সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট: নানা সমস্যা ও অনিয়ম – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট: নানা সমস্যা ও অনিয়ম

প্রকাশিত: ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০১৮

সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট: নানা সমস্যা ও অনিয়ম

মো.নাঈমুল ইসলাম: গৌরব ও সনামধন্য প্রতিষ্টান সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এখন বিরাজ করছে নানামুখী অবস্থা। অধ্যয়ণরত শিক্ষার্থীদের দাবি কলেজটি এখন নিরাপওাহীন, মাদক, হোস্টেলসহ নানা সমস্যার বেড়াজাল। একাধিক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, আমরা ছাএ শিক্ষক সবাই নিরাপওা নিয়ে শংকিত থাকি। জানা গেছে সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ হিসেবে যিনি নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালকের দায়িত্ব পালনের অঘোষিত রেওয়াজ চালু রয়েছে। জানা গেছে উক্ত কলেজের অধ্যক্ষকে ঘিরে পরিচালিত হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সিলেটের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান তিনটি হচ্ছেঃ সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়। তিনটি প্রতিষ্ঠানেরই দায়িত্বে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ড. মো. আব্দুল্লাহ। মূলত তিনি সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ। মূল দায়িত্বের বাইরে তিনি বাকি দুটি প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। এ কারণে তিনটি প্রতিষ্ঠানেই বিরাজ করছে লেজে গোবরে অবস্থা। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধ্যক্ষের নিজের প্রতিষ্ঠান সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে নিরাপত্তাহীনতা, মাদকসহ নানা সমস্যার কথা জানান শিক্ষার্থী, অভিবাবক ও স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, কলেজ থেকে মাইগ্রেশন করতে এবং ট্রান্সফারের অনুমতি পত্র নিতে হলে নেতাদের ‘টাকা’ দিতে হয়। অধ্যক্ষ পর্যন্ত তাদের সমীহ করে চলেন। সেই শিক্ষার্থী জানায়, ‘ট্রান্সফারের অনুমতি পত্রে অধ্যক্ষ স্বাক্ষর করলেও টাকা দিতে হয় নেতাদের। অধ্যক্ষ স্বাক্ষর দিয়ে পরে বলে দেন কেউ যেনো না দেখে।’ কলেজের অডিটোরিয়াম থাকলেও বিশেষ দিনে কোনো প্রকারের অনুষ্ঠান’র আয়োজন করা হয় না বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন শিক্ষার্থী। এমনকি তারা আরো মন্তব্য করেছেন বার্ষিক কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনও করা হয় না এই কলেজে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ রাজনৈতিক পরিবেশে শিক্ষা অর্জন করতে গিয়ে দেখা যায় ক্ষমতাসীন ছাত্রদের কলেজের অধ্যক্ষ, স্যাররাও পর্যন্ত ভয় পান। তাদের মধ্যে কেউ একজন যদি ড্রপও হয় তাহলে স্যাররা তাদের ভয়ে সেই ড্রপকেও পাশে পরিণত করে দেন। তাদের মধ্যে ক্ষমতার এতোই মনোভাব চলে আসে তারা নিজেকে কলেজের শীর্ষ চাঁদাবাজেও পরিণত করে তুলে। একজন সাধারণ ছাত্রকে তারা পরীক্ষার হলে স্যারের সামনে ধমকায় তখন স্যারকে দাড়িয়ে তাকানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। একটি সাধারণ ছাত্রকে যখন কলেজ থেকে কোনো সার্টিফেকেট নিয়ে বের হতে হয় তখন কলেজের স্যাররা আগে আগেই বলে দেন কাগজটা লুকিয়ে নিয়ে বের হইয়ো না হলে সমস্যা হতে পারে। সমস্যা বেশি কিছু না ঐতো বাহিরে গেইটে চাঁদাবাজরা দাড়িয়ে আছে তাদেরকে কিছু টাকা দিলে আপনি সুরক্ষিতভাবে কাগজ নিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবেন।” শিক্ষার্থীরা বলেন, এই কলেজে পড়ালেখা করতে গিয়ে কতো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। শহীদ মিনারে বসা, পুকুর পাড়ে বসা নিয়েও আমাদের অনেক সমস্যা হয়। তারা আরো বলেন, কলেজের গেইটের পাশে স্থানীয়দের “দেবা উদ্যান” নামে একটি জায়গা রয়েছে যেখানে ক্ষমতাসীনরা সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে ডেঁকে নিয়ে তাদের চাল-চলন, আচার, ব্যবহার পোশাক-আশাক সম্পর্কে বিভিন্ন খারাপ মন্তব্য করে। পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নেই বললেই চলে, ক্লাস রুমে ফ্যান, লাইট থাকলে তা ঠিক মতো চলে না। সেই সব শিক্ষার্থীদের দাবি পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে কলেজের বারান্দা, রাস্তায়, শৌচালয়ে শিক্ষার্থীদের চাইতে নকল বেশি বিরাজ করে। ব্যবহারিক ক্লাসে একজন শিক্ষকের পক্ষে সব শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাদের দাবি পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব রয়েছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। বিকেল শিফটের শিক্ষার্থীদের দাবি প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় আমাদেরকে হিনমন্যতায় ভুগতে হয়। সকাল শিফটের শিক্ষকদের দিয়ে আমাদের ক্লাস নেয়া হলে শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস নিতে পারেন না তারা অনেক সময় হাপিয়ে পড়েন। এদিকে ইন্সটিটিউটের একমাত্র ছাত্রী হোস্টেলটি দীর্ঘদিন থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। জঙ্গলাকীর্ণ হোস্টেলটি এখন শাপ বিচ্ছুর আবাস। অপরদিকে ঐতিহাসিক প্রতিভা হোস্টেলটিও এখন পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। হোস্টেলটির দরজা-জানালা চুরি হয়েছে অনেকদিন আগেই। পানির পাইপ, টেপ, বিদ্যুৎ লাইন কোনো কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। পরিত্যক্ত ভবনটি এখন মাদক সেবন ও জুয়ার নিরাপদ আঁস্তানায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পরে এই পথে যেতেই ভয় করে। মাদকসেবন, জুয়া, অসামাজিক কাজের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে ছাত্রবাসটি। তারা বলেন, এই ছাত্রবাসের একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় দক্ষিণ সুরমার এই ছাত্রবাস থেকে শিক্ষার্থীরা নগরীতে মিছিল মিটিং করেছে। সেই ছাত্রবাসের এই অবস্থা খুবই দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। এ সব বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে পত্রিকা থেকে অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ড. মো. আব্দুল্লাহর সাথে দফায় দফায় যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে যোগাযোগ করতে নাকচ করে দেন। উনাকে ফোন দেয়া হলে পত্রিকার পরিচয় পেলে ফোন কেটে দেন। অনেক শিক্ষাবীদ এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন তাদের মধ্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ ও কুমিল্লা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল আজিজ বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে অবহেলা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত সুদৃষ্টি কামনা করেন।
প্রতিবেদক:
মো.নাঈমুল ইসলাম
সাংবাদিক, লেখক, কলামিস্ট ও সংগঠক।