সিলেটে ৫০ হাজার কর দাতা বেড়েছে এবার ৫শ’ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে ৫০ হাজার কর দাতা বেড়েছে এবার ৫শ’ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা

প্রকাশিত: ১২:৫০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০১৬

সিলেটে ৫০ হাজার কর দাতা বেড়েছে এবার ৫শ’ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা

72200ppp০১ নভেম্বর ২০১৬. মঙ্গলবার: সিলেটে ৫ বছরের ব্যবধানে প্রায় ৫০ হাজার করদাতা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট কর অঞ্চলের কর কমিশনার সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদ। তিনি বলেন, বর্তমানে সিলেট কর অঞ্চলে মোট করদাতার সংখ্যা ১লাখ ৫৩ হাজার ৩৭৯ জন। ২০১০-১১ সালে এ সংখ্যা ছিল ১লাখ ৫ হাজার ২১০ জন। তাদের মধ্যে পেশাজীবী আয়কর দাতা প্রায় ১০ হাজার। তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে সিলেট কর অঞ্চলের লক্ষ্যমাত্রা ৫শ’ কোটি টাকা। সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। বলেছেন, কর প্রদানে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, করবান্ধব পরিবেশ তৈরীর কারণ এবং নতুন করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আশাবাদি কর কমিশনার। তিনি বলেন, রিটার্ণ প্রদানে নিয়ম সহজ হওয়ায় করদাতারা স্বেচ্ছায় অফিসে এসে কর দিচ্ছেন। যে কারণে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১৮ হাজার করদাতা বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও শুধু জুলাইু থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ মাসে করদাতা বেড়েছেন ১০ হাজার জন। কর কমিশনার বলেন, সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য মেলায় শুধু সিলেট থেকে ২০/৩০ কোটি টাকা আয়কর আদায় করতে পারবেন। এছাড়া মেলায় বাড়বে নতুন করদাতার সংখ্যা। পাশাপাশি কর দিতে সক্ষম এমন লোকজনকে করের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেন তিনি। এছাড়া লক্ষমাত্রা অর্জনে আয়কর মেলা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে উল্লেখ করে কর কমিশনার বলেন, নতুন গ্রাহক সৃষ্টি ও ই-পেমেন্টের ক্ষেত্রে আয়কর মেলা বিশাল ভূমিকা রাখবে। ৫ বছর আগে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১০ কোটি টাকা। এবার ৫শ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারলে বিগত ৫ বছরের চেয়ে ৫শ’ গুণ বৃদ্ধি হবে বলেন তিনি। এছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩৩২ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় ৩৫৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
করদাতাদের হয়রানী বন্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর আইনজীবীদের মাধ্যমে করদাতারা বিভিন্ন তথ্যাদি পূরণ করে রিটার্ণ দিতে হয়। তা আরও সহজ করতে কর কর্মকর্তারা সচেতন রয়েছেন। এছাড়া মেলায় থাকবে পরামর্শ কেন্দ্র, ব্যংকিং ও ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা। ফলে এই সমস্যা অনেক কমবে।
কর কমিশনার বলেন, এবার মেলায় ৫টি বুথের মাধ্যমে ইটিআইএন রেজিষ্ট্রেশন হবে। রিটার্ণ দাখিলের থাকবে ৫টি বুথ। সেবা গ্রহণের জন্য ১৫টি, বাংকের বুথ দু’টি, কন্ট্রোল রুম ২টি, মুক্তিযোদ্ধা ও বয়স্কদের জন্য একটি বুথ স্থাপন করা হবে। সিলেটে ৭দিন মেলা চললেও অন্য তিন জেলায় (মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ) ৪দিন করে মেলা চলবে। এছাড়াও সিলেটের মাধবপুর, ছাতক, বালাগঞ্জ গোলাপগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে ২দিন করে মেলা চলবে জানান তিনি। সিলেট জোনে আয়ের বিপরীতে কর প্রদানের সঠিকতা যাচাইয়ের বিষয়ে কর কমিশনার সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদ বলেন, আয়কর বিভাগের জনবল সংকট রয়েছে। তদারকি করতে কর্মকর্তা-কর্মচারি সংখ্যা ২৬৩ জনের স্থলে আছে ১৪৯ জন। অর্থাৎ শূন্যপদের সংখ্যা ১১৪। তবে এরপর অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছতে সক্ষম সিলেট কর অঞ্চল। আজ থেকে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের মোহাম্মদ আলী জিমনেসিয়ামে আয়কর মেলার আয়োজন করেছে সিলেট কর অঞ্চল। সপ্তাহব্যাপী মেলায় ৭ নভেম্বর পর্যন্ত।

সিলেটে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা শুরু

‘সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে দেশের সবকটি বিভাগীয় শহরের ন্যায় সিলেটেও শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর রিকাবিবাজারস্থ মোহাম্মদ আলী জিমনেশিয়ামে মেলার উদ্বোধন করে সিলেট-৩ আসনের সাংসদ মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী কয়েস। পরে সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।
কর অঞ্চলের কমিশনার সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মিজানুর রহমান, সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএম রুকন উদ্দিন, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রির পরিচালক সালাহ উদ্দিন আলী আহমদ প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন মণিপুরী শিল্পীগোষ্ঠী। সিলেট কর অঞ্চলের অতিরিক্ত কমিশনার মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, এবার আয়কর মেলা থেকে ২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের টার্গেট রয়েছে। মেলায় ই-টিআইএন বুথ, হেল্প ডেস্ক, রিটার্ন বুথ, কাস্টমস ভ্যাট স্টল ও জেলা সঞ্চয় অধিদপ্তরের বুথ রয়েছে।