সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ রুটে বিআরটিসি বাস চালু – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ রুটে বিআরটিসি বাস চালু

প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০১৯

সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ রুটে বিআরটিসি বাস চালু

সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে : মন্ত্রী ইমরান আহমদ
তৃণমূলবান্ধব ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের দিয়েই কমিটি হবে : আহমদ হোসেন

নিজস্ব প্রতিবিদেক
বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ধারা অব্যাহত র্খাার প্রয়াসে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এ সেøাগানকে সামনে রেখে শনিবার বিআরটিসি সিলেট বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আলমপুর এর আয়োজনে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ রুটে আম্বারখানাস্থ সরকারি কলোনী মসজিদের সামনে বিআরটিসি বাস এর শুভ উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সরকারের উন্ন্য়নের অগ্রযাত্রাকে ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখতে এবং মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গ্রাম হবে শহর বাংলাদেশ প্রত্যেকটি জেলা উপজেলায় বিআরটিসির সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেটের দায়িত্ব প্রাপ্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, বাংলাদেশ আওয়ীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগৈর সদস্য সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেরয় বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহ ফরিদ আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুর আহমদ রুহেল, মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র, কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য, জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ, জৈন্তা উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইব্রাহিম মাস্টার, সিরাজ উদ্দিন, বিআরটিসির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, ম্যানেজার (অপা) মো. জুলফিকুর আলী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এলায়েতুল ইসলাম জাবীর, ট্রাফিক ইনচার্জ মহীউদ্দিন খান, কারিগর প্রধান কুদরত আলী, ডিপো শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শমসের আলী, বিআরটিসির প্রতিনিধি সুয়াইব শুভ।
এদিকে মন্ত্রী বিকালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যোগদান করেন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলী আমজদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আফতাব আলী কালা মিয়ার পরিচালনায় উদ্বোধকের বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, সবাইকে ঐক্যবন্ধ ভাবে দলের জন্য কাজ করতে হবে। দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে দলের সুনাম নষ্ট হয়। দলের সুনাম রক্ষা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে দেশের মানুষের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি লক্ষে নিয়ে। স
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, যারা দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছে কিন্তু পদ-পদবী পাচ্ছেন না তাদেরকে কমিটিতে আনুন। আর যারা লুটপাট করে, জমি দখল করে, চাঁদাবাজি করে, মানুষ খুন করে, আওয়ামী লীগের সাথে লিয়াজো করে চলে, বিএনপির সাথে আঁতাত রাখে, দেশের বারোটা বাজাচ্ছে তারা কোনদিনই কমিটিতে ঠাঁই পাবে না। যারা দলের পদবী পাওয়ার জন্য লবিং তদবির করেন, খাম পাঠাবেন, কন্ট্রাক্ট করবেন তাদের বিরুদ্ধে ‘রেড সিগন্যাল’। তারা কোনদিনই পদ পাবেন না। তৃণমূলবান্ধব ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের দিয়েই কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ করতে হলে শেখ হাসিনার কথা মানতে হবে, শুনতে হবে। তার নির্দেশ মতো কাজ করতে হবো। শেখ হাসিনা এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে- একথা শুধু মখে বললে হবে না। শেখ হাসিনা গেলেন উত্তরে আর আপনারা গেলেন দক্ষিনে। এমন নেতাকর্মী দরকার নেই আওয়ামী লীগে।
মন্ত্রী ইমরানের আহমদের প্রশংসা করে আহমদ হোসেন বলেন, আমি এখানে আসার আগে মন্ত্রী ইমরানকে বললাম, আপনার কোনো পছন্দ আছে? মন্ত্রী বললেন- সবাই আমার পছন্দ। সবাই আমার কর্মী।
বিএনপিকে নিয়ে আহমদ হোসেন বলেন, বিএনপি কি করবে খুঁজে পাচ্ছেনা, দিশেহারা হয়ে গেছে। বিএনপি’র একজনই আছেন বেগম জিয়া। তিনি তো মহা চোর। চুরি করার কারনে কারাগারে আছেন। বেগম জিয়াকে কি মুক্তি আমরা দিবো। আদালত দিবে। আপনারা এই চুরির ব্যাখ্যা দিতে পারেন না। এটা তাদের আইনজীবীর ব্যর্থতা। পারছেন না বেগম জিয়াকে মুক্তি করতে। এটাও কি আওয়ামী লীগের দোষ। বিএনপি শুধু দোষ খুঁজে। এটি দোষ খোঁজার দল। তিনি বলেন, এখন আবার বিএনপি চাইছে প্যারোলে মুক্তি আনবে। আদালতে আবেদন করুন। আদালত যদি প্যারোলে মুক্তি দেই। তাহলে তো ভালো।
আহমদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনকে শ্রদ্ধা করেন, সংবিধানকে শ্রদ্ধা করেন। আইন আইনের গতিতে চলছে। তিনি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ^বাসী প্রধানমন্ত্রীকে সাপোর্ট করেছে, কিন্তু দোষ খোঁজার দল বিএনপি প্রধানমন্ত্রীকে মেনে নিতে পারেনি। এটা তাদের ব্যর্থতা।
তিনি বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতার পর অনেক দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধু পাকিস্তান মার্কা কিছু দেশ অস্বীকৃতি জানিয়েছে- এটা যেমন সত্য তেমনি ২০১৮ সালের নির্বাচনও সত্য। পৃথিবীর এমন কোন সরকার প্রধান নাই, রাষ্ট্র প্রধান নাই যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানায় নি। তারা বলছেন- বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। জঙ্গিবাদ, মৌলবাদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা অটল। উন্নয়ন, সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম সবকিছু দিয়ে তিনি বিশে^র কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। কিন্তু শুধুমাত্র বিএনপি স্বীকৃতি দেয়নি। তবে হাস্যকর লাগে- তারাও আবার জাতীয় সংসদে প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। যারা নির্বাচনকে অস্বীকৃতি জানায় তারা জাতীয় সংসদকে কিভাবে স্বীকৃতি দেয়। এটা তাদের ব্যর্থতা, অজ্ঞতা।
তিনি বলেন, এমন কি সরকার প্রধান আছেন, যে তার দল থেকেই দুর্নীতিমুক্ত অভিযান শুরু করেছেন। বেগম জিয়াকে বিএনপিকে দুর্নীতির দল বানিয়েছিলেন। আর শেখ হাসিনা নিজ দলের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রমান করেছেন- সবকিছুর উর্ধ্বে দেশপ্রেম। তিনি দেশের উন্নয়ন চান, দেশের মানুষের শান্তি চান। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে- সে আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চালিয়ে যাবেন। দুর্নীতিবাজ যেই হোক তার কোন রক্ষা নেই। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী।
সম্মেলনের বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান, সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী দুলাল, এডভোকেট মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, নুরুল আমীন, লোকমান আহমদ চৌধুরী, আজমল আলী, শামীম আহমদ, সুজাত আলী রফিক, নাসির উদ্দিন খান, মস্তাক আহমদ পলাশ।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে পুরনোরাই নতুন করে নেতৃত্ব পেয়েছেন সভাপতি পদে আলী আমজদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে আফতাব আলী কালা মিয়া। এ দু’জন আগে থেকেই এ দুই পদে ছিলেন। সম্মেলনে ১ম সহ-সভাপতি হয়েছেন জয়নাল আবেদীন, সহ-সভাপতি হয়েছেন আলফু মিয়া। এছাড়া জাহাঙ্গীর আলম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন।