সিলেট নগর: ঝিরঝির করে আসে পানি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেট নগর: ঝিরঝির করে আসে পানি

প্রকাশিত: ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৬

সিলেট নগর: ঝিরঝির করে আসে পানি

sylhetসিলেট নগরের রায়নগর এলাকা। বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে বসে সবজি কাটছেন আর বিড়বিড় করছেন এক গৃহিণী। ফটকের ঠিক পাশেই একটি পানির কল। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে সে কল দিয়ে ঝিরঝির করে পানি পড়তে শুরু করে। দেখতে পেয়ে ওই গৃহিণী ছুটে এসে সেখানে একটি পানির পাত্র রাখলেন। চোখেমুখে তাঁর স্পষ্ট বিরক্তি।
সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মাজেদা খাতুন নামের ওই গৃহিণীর বিরক্তির কারণ জানতে চাই। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আর বইলেন না। প্রতিদিন পানির সমস্যা লেগেই থাকে। সিটি করপোরেশনের লাইনের পানি কখন আসে, তার ঠিকঠিকানা নেই। ঠিকমতো পানি না এলে গৃহস্থালির কাজ সামলে ওঠা সম্ভব হয় না। অনেক সময় গোসল না করেই স্বামীকে অফিসে ও বাচ্চাদের স্কুলে যেতে হয়।’
রায়নগর এলাকা ছাড়াও গতকাল সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা নগরের মিতালী, টিলাগড়, যতরপুর ও দরগামহল্লা ঘুরে একই চিত্র দেখা গেল। এসব এলাকার অন্তত ১৭ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয়। প্রত্যেকের অভিন্ন বক্তব্য, পানি সরবরাহের নির্দিষ্ট কোনো সময় না থাকায় গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আর যেটুকু সময় পানি সরবরাহ করা হয়, সেটাও ঝিরঝির করে পড়ে।
পাঁচ এলাকার পাঁচজন গৃহিণী বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক পানিও সরবরাহ করতে পারছে না সিটি করপোরেশন। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত পাম্প হওয়ায় প্রায়ই সেসব অকেজো হয়ে পড়ে। এতে মাসে অন্তত কয়েক দিন পানি সরবরাহ বন্ধ থাকে।
যতরপুর এলাকার গৃহিণী আমেনা আক্তার বলেন, ‘কোনো সময় সকালে, আবার কোনো সময় বিকেলে এক থেকে দেড় ঘণ্টা করে পানি দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে আর কতটুকুই পানি সংগ্রহ করে রাখা যায়?’
সিলেট নগরের অন্যান্য এলাকার তুলনায় সুরমা নদীর উত্তর অংশের রায়নগর, মিতালী, টিলাগড়, যতরপুর ও দরগামহল্লা—এই পাঁচ এলাকায় পানিসংকট একটু বেশি বলে স্বীকার করেছেন সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ শাখার এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, ৫টি এলাকায় ৫০ লাখ লিটার চাহিদার বিপরীতে সিটি করপোরেশন সরবরাহ করতে পারছে ২০ থেকে ২৫ লাখ লিটার পানি। এসব এলাকায় পানির উৎপাদন সাপেক্ষে এক থেকে দুই বেলা অন্তত দুই ঘণ্টা করে পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
চাহিদার তুলনায় নগরের এই পাঁচ এলাকায় পানির সরবরাহ অপর্যাপ্ত বলে স্বীকার করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানও। তিনি বলেন, ‘অপর্যাপ্ত হলেও পানির তীব্র সংকট—এটি বলা যাবে না। বিদ্যুৎসহ নানা সমস্যার কারণে প্রতিদিন একই সময়ে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। তবে যথাসম্ভব সকাল-বিকেল দুই দফা পানি সরবরাহের চেষ্টা করি। ভবিষ্যতে এসব এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা থাকবে।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল