসে সে। ইসলামপুরে এক বাসায় কাজ করার সময় তার সঙ্গে কথিত খালা নুরুন্নাহারের পরিচয় হয়। পরে তার সঙ্গেই কলোনিতে গত ৩-৪ মাস ধরে ভাড়া ঘরে বাস করছিল। সেখানে গ্রেপ্তারকৃত ভুয়া বর মামুন ভিকটিমকে  দেখতে পেয়ে রহিমা বেগম ও নুরুন্নাহারের সহযোগিতায় বিয়ের সাজানো নাটক করে। কোনো ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন না মেনে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে পারিবারিক প্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে জোরপূর্বক গত ২৮শে মে আসামি মামুনের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত একজন ভুয়া মৌলভী বর্তমানে পলাতক রয়েছে। ঘটনার পর দুইদিন ভুয়া বর মামুন ও ভিকটিমকে কথিত খালা নুরুন্নাহার ও রহিমা বেগম কলোনির একই ঘরে থাকতে বাধ্য করে। এ বিষয়ে আপত্তি জানালে ২৯শে মে রাতে আসামি মামুন তাকে  জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সংবাদ  পেয়ে র‌্যাবের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে এবং কথিত দুই খালাকে আটক করে। পরে পলাতক ভুয়া বর মামুনকেও আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদেরকে কিশোরীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাহপরাণ থানায় সোপর্দ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব্ব দেন  র‌্যাব-৯ সিপিসি-১, সিলেট ক্যাম্পের মেজর এসএএম ফখরুল ইসলাম খান।