সিলেটে সেই ‘লেন’ আবার চালু – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে সেই ‘লেন’ আবার চালু

প্রকাশিত: ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৮, ২০১৬

সিলেটে সেই ‘লেন’ আবার চালু

sylhetcit000সিলেটে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সেই ‘রিকশা লেন’ ফর্মুলা ফিরিয়ে আনল সিটি করপোরেশন ও মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।
নগরের প্রবেশমুখের মদিনা মার্কেট পয়েন্ট, আম্বরখানা, শাহি ঈদগাহ, শিবগঞ্জ, জিন্দাবাজার, সোবহানীঘাট, সুরমা পয়েন্ট, বন্দরবাজার, চৌহাট্টাসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোকে একটি লেনে রূপ দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে ৫৭টি পথ। এতে যান চলাচল একমুখী হওয়ায় সুফল মিলছে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় কমছে যানজটও।
এই লেন ফর্মুলা নগরে সূচনা করেছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। কেন্দ্রস্থলের কোর্ট পয়েন্টে প্রথমে ‘রিকশা লেন’ করে যানবাহনগুলোর একমুখী চলাচল শুরু করার ছয় মাসের মাথায় আরিফুল কারাবন্দী হলে সেই লেন গুটানো হয়েছিল। এবার প্রায় নগরজুড়ে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশ যৌথভাবে আবার লেন চালু করেছে।
‘যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আগে যান চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে হবে’ বিষয়টি প্রচার করে ২০১৪ সালের ৪ মার্চ কোর্ট পয়েন্টে পরীক্ষামূলক রিকশা লেন চালু করেছিলেন আরিফুল। এতে সুফল মিললে দুই সপ্তাহ পর ২০ মার্চ থেকে কোর্ট পয়েন্ট থেকে সুরমা পয়েন্টের ২৫০ মিটার দীর্ঘ পথে রিকশা লেন করলে অনেকটা শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে চলাচল শুরু করে রিকশা। পরবর্তী সময়ে এই পদ্ধতি নগরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে সম্প্রসারণের কথাও জানিয়েছিলেন আরিফুল।
আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হিসেবে ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আরিফুল কারাবন্দী হন। এরপর থেকে নগরে তাঁর সেই লেন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ছেদ পড়ে। আরিফুল না থাকায় রিকশা লেন আর কোর্ট পয়েন্ট থেকে সম্প্রসারিত হয়নি। দেখভাল না থাকায় একপর্যায়ে রিকশা লেন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী ও হকারদের দখলে চলে যায়। কোর্ট পয়েন্ট থেকে সুরমা পয়েন্টে ২৫০ মিটার রিকশা লেন গত বছরের ১৪ আগস্ট সিটি করপোরেশনই অপসারণ করে।
অপসারণের ছয় মাসের মাথায় ‘লেন’ ফর্মুলায় ফেরা সম্পর্কে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, রিকশা লেন অপসারণের পর কোর্ট পয়েন্টে যানজটের অরাজক পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এর মধ্যে মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নগরে চলাচল শুরু করলে তখন যানবাহনগুলো শৃঙ্খলায় রাখতে গিয়ে ট্রাফিক পুলিশকে নাকাল হতে হয়। এ পরিস্থিতিতে ট্রাফিক পুলিশের পরামর্শে আবার লেন করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয় সিটি করপোরেশন।
মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রহমত উল্লাহ বলেন, বছর খানেক বা ছয় মাস আগেও নগরে রিকশার চলাচল বেশি ছিল। মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করায় ১০ থেকে ১৫ হাজার অটোরিকশার বাড়তি চাপ পড়েছে নগরে। লেন স্থাপন করে যানবাহনের একমুখী চলাচল করা ছাড়া বিকল্প ছিল না। এবারের ঈদবাজার সামনে রেখে এটি করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, রিকশা লেন দেওয়ায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ নয়, শুধু রিকশাগুলো নিয়ন্ত্রিত ছিল। তবে এতে নগরের কেন্দ্রস্থলে রিকশাজটও দেখা দিত। এ জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী রিকশা লেন অপসারণ করে এখন বড় রাস্তাগুলোতে একমুখী যান চলাচল চালু করতে লেন করা হচ্ছে।