সিলেটে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবার পরিচিত মুখ বদরুজ্জামান সেলিম – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবার পরিচিত মুখ বদরুজ্জামান সেলিম

প্রকাশিত: ৩:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০১৭

সিলেটে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবার পরিচিত মুখ বদরুজ্জামান সেলিম

বিশেষ প্রতিবেদন: সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গণে খুব অল্প সময়ে দলীয় কর্মীদের মন জয় করে শীর্ষস্থানে নাম লিখিয়েছেন তাদেরই একজন বদরুজ্জামান সেলিম। জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার প্রবেশ। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী প্রতিটি আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। দলের দুর্দিনে হোক আর সুদিনে দলের পক্ষে কাজ করে পরিচয় দিয়েছেন একজন জাতীয়তাবাদী নেতার। প্রতিটি কর্মীর মন জয় করে তাদের আস্থা আর বিশ্বাসের শেষ আশ্রয়স্থল হয়েছেন তিনি।
আগামী সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম প্রার্থীতা ঘোষণা করেন। দল যদি তাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করার ঘোষণা আনুষ্ঠানিক ভাবে দিয়েছেন গত ৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে স্থানীয় একটি কমিনিউটি সেন্টারে শাহী ঈদগাহের কয়েক শত লোকের সমাগমের মধ্যে দিয়ে। আমি আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে আমি মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে নাগরিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি লক্ষে সবার পরামর্শে কাজ করব।
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় সিলেটে একমাত্র ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত বদরুজ্জামান সেলিম সিলেট নগরীর একটি সম্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। নগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম জহির উদ্দিন তারু মিয়ার পুত্র তিনি।
তিনি ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৮১ সালে কুমিল্লা বোর্ড এসএসসি ও ১৯৮৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৮৫ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পাশ করে ১৯৮৭ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে এল.এল.বি-তে অধ্যায়ন করেন।
মাত্র ৫০ পয়সার বিনিময়ে ১৯৭৮ সালে সদস্য ফরম পূরণের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে ঢুকে তিনি ১৯৮১ সালে সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালে অত্র কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল (আরিফ-সেলিম) পরিষদে জি.এস প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শীতা ও কর্মীদের প্রতি ভালবাসা দেখে তাকে ১৯৮৩ সালে ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। সততা ও নিষ্ঠার সাথে এমসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় ১৯৮৫ সালে তাকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সিলেট আইন মহাবিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক নির্বাচিত করা হয়। এমসি কলেজ ও সিলেট আইন মহাবিদালয়ে দায়িত্ব পালনে তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতা দেখে ১৯৮৮ সালে তাকে সিলেট জেলা শাখার আহ্বায়ক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৮৯ সালে বিএনপি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে তাকে জেলার ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। তারপর ১৯৯১ সালে তাকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে পূণরায় তাকে জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
১৯৯২ সালে তাঁর নিজ উদ্যোগে যুক্তরাজ্য ছাত্রদলের এক সম্মেলনের আয়োজন করেন। যা যুক্তরাজ্যে ১ম সম্মেলন হিসেবে পরিচিত ছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম লন্ডন সফরকালীন দলীয় বিভিন্ন কর্মসুচি আয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন তিনি।
১৯৯৩ সালে বদরুজ্জামান সেলিমের সাংগঠনিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ ছাত্রদলের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। দায়িত্বপ্রাপ্তির পর সিলেট অঞ্চলের ৪টি জেলায় ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করার জন্য তিনি কাজ করেন। যা সিলেট ছাত্রদলের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকে।
১৯৯৪ সালে নিউইয়র্কে সাংগঠনিক সফরে থাকাবস্থায় সিলেট পৌরসভা নির্বাচনের ঘোষণা আসে। সে সময় বদরুজ্জামান সেলিমের অনুপস্থিতিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মনোনীত করেন। দেশে এসে তিনি নির্বাচনও করেন। কিন্তু দলীয় কুচক্রী মহলের কারনে তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেন নি।
১৯৯৫ সালে তিনি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি মনোনিত করা হয় এবং ১৯৯৭ সালে পূণরায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি পদে বহাল রাখা হয়। যা জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করে।
১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সিলেট সফরে আসলে আওয়ামী লীগ ও ১৫ দলীয় জোট বাধা সৃষ্টি করে। এসময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন বদরুজ্জামান সেলিম। তার জের ধরে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ জিন্দাবাজারস্থ তাঁর বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুর চালায় এবং কোটি টাকার মালামাল লুটপাট করে। এতে বদরুজ্জামান সেলিমের বাবাসহ তার ছোট ভাই শওকত মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হন। দীর্ঘদিন চিকিৎসার ফলে তারা সুস্থ্য হয়ে উঠেন।
ত্যাগী এ নেতা তবুও জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতি থেকে বিচলিত হননি। শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বেগম জিয়ার নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপি নেতৃবৃন্দ বদরুজ্জামান সেলিমের প্রতি আস্থা আর বিশ্বাস রেখে তাকে ১৯৯৮ সালে সিলেট জেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত করেন এবং ১৯৯৯ সালে তাকে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন।
প্রগতিশীল এ রাজনীতিবিদকে দীর্ঘ ৩ বছর জেলা শাখার দায়িত্ব পালনের পর ২০০২ সালে তাকে সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত করা হয়। সিলেট জেলা ও মহানগরের সম্মানিত দুটি পদে দায়িত্ব পালনের দৃষ্টান্ত সিলেটের রাজনীতির ইতিহাসে বিরল।
২০০৫ সালে তিনি সিলেট মহানগর বিএনপির সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। তারপর তৎকালীন সফল অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের ঘোষিত মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। এর পর বিভিন্ন সময়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
বিএনপি রাজনীতির এ অগ্রসৈনিকের উপর ২০০৬ সালে ১/১১ জরুরী অবস্থায় বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক ৪টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার কারণে ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশীর কারনে কিছুদিন তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেন। সেখানে থেকেও বিএনপির রাজনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। যার ঈর্ষাণিত হয়ে বাংলাদেশের তার বাসা বাড়িতে পুলিশী তল্লাশী চালিয়ে সব মালামাল ক্রোক করা হয়।
তবুও থেমে যাননি এ ত্যাগী। বার বার মিথ্যা মামলা ও পুলিশের হামলার শিকার হয়েও কাজ করে গেছেন বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে।
২০০৯ সালে বদরুজ্জামান সেলিম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক, ২০১০ সালে সহ সহ সভাপতির পদপ্রাপ্তি ও ২০১৪ সালে সদস্য সচিব নির্বাচিত হন।
অতপর ২০১৫ সালে আওয়ামী সরকারি বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতার হন বদরুজ্জামান সেলিম। দীর্ঘ ৫ মাস কারাবাসনের পর তিনি মুক্তি পান। বর্তমানেও আওয়ামী সরকারের দেওয়া ১৩টি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় প্রতিনিয়ত আদালতের কাঠগড়ায় দাড়াতে হয় এ নেতাকে।
২০১৬ সালের ৭ ফেব্র“য়ারি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে কাউন্সিলে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে বদরুজ্জামান সেলিমকে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। বর্তমানেও তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই বদরুজ্জামান সেলিম পরিচিত নন, সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডেও তার অবদান চুখে পড়ার মতো। ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারী পদে দায়িত্ব পালন করেন। বেসরকারি কারাগার পরিদর্শক হিসেবে দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালনের পর তিনি সিলেট নজরুল একাডেমির সভাপতির পদেও সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। বদরুজ্জামান সেলিম দীর্ঘদিন জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করে গেছেন। তাছাড়াও রাজনৈতিক কারনে তিনি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশ সমূহ, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত সহ বিভিন্ন দেশ সফর করেন।
উল্লেখ্য, ঘনিয়ে আসছে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন। আগামী জুন মাসের মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কার্যকাল দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ছয় মাসের মধ্যে ভোট করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসেব অনুযায়ী সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালের ১৫ জুন। নতুন পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। আইন অনুযায়ী এ সিটি করপোরেশনের বর্তমান পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হবে ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। আগামী বছরের ১৩ মার্চ থেকে নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর আগামী বছরের ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে সিলেট সিটি করপোরেশনের।