সিলেট জেলা ও নগর কমিটি: ‘বিদ্রোহ’ দমাতে ছাত্রদলে ৭৬২ সদস্যের কমিটি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেট জেলা ও নগর কমিটি: ‘বিদ্রোহ’ দমাতে ছাত্রদলে ৭৬২ সদস্যের কমিটি

প্রকাশিত: ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৬

সিলেট জেলা ও নগর কমিটি: ‘বিদ্রোহ’ দমাতে ছাত্রদলে ৭৬২ সদস্যের কমিটি

jcd-potom১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬, শনিবার: সিলেটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্ব নিয়ে ‘বিদ্রোহ’ দমাতে জেলা ও নগরের ৭৬২ সদস্যবিশিষ্ট ঢাউস কমিটি কেন্দ্রের অনুমোদন পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদল আলাদাভাবে জেলা ও নগরের পূর্ণাঙ্গ খসড়া কমিটি অনুমোদন দিলে রাতে অনুমোদিত কমিটির তালিকা জেলা ও নগর কমিটির কাছে পৌঁছায়।

সর্বশেষ সিলেট জেলা ও নগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০০২ সালে। ৮১ সদস্যবিশিষ্ট ওই দুই কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার প্রায় নয় বছর পর ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্র থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়। ওই দিন থেকে সিলেট ছাত্রদলে বিদ্রোহ দানা বাঁধে। সেই বিদ্রোহ দমাতে দুই বছর পর জেলা ও নগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন পেল কেন্দ্রের।

জেলা ও নগর ছাত্রদলের সভাপতি যথাক্রমে সাঈদ আহমদ ও নুরুল আলম সিদ্দিকী কেন্দ্রের অনুমোদন পাওয়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি হস্তগত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঢাউস কমিটি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তাঁরা বলেন, সব স্তরের নেতাদের স্থান দিতেই সিলেটে ছাত্রদলের ইতিহাসে এবারই প্রথম সর্বাধিক সদস্যসংখ্যক কমিটি কেন্দ্রের অনুমোদন পেয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, ছাত্রদল সিলেটের বড় ছাত্র রাজনৈতিক দল। তাই পূর্ণাঙ্গ কমিটির আকারও বড় হয়েছে।

কেন্দ্রের অনুমোদন পাওয়া জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যসংখ্যা হচ্ছে ৩৯১ জন। এর মধ্যে সহসভাপতি পদে রয়েছেন ৩০ জন, যুগ্ম সম্পাদক পদে ২৪, সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদে ২৮ ও ৩০টি সম্পাদকীয় পদে ৩০ জন। এ ছাড়া তাঁদের আরও সহযোগী করা হয়েছে ৬০ জন। অন্যরা জেলার কার্যকরী সদস্য।

একইভাবে ৩৭১ সদস্যের নগর কমিটিতে সহসভাপতি পদে রয়েছেন ২৯ জন। যুগ্ম সম্পাদক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদে ২৯ জন করে মোট ৫৮ জন। এ ছাড়া ৩০টি সম্পাদকীয় পদে ৩০ জন ও সহকারী পদে ৬০ জন রয়েছেন। অন্যরা কার্যকরী কমিটির সদস্য।

সংগঠন সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০০২ সালের জুনে ছাত্রদলের নগর ও জেলার ৮১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করা হয়েছিল। তিন বছরমেয়াদি এ কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের নগর কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাঈদ আহমদকে জেলার সভাপতি, রাহাত চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক ও নগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিদ্দিকীকে নগর কমিটির সভাপতি এবং আবু সালেহ মো. লোকমানকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে আট সদস্যবিশিষ্ট নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্র থেকে ছয় মাসের মধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও নগরের ওয়ার্ড শাখাগুলোর সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই নতুন নেতৃত্বে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়নি অভিযোগে বিদ্রোহ দানা বাঁধে। ওই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন জেলা সভাপতি সাঈদ আহমদকে নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় একটি বাসায় অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। সেই থেকে ‘বিদ্রোহী ছাত্রদল’ ও ‘নতুন নেতৃত্বের ছাত্রদল’—এই দুই ভাগে প্রায় ছয় মাস তৎপরতা চলে। এ সময় দুই পক্ষে একাধিক সংঘর্ষের জেরে পাল্টাপাল্টি মামলা হওয়ায় জেলা সভাপতি সাঈদ আহমদ জেলও খাটেন।

এ অবস্থায় কেন্দ্র থেকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের আশ্বাস দেওয়া হলে বিদ্রোহ পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। দুই বছরের মাথায় জেলা ও নগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আকার ঢাউস করার মধ্য দিয়ে সেই বিদ্রোহ সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে ছাত্রদলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অপূর্ণাঙ্গ কমিটির মাধ্যমে ১৮ সেপ্টেম্বর দুই বছর পূর্ণ হওয়ার দিন সামনে রেখে গত ২৬ আগস্ট পদবঞ্চিত ১১ নেতা কেন্দ্রে ‘কেন্দ্রের প্রতি আকুল আবেদন’ শীর্ষক একটি বিবৃতি দেন। তাতে সিলেটে ছাত্রদলকে বাঁচাতে নতুন কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিদাতা এই ১১ নেতাই জেলা ও নগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বলে জানান জেলা সভাপতি সাইদ আহমদ। তিনি বলেন, ‘সেই বিদ্রোহ ছিল পদবঞ্চিত হওয়া নিয়ে। আশা করি সবাই এখন নেতৃত্বে স্থান পাওয়ায় সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজে এককাট্টা হবেন।’