সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা- – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা-

প্রকাশিত: ৮:২৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২১

সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা-

সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৯২ (সংশোধিত ১৯৯৮) এর আলোকে ২০০১ সালে অনুমোদন পেয়ে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বারক নং-বিমক/বে:বি/জি-১১/৩৮৩ (০১)/১/৫৩৫৮, তাং-১৬.০৭.২০০৮ ইং মূলে (সংযুক্তি-০১) এলএল.বি (অনার্স) কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন পায়।অনুমোদন প্রাপ্তির পর থেকে ভাটি অঞ্চলে দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন টিউশন ফি তে ডুয়েল সেমিষ্টারের মাধ্যমে (বছরে দুই সেমিষ্টার) আইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ।টিউশন ফিস নিম্ন মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে হওয়ায় শুরু থেকেই দুইটি সেকশনে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী এ বিভাগে ভর্তি হতে থাকে এবং তৎকালীন সময়ে বিভাগে স্থায়ী শিক্ষকের সংখ্যা ছিল ২৬ জন।বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন বিগত ২৩.০৪.২০১৪ ইং তারিখে ইউজিসি/বে:বি/৪৮৪(১)/অংশ৩/০৬/৩২৮৭ স্বারকমূলে “যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রোগ্রাম অনুমোদন কালে কমিশন কর্তৃক আসন সংখ্যা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি সে সকল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কে এলএল.বি/এলএল.এম প্রোগ্রামে প্রতি সেমিষ্টারে সর্বোচ্চ ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো” মর্মে নির্দেশনা প্রদান করে। বছরে দুইটি সেমিষ্টার চালু থাকা , ২৬ জন স্থায়ী শিক্ষকের বেতন ভাতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যয় নির্বাহ বিষয় বিবেচনাপূর্বক তৎক্ষনাৎ প্রতি সেমিষ্টারে অনধিক ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা সম্ভব হয়নি।তবে পর্যায়ক্রমে এই নির্দেশনা পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য আমরা পদক্ষেপ গ্রহন করি এবং তারই ফলশ্রুতিতে ফল-২০১৬ সেমিষ্টার হতে আমরা অনধিক ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করে আসছি। ইউজিসির নির্দেশনা প্রাপ্তির পর থেকে (স্প্রিং-২০১৫ থেকে স্প্রিং-২০১৬ পর্যন্ত) চারটি সেমিষ্টারে ৫০ এর অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করি এবং বিষয়টি ইউজিসি’র অবগতির জন্য তৎকালীন সময়ে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ৩১.১০.২০১৬ ইং তারিখে বিবিসি/রেজি:/২০১৬/৪৩৫৬ স্বারকের ২ নং শর্তে ৫০জন শিক্ষাথী ভর্তির বিষয়ে সুস্পষ্ট লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে পত্র প্রেরণ করেন। উক্ত পত্রের জবাবে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এসআইইউ/রেজি:-২১/২০১৬/৯০০ তাং-০৯.১১.২০১৬ স্বারকমূলে প্রেরিত পত্রের মাধ্যমে ৫০ জন এর অধিক শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং উক্ত লিখিত ব্যাখ্যার সাথে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চাহিদা মোতাবেক প্রেরিত অঙ্গীকার নামার নমুনা অনুযায়ী দুইশত টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বছরে অনধিক ১৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অঙ্গীকারনামা প্রেরণ করা হয় যা বিগত ১০-১১/২০১৬ খ্রি: তারিখে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত হয় এবং উক্ত ব্যাখ্যার বিষয়ে বার কাউন্সিল কোনরুপ আপত্তি উত্থাপন বা জ্ঞাপন করেননি।

উপরে উল্লেখিত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার পরেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক বিগত ২৩.০৪.২০১৪ইং তারিখে প্রেরিত স্বারকের (ইউজিসি/বে:বি/৪৮৪(১)/অংশ৩/০৬/৩২৮৭) নির্দেশনা ভঙ্গের দায়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ফল-২০১৪ ব্যাচের ভর্তিকৃত ৯৩ জন , স্প্রিং-২০১৫ ব্যাচের ৯১ জন, ফল-২০১৫ ব্যাচের ৭১ জন, স্প্রিং-২০১৬ ব্যাচের ৫৪ জন শিক্ষাথীর রেজিস্ট্রেশন প্রদান করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। উক্ত সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হয়ে ফল-২০১৪ ব্যাচের (৪৩ জন যাদের চঁঢ়রষধমব ঈড়হঃৎধপঃ ংযরঢ় ৬ মাস পূর্ণ হয়েছিল) শিক্ষার্থীরা মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রীট দায়ের করে যার নম্বর ১০৭৪৬/২০১৯।উক্ত রীটের প্রেক্ষিতে মহামান্য সুপ্রীম কোটের হাইকোর্ট ডিভিশন শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রদান সাপেক্ষে আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক প্রেরিত শর্ত ভঙ্গের দায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনের উক্ত সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হয়ে বার কাউন্সিল মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে আপীল করে যার নম্বর ঈরারষ গরংপবষষধহবড়ঁং চবঃরঃরড়হ ১০৫২/২০১৯। মহামান্য আপীল বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের প্রেরিত পত্রের শর্তভঙ্গের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য কে স্বশরীরে আপীল বিভাগে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের আদেশ দেন । উপাচার্য মহোদয় আপীল বিভাগে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের শর্তভঙ্গ করে অতিরিক্ত ভর্তির জন্য নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং মহামান্য আপীল বিভাগ কর্তৃক ২০১৭ সালে প্রদত্ত সিদ্ধান্তের পর থেকে প্রতি সেমিষ্টারে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে প্রদত্ত নির্দেশনা লংঘন করা হয়নি মর্মে আপীল বিভাগকে অবগত করেন। মহামান্য আপীল বিভাগ উদ্বেগের সঙ্গে বিষয়টি আমলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুলের কারণে শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় এই মর্মে পর্যবেক্ষন দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক বিগত ২৩.০৪.২০১৪ইং তারিখে প্রেরিত স্বারকের (ইউজিসি/বে:বি/৪৮৪(১)/অংশ৩/০৬/৩২৮৭) নির্দেশনা ভঙ্গের দায়ে শাস্তিস্বরুপ জরিমানা হিসেবে ১০,০০০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা কিডনী ফাউন্ডেশন এর অনূক’লে জমাদানের নির্দেশনা প্রদান করেন।
মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ বিগত ১২.০২.২০২০ ইং তারিখে চেকের মাধমে কিডনী ফাউন্ডেশন কে ১০,০০০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা প্রদান করেন।
মহামান্য আপীল বিভাগ কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুলের জন্য ইতিপূর্বে জরিমানাপূর্বক বিষয়টি চুড়ান্ত নিস্পত্তি করেছেন বিধায় একই ভুলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের ইন্টিমেশন গ্রহন করার জন্য বার কাউন্সিলের বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ বার কাউন্সিল উপরে উল্লেখিত চারটি ব্যাচের অবশিষ্ট শিক্ষার্থীদের ইন্টিমেশন গ্রহন বা রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে উল্লেখিত ব্যাচসমূহের ১৪৮ জন শিক্ষার্থী মহামান্য সুপ্রীম কোর্টে দুইটি পৃথক রীট দায়ের করে। রীটের শুনানীয়ান্তে বিগত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ইং তারিখে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ শিক্ষার্থী প্রতি ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা করে মোট ২৯,৬০,০০০/- (উনত্রিশ লক্ষ ষাট হাজার) টাকা বার কাউন্সিলের কল্যাণ তহবিলে সার্টিফায়িড কপি উত্তোলনের তারিখ হতে ৬ কিস্তিতে ০৮ সপ্তাহের ভিতর পরিশোধের আদেশ প্রদান করেন।
যেহেতু একই ভুলের কারণে ইতিপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক জরিমানা প্রদান করেছেন সেহেতু উক্ত আদেশে বিশ্ববিদ্যালয় সংক্ষুব্ধ হয়ে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করেছে যা আগামী ১২.১২.২০২১ইং তারিখে শুনানীর জন্য নির্ধারিত আছে।

এমতাবস্থায় সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করা কোন গণমাধ্যমের নিকট কাম্য নয় এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ^ সাংবাদিকতা পেশাদারিত্বের সাথে বেমানান।এ বিষয়ে সকল গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।
নিবেদক

রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত)
সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
শামীমাবাদ, বাগবাড়ী, সিলেট।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল