সিলেট-আখাউড়া রেলের কাজ দ্রুত শুরু জনপ্রত্যাশা পূরণ হবে সিলেটবাসীর – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেট-আখাউড়া রেলের কাজ দ্রুত শুরু জনপ্রত্যাশা পূরণ হবে সিলেটবাসীর

প্রকাশিত: ১০:০৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০

সিলেট-আখাউড়া রেলের কাজ দ্রুত শুরু জনপ্রত্যাশা পূরণ হবে সিলেটবাসীর

সিলেট-আখাউড়া রেলের কাজ দ্রুত শুরু হবে। আর তাতে সিলেটবাসীর দীর্ঘ দিনের জনপ্রত্যাশা পূরর্ণ হবে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে অবস্থিত রেল স্থাপনা পরিদর্শন করছেন রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন। রবিবার সকালে পরিদর্শনে আসেন তিনি। এ সময় রেল স্থাপনার পাশে ধলাই নদীও পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের অনেক পুরনো রোপওয়ের অবস্থা দেখতে সকালে সরেজমিনে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি এলাকায় আসেন রেলমন্ত্রী। জানা গেছে, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে দেশের সর্ববৃহৎ পাথর কোয়ারির অবস্থান। মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড় থেকে বর্ষাকালে ঢল নামে। ধলাই নদীতে ঢলের সঙ্গে নেমে আসে পাথর। পরবর্তী বর্ষার আগমন পর্যন্ত চলে পাথর আহরণ।

এছাড়া রয়েছে ১৯৬৪-১৯৬৯ সালে সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে প্রকল্প- যার দৈর্ঘ্য ১১ মাইল ও টাওয়ার এক্সক্যাভেশন প্ল্যান্টের সংখ্যা ১২০টি। উত্তোলিত পাথর ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে পাঠানো হতো। ১৯৯৪ সালের পর এই পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ২০ মিনিটের দূরত্বে রয়েছে বিশেষ কোয়ারির অবস্থান।

মূলত সীমান্তের অতি নিকটবর্তী হওয়ায় এই জায়গাটিকে বিশেষ কোয়ারি বলা হয়। সেখানে থেকে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য প্রাণভরে উপভোগ করা যায়। কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে বাঙ্কার ও ধলাই নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, আখাউড়া থেকে সিলেট রুটে রেলের কাজ দ্রুত শুরু হবে।

তিনি জানান, রোপওয়ে আবার করা যাবে কিনা এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, বিলীন হওয়ার হাত থেকে ভোলাগঞ্জে রেলওয়ের ভূমি কীভাবে রক্ষা করা যায়, এ বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত ভোলাগঞ্জে রেলওয়ের ভূমি ও স্থাপনা দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে বাংলাদেশ রেলওয়ের রোপওয়ে বাঙ্কার দিয়ে ছাতকে পাথর পরিবহন করা হতো। তবে ক্ষমতাসীনদের আগ্রাসনে বিলিন হওয়ার পথে রেলওয়ের স্থাপনাটি। ২০১০ সালে রেলওয়ে ওই স্থান রক্ষায় নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী দিলেও রাতের আঁধারে ‘পাথরখেকোরা’ বাঙ্কার এলাকা থেকে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রাখে। ফলে রোপওয়ে লাইনের খুঁটিগুলোও পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কয়েক যুগ পর এবার মন্ত্রীর সুনজর পড়েছে ওই এলাকায়।

এদিকে দুপুরে সুনামগঞ্জে ছাতকে দেশের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার কারখানা ‘ছাতক স্লিপার কারখানা’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার প্রত্যেক জেলায় রেলপথ সম্প্রসারণ করছে, যতটুকু সম্ভব রেল যাতে আগামী দিনে অন্যতম একটা বাহন হিসেবে দেশের ১৬ কোটি জনগণের বন্ধু হিসেবে যেন পাশে থাকতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। আমরা রেলের সংখ্যা আরো বাড়াবো। সুযোগ সুবিধা অনেক বৃদ্ধি করবো।

তিনি বলেন, দেশের একমাত্র কংকিট স্লিপার কারখানা ছাতক কংক্রিট স্লিপার কারখানা, তা আবার চালু করবো। ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে আমরা পরিদর্শন করেছি, কিভাবে একে কাজে লাগানো যায় তা পরিকল্পা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, রেলের ব্যাপারে বর্তমান সরকার সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা নিয়েছে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। রেলকে অনেক বেশি যুগপোযুগি ও বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের রেল কে যেন গড়ে তুলতে পারি সে চেষ্ঠা করছি। রেলওয়ের সমস্ত জায়গা, পরিত্যক্ত জায়গা ও বেদখল হওয়া জায়গা ধীরে ধীরে উদ্ধার করবো।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল