সিলেট নগর: উল্টো পথে মোটরসাইকেল – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেট নগর: উল্টো পথে মোটরসাইকেল

প্রকাশিত: ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৭

সিলেট নগর: উল্টো পথে মোটরসাইকেল
সিলেটে ব্যস্ত সড়কে িনয়ম ভেঙে উল্টো পথে চলছে মোটরসাইকেল। এতে দেখা দিচ্ছে যানজট। ছবিটি গত রোববার দুপুরে নগরের আম্বরখানা-চৌহাট্টা সড়ক থেকে তোলা

সিলেটের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে উল্টো পথে অহরহ চলছে মোটরসাইকেল। প্রকাশ্যে ট্রাফিক আইন অমান্য করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা। মহানগর পুলিশের ট্রাফিক শাখা জানিয়েছে, উল্টো পথে মোটরসাইকেলসহ যেকোনো যান চালানো পুরোপুরি বেআইনি। এতে যানজটও তীব্র আকার ধারণ করছে। শিগগির আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, দরগাগেট, আম্বরখানা, মদিনা মার্কেট, নতুন মেডিকেল রোড, রিকাবীবাজার, লামাবাজার এলাকায় অনেকেই উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। এসব এলাকার অধিকাংশ স্থানে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও সাইকেল আরোহীর বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জিন্দাবাজার এলাকায় উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালাতে দেখা গেল দুজন আরোহীকে। হাতের ইশারায় তাঁদের থামিয়ে উল্টো পথে চলার কারণ জিজ্ঞেস করলে তাঁরা জানান, অনেকেই যাচ্ছেন, তাই তাঁদের দেখাদেখি তাঁরাও যাচ্ছেন। এ ছাড়া উল্টো পথে গেলে যানজটের কবল থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়া যায়। তাই তাঁরা বেআইনি জেনেও উল্টো পথে চলছেন বলে স্বীকার করেন।
নাগরিক জোট সিলেটের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল কাইয়ূম বলেন, উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালানোর ঘটনাটি সিলেট নগরে যেন নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষই এমনটি করছেন। উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে যানজটও তীব্র হচ্ছে। এটি রোধ করতে ট্রাফিক পুলিশের কড়াকড়ি নিয়ম আরোপ করা প্রয়োজন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজ দিয়ে রিকশা ছাড়া সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকলেও সেখান দিয়ে অহরহ নানা ধরনের যান চলছে। সময় বাঁচানোর জন্য প্রশাসনের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও এ সেতু দিয়ে সরকারি যানবাহন নিয়ে যাতায়াত করায় প্রায়ই যানজট দেখা দেয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, উল্টো পথে চলাচলের নিয়ম না থাকলেও অনেককে এ নিয়ম মানতে দেখা যায়নি। প্রশাসন, পুলিশ, সাংবাদিকসহ সমাজের সচেতন ও গুরুত্বপূর্ণ অনেক মানুষকেও এ ধরনের অনিয়ম করতে দেখা যায়। এটি একেবারেই দুঃখজনক। আবার এভাবে যান চলাচল করলেও পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক পুলিশকে কোনো ব্যবস্থা নিতেও দেখা যায় না। তিনি আরও জানান, নগরের বন্দরবাজার-জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা সড়কটি ওয়ানওয়ে থাকলেও এ নিয়ম চালকেরা মানছেন না। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস—সব ধরনের যানই চলাচল করছে। এর বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হলে নগরবাসী গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে প্রতিদিন সৃষ্টি হওয়া যানজট থেকে অনেকটাই রক্ষা পাবে।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) তোফায়েল আহমদ বলেন, ট্রাফিক পুলিশ সচরাচর মোড়ে দায়িত্ব পালন করে থাকে। তাই অনেক সময় পুলিশের অগোচরেই মোটরসাইকেল আরোহী কিংবা অন্য যানবাহনের চালকেরা উল্টো পথে চলে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে। তবে কোনো যান যেন উল্টো পথে না চলতে পারে, সে জন্য শিগগির অভিযান পরিচালনা করা হবে। কাউকেই উল্টো পথে চলতে দেওয়া হবে না।