সিলেট নগরীতে র‌্যাবের অভিযানে তিনটি চোরাইগাড়ি উদ্ধার, ডা. রাব্বীসহ আটক ৪ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেট নগরীতে র‌্যাবের অভিযানে তিনটি চোরাইগাড়ি উদ্ধার, ডা. রাব্বীসহ আটক ৪

প্রকাশিত: ৭:২৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৬

সিলেট নগরীতে র‌্যাবের অভিযানে তিনটি চোরাইগাড়ি উদ্ধার, ডা. রাব্বীসহ আটক ৪

cara photo৩০ আগস্ট ২০১৬. মঙ্গলবার: সিলেটে চোরাইগাড়ি ক্রয়-বিক্রয় ও প্রতারণার অভিযোগে এক চিকিৎসকসহ চারজনকে আটক করেছে র‌্যাব। রোববার (২৮ আগস্ট) থেকে সোমবার (২৯ আগস্ট) পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

আটক ডা. ফাহমী ইকবাল রাব্বী (৩৮), সিলেট নগরীর নয়াসড়ক বিহঙ্গ ২২/এ আনোয়ারা মতিন ভিলার মৃত আবদুল মুছাব্বিরের ছেলে ও সিলেট নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক।
এ ছাড়া আটক অন্যরা হলো, ডা. রাব্বীর সহযোগী নগরী সংলগ্ন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মৃত আব্দুল মোতালিবের ছেলে রুমেল আহমেদ (৩৫), নগরীর আম্বরখানা বড়বাজার এলাকার মো. ইলিয়াসুর রহমানের ছেলে মো. ইমাদুর রহমান রাফি (২৮) ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার দড়া গ্রামের মোজাহিদ আলীর ছেলে মো. শাহআলম মুন্ন(২৬)।
অভিযানকালে র‌্যাব সদস্যরা তাদের হেফাজতে থাকা ৩ টি গাড়ী উদ্ধার করে।
র‌্যাবের অনুসন্ধানে ডা. রাব্বীর কীভাবে সহজেই ডাক্তারদের কমিউনিটিতে চোরাই গাড়ি বিক্রি করার চাঞ্চল্যকর তথ্য। পরবর্তীতে অসংখ্য ক্রেতাকে প্রতারনার চক্রে ফেলেন। ডা. রাব্বী অন্ততঃ ১৫/২০ জন নামি-দামি ব্যক্তির নিকট থেকে টাকা নিয়ে গাড়ী দেননি।
এছাড়াও গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিলেও প্রত্যাশিত ব্র্যান্ডের গাড়ী না দিয়ে কম মূল্যের গাড়ি দিয়ে আপাতত চালানোর পরামর্শ দিয়ে সটকে পড়েন।
এরইমধ্যে ডা. ফজলুল হক ও আব্দুস সামাদ তার বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন।
র‌্যাব জানায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম হতে চোরাইকৃত গাড়ীসমূহ ব্রাক্ষণবাড়িয়া হতে শুভ ও রুমেল নিয়ে এসে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করত। কোন কোন ক্ষেত্রে ডাক্তার রাব্বীর নিজস্ব শো-রুমে গাড়ীগুলো রেখে বিক্রয় করতেন। মুন্না, রাফি, নওশাদ, ও মনসুর কার চোরাই দলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
এরা চোরাইকৃত গাড়ী বিভিন্ন পন্থায় কাগজপত্র তৈরী করে বিক্রয় করে। গাড়ী চোরদের সাথে শো-রুম ব্যবসায়ীদের ভাল সম্পর্কের সুবাদে অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্ত স্থানেই তারা গাড়ি কেনা বেচা করেছে।
ডাক্তার রাব্বীর তথ্যমতে, কাজীটুলায় পরিত্যাক্ত অবস্থায় একটি গাড়ী ২৯ আগষ্ট সকালে উদ্ধার করে র‌্যাব।
এছাড়া ডা. রাব্বী কর্তৃক বিক্রিত আরেকটি গাড়ী কাগজপত্র ছাড়া ২৮ আগষ্ট সন্ধ্যায় মীরের ময়দান এলাকা থেকে উদ্ধার করে র‌্যাব।
ডা. রাব্বীর প্রতারণার শিকার হয়েছেন ডাক্তার রানা (২৩ লাখ টাকা), ডা. ফজলুল হক(১৫ লাখ), ডা. হেলাল (৫ লাখ), ডা. মজিদ(১০ লাখ) ডা. শফি (২৫ লাখ), আব্দুস সামাদ(৩১ লাখ), নজরুল(২০ লাখ),  নকিব (১৭ লাখ), ও মাহতাবসহ (১১ লাখ) আরও অনেকে।
র‌্যাব-৯ এর সহকারি পরিচালক (এএসপি-মিডিয়া) মোহাম্মদ জিয়াউল হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে অসৎ উদ্দেশ্যে মানুষের সাথে প্রতারণা করে এসব অপরাধ করে আসছে। উদ্ধারকৃত প্রাইভেটকার তিনটি ও গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এ সংক্রান্তে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল