সিলেট নগরীর ২ লক্ষ গ্রাহক গ্যাস ব্যবহারের জন্য পাবে মিটার : এমডি হারুনুর রশীদ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেট নগরীর ২ লক্ষ গ্রাহক গ্যাস ব্যবহারের জন্য পাবে মিটার : এমডি হারুনুর রশীদ

প্রকাশিত: ৭:৪০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২১

সিলেট নগরীর ২ লক্ষ গ্রাহক গ্যাস ব্যবহারের জন্য পাবে মিটার : এমডি হারুনুর রশীদ

জুনেদ আহমদ :: জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিসন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌ. মোঃ হারুনুর রশীদ মোল্লাহ্ বলেন, সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে সিলেট নগরে সকল প্রকার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নে আমরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি জননিরাপত্তার স্বার্থে দুর্ঘটনা এড়াতে গ্যাস লাইনের উপর অবৈধ স্থাপনা থাকলে আমরা সেগুলো প্রশাসনের মাধ্যমে উচ্ছেদ করছি। সরকার অবৈধ গ্যাস সংযোগের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করছে। সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয় আমাদের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশ উন্নয়নের জোয়াড়ে ভাসছে। সেই উন্নয়নের ধারবাহিকতায় সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় সিলেট নগরের ২ লক্ষ গ্রাহক পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে প্রি-প্রেইড মিটার । প্রথম অবস্থায় আমরা ৫০ হাজার গ্রাহকদের এই মিটার দিয়ে আমাদের কার্যক্রম শুর করবো। প্রি-প্রেইড মিটার প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে আশা করছি আমরা ২০২২ সালের প্রথম দিকে গ্রাহকদের হাতে হাতে তা পৌছে দিতে পারবো ।

রবিবার (২৯ আগস্ট) ‘Implementation of Mobile Gas Leak Detection System’ শীর্ষক কাজের শুভ উদ্বোধন শেষে ‘সিলনিউজ বিডি’র’ একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, সিলেটজুড়ে উচ্চ চাপবিশিষ্ট গ্যাস পাইপ লাইনের উপর ও লাইনঘেষে দাঁড়িয়ে আছে নানা অবৈধ স্থাপনা। গড়ে তোলা হয়েছে বহুত ভবনও। তবে এবার আর ছাড় দেবে না জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।উচ্চ চাপবিশিষ্ট গ্যাস পাইপ লাইনের ১০ ফুটের ভেতরে গড়ে তোলা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দখলকৃত ভূমি উদ্ধার করতে চূড়ান্ত অভিযান শুরু করেছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। সিলেটে উচ্ছেদ করা হবে এমন প্রায় ১ হাজার স্থাপনা। গত বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে দ্বিতীয় দফায় সিলেট নগরীর বালুচর এলাকা থেকে এ অভিযান শুরু হয়। প্রথমবার চলতি বছরের ১৬ মার্চ অভিযান শুরু হয় সিলেট শাহপরাণ থানাধীন ইসলামপুরে মোহাম্মদপুর নূরপুর আবাসিক এলাকা থেকে।সিলেটে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিসন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড এর এমডি হারুনুর রশিদ মোল্লা নের্তৃত্বে অভিযান চলছে। উত্তর বালুচরের কবির খাঁনের ৩য় তলা বিল্ডিং ভাঙার মধ্য দিয়ে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে বৃহস্পতিবার সারা দিনে বালুচর, মেজরটিলা-ইসলামপুর পর্যন্ত ৮/১০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও দখলমুক্ত করা হয় কয়েক শতক ভূমি।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট অঞ্চলে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উচ্চ চাপসম্পন্ন সঞ্চালন লাইনের উপরে ও পাশে প্রায় ১ হাজার অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় আড়ই শ স্থাপনা চিহ্নিত করা গেছে। এসব স্থাপনা উচ্ছেদে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে অভিযান চালাচ্ছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। গত ১৬ মার্চ প্রথম দফায় শাহপরাণ থানাধীন ইসলামপুরে মোহাম্মদপুর নূরপুর আবাসিক এলাকা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে সিলেট নগরীতে দ্বিতীয় দফায় চালানো হচ্ছে উচ্ছেদ অভিযান। দিনভর অভিযানে ৮-১০টি অবৈধ স্থাপনা ভেঙেছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে দুই-তিন তলা ভবন ও টিনশেড আধাপাকা ঘরও রয়েছে। এছাড়াও পাইপ লাইনের পাশের দখলকৃত কয়েক শত ভূমিও উদ্ধার করা হয়েছে। গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১২০টি বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।অধিগ্রহণকৃত ভূমিতে স্থাপিত বসবতবড়ি উচ্ছেদ সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যসচিব ও জালালাবাদ গ্যাসের উপ-মহা ব্যাবস্থাপক আমিরুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী গ্যাস সঞ্চালনের প্রধান পাইপ লাইনের উভয় পাশে ১০ ফুট করে মোট ২০ ফুটের মধ্যে কোনো স্থাপনা থাকতে পারবে না। গত মার্চ মাসের আগে ১০ ফুটের মধ্যে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ভবন ও স্থাপনার মালিক এবং অবৈধভাবে ভূমি দখলকারীদের বার বার নোটিশ দেয়া হয়েছে। কিছু মানুষ স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে নেন এবং দখলকৃত জায়গা ছেড়ে দেন। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ নির্দেশ অমান্য করেছেন। তাই আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে।তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ৮-১০ টি ও গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১২০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রায় এক হাজার এমন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। সিলেটের অন্যতম বৃহৎ আবাসন প্রতিষ্ঠান দি ম্যান অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের ‘গার্ডেন টাওয়ার’। চারটি বহুতল ভবন নিয়ে এই টাওয়ারে গ্যাসের সংযোগ ১৯৫টি। ভবনে ১১২টি গ্যাস–সংযোগের আবেদন করে ১৯৩টি সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছিল। অবৈধভাবে ৮১টি সংযোগ ব্যবহার করায় আমরা সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিসন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড । আবারও সিলেটের অন্যান্য বাসা-বাড়ীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও বিচ্ছিন্ন অভিযান চলছে।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল