সিলেট ছাত্রদলে আসছে পরিবর্তন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেট ছাত্রদলে আসছে পরিবর্তন

প্রকাশিত: ৩:০১ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০১৬

সিলেট ছাত্রদলে আসছে পরিবর্তন

jcdস্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতির অনিবার্য প্রয়োজন ও ছাত্র সমাজের ন্যায্য দাবী দাওয়া আদায়ের গৌরবোজ্জল অতীতের জলন্ত স্বাক্ষী সিলেট ছাত্রদল। শুধু তাই নয় বিএনপির নেতৃত্বের মুল যোগান দাতার প্রধান কাতারে বিএনপির ভ্যানগার্ড খ্যাত ছাত্রদল। সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বও সিলেট ছাত্রদলের সোনালী ফসল। কিন্তু কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় থমকে আছে সিলেট ছাত্রদলের তারুন্য নির্ভর নতুন কমিটি। মাস খানেক আগে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনার নামে শুরু হয়েছিল লাড়ে লাপ্পা পরিস্থিতির। রাজপথের সক্রিয়, কারা নির্যাতিত, মেধাবী ও ত্যাগী ছাত্র নেতাদের বাদ দিয়ে চল্লিশোর্ধ, অছাত্র, মোটর ম্যাকানিক, শেলুন কর্মচারী ও পুলিশের তালিকাভুক্ত চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের কমিটিতে স্থান দেয়া হয় এমন অভিযোগে ঘোষনার পরও আটকে যায় সিলেট ছাত্রদলের পুর্নাঙ্গ কমিটি। এরপর থেকেই আশা নিরাশার দোলাচলে ঝুলে আছে সিলেট ছাত্রদল। ছাত্র সমাজকে নেতৃত্ব দিতে তারুন্য নির্ভর নতুন সিলেট জেলা ও মহানগর কমিটির অপেক্ষায় রয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০২ সালের মাঝামাঝি সময়ে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের দীর্ঘদিন পর ২০০৩ সালে অনুমোদন পায় নতুন কমিটি। সম্মেলনে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি পদে জিয়াউল গণি আরেফিন জিল্লুর, সাধারণ সম্পাদক পদে নুরুল আলম সিদ্দিকী খালেদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ওয়াহিদুজ্জামান রণিকে নির্বাচিত করা হয়। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে এমরান আহমদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পদে সৈয়দ সাফেক মাহবুব এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মাহবুবুল হক চৌধুরীকে নির্বাচিত হন। তারপর এই কমিটিতেই চলে যায় দীর্ঘ একযুগ।
অনেক চড়াই উৎড়াই পরিস্থিতি পেরিয়ে দীর্ঘ এক যুগ পর ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঘোষনা হয় সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের ৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। দীর্ঘ দিন ছাত্র রাজনীতির মাঠ থেকে সরে থাকা দুই সন্তানের জনক সিলেট জেলা বারের আইনজীবি সাঈদ আহমদকে সভাপতি, রাজনীতিতে সক্রিয় নয় এমন ব্যাক্তি রাহাত চৌধুরী মুন্নাকে সাধারন সম্পাদক করে ঘোষনা করা হয় ৮ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক জেলা কমিটি। অন্যদিকে সাবেক কমিটির সাধারন সম্পাদক চল্লিশোর্ধ নুরুল আলম সিদ্দিকী খালেদকে সভাপতি ও শিবির ফেরত এক সন্তানের জনক চল্লিশোর্ধ আবু সালেহ মো. লোকমানকে সাধারণ সম্পাদক করে ঘোষনা হয় ৮ সদস্যের আংশিক মহানগর কমিটি ।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদল জেলা ও মহানগর কমিটিকে এক মাসের মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে নির্দেশ দেয় । কিন্তু আংশিক কমিটি ঘোষণার পরপরই সিলেটে ছাত্রদলের মধ্যে দেখা দেয় বিদ্রোহ। ছাত্রদলের একটি বিশাল অংশ উভয় কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে কঠোর আন্দোলনে নামে। শুরু হয় তুমুল বিদ্রোহ। সেই বিদ্রোহ রাজপথে সংঘাত-সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায়। কমিটি নিয়ে এরকম উত্তপ্ত অবস্থায় এক মাসের স্থলে দেড়বছর চলে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটির দেখা মেলেনি। ছাত্রদলের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই বিদ্রোহে তৃনমুলের হাতে লাঞ্চিত হন বর্তমান জেলা সভাপতি সাঈদ আহমদ, মহানগর সাধারন সম্পাদক আবু সালেহ লোকমান সহ বেশ কয়েকজন পদধারী নেতা। কমিটি ঘোষনার পর থেকে রাজপথের সকল আন্দোলন থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখেন জেলা ও মহানগর ছাত্রদল নেতারা। কর্মসুচী পালনের নামে বাসা-বাড়ীর সামনে থেকে ছবি তুলে মিছিলের সংবাদ বলে চালিয়ে দেন তারা। এছাড়া একই ছবি দিয়ে বিভিন্ন কর্মসুচীর নিউজ প্রচারের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৃনমুলের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে আংশিক কমিটি ঘোষনার প্রায় দেড়বছর পর গত ২৯ এপ্রিল সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। কিন্তু কমিটি অনুমোদনের এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। কমিটিতে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন, বিবাহিত, অছাত্র, মোটর ম্যাকানিক, শেলুন কর্মচারী, তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী, বহিস্কৃত, আদম ব্যবসায়ী, হত্যা মামলার আসামীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে দলের একটি  বৃহৎ অংশের নেতাকর্মীরা অভিযোগ তুলেন। কমিটি ঘোষণা হলে দলের মধ্যে ফের সংঘাত, সংঘর্ষ শুরু হতে পারে এমন আশঙ্কা তদুপরি তৃনমুল ছাত্রদলের প্রতিরোধের হুমকীর খবরে সাথে সাথে অনুমোদিত কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি বলে জানান কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ।
রাজপথে সক্রিয় ও ত্যাগী ছাত্রদল নেতাদের বক্তব্য হলো- সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপিকে ডিঙ্গিয়ে এক ব্যাবসায়ী কর্তৃক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদকে ব্ল্যাকমেইল করে সুবিধাভোগী ও অছাত্রদের কমিটিতে স্থান দিয়ে সিলেট ছাত্রদলকে তার আদর্শের বিপরীতে তৈরীর ষড়যন্ত্র করছেন। ঘোষিত কমিটির বিগত ৫ই জানুয়ারী পরবর্তী আন্দোলন বিমুখীতাই প্রমান করেছে তাদেরকে ছাত্রদলের আদর্শের মুল ¯্রােত থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। ঘোষনার পর থেকে আজ পর্যন্ত জেলা ও মহানগর কমিটি সর্বাত্মকভাবে ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে। বর্তমান সরকার পরিকল্পিতভাকে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন প্রধান শহরের রাজনীতি ও সরকারবিরোধী আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রন করতে ব্যাবসায়ীদের ব্যাবহার করছে। সিলেট জেলা-মহানগর ছাত্রদলকে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে সরিয়ে তাদেরকে আন্দোলন বিমুখীতা করে তৈরী করতে সিলেটের জনৈক ব্যাবসায়ী সরকারের এজেন্ডা বাস্থবায়ন করছেন কিনা! সিলেটের জাতীয়তাবাদী ঘরানার নেতাকর্মীদের কাছে এটি একটি বিরাট প্রশ্ন হয়ে দাড়িঁয়েছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে সিলেট ছাত্রদলকে ইতিহাসের আস্থাকুড়ে নিক্ষিপ্ত করা হবে। সময় থাকতে কেন্দ্রীয় সংসদকে এব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। সরকারের এজেন্ট কথিত ব্যাবসায়ীর হাত থেকে সিলেট ছাত্রদলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে প্রকৃত ছাত্র, ত্যাগী, সক্রিয় ছাত্রদল নেতাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে। সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দের সাথে পরামর্শ করে অতীতে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয়, ত্যাগী, মেধাবীদের সমন্বয়ে সিলেট ছাত্রদল কমিটি গঠন করতে হবে। বিবাহিত, অছাত্র, মোটর ম্যাকানিক, শেলুন কর্মচারী, তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী ও আদম ব্যবসায়ীদের ছাত্রদলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে না দিলে সিলেট ছাত্রদলের সোনালী ইতিহাসে কলংকের কালেমা লেপন করা হবে। তৃনমুলের দাবীর প্রেক্ষিতে সিলেট ছাত্রদলের নতুন একটি পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন হলে ছাত্রদল তার অতীত ইতিহাসে ফিরে পাবে। সিলেট ছাত্রদল কে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, দেশনায়ক মজলুম জননেতা তারেক রহমান ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে জোর দাবী জানান তৃনমুল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল