পুলিশের এসি সাজ্জাদ শিবির ক্যাডার – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

পুলিশের এসি সাজ্জাদ শিবির ক্যাডার

প্রকাশিত: ১:৪১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৬

পুলিশের এসি সাজ্জাদ শিবির ক্যাডার

ASC৩০ আগস্ট ২০১৬. মঙ্গলবার: সিলেট শাহপরান থানা’র এসি সাজ্জাদকে প্রত্যাহার না করলে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষার,তিনি মঙ্গলবার তার নিজ ফেসবুক  অ্যাকাউন্টে এসি সাজ্জাদকে পত্যাহার না করলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন।তুষার তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এসি সাজ্জাদকে ছাত্রলীগ কর্মীর আতঙ্ক উল্লেখ করে বলেন এসি সাজ্জাদ একসময় শিবির ক্যাডার ছিলেন,তাই তিনি বর্তমানে ছাত্রলীগ কর্মীদের দমন নিপিড়নের কাজে ব্যস্ত।

আব্দুল আলীম তুষারের স্ট্যাটাস হুবুহ তুলে ধরা হল….

“সিলেটে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীর আতংকের নাম শাহপরান থানার এসি সাজ্জাদ|জানাগেছে এসি সাজ্জাদ সাবেক ছাত্রশিবিরের ক্যাডার ছিলেন|বর্তমানে সিলেট শহরে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের দমন নিপিড়নের কাজে  ব্যস্ত এসি সাজ্জাদ|জামাত বি এন পির এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী এসি সাজ্জাদকে  সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা না হলে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে”

এছাড়াও এসি সাজ্জাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে থানায় আটক রেখে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।এসি সাজ্জাদের বিরুদ্ধে গত 24 জুন 2016 শুক্রবার বাংলাদেশের একটি জাতীয় পত্রিকা ‘মানবজমিন’ ওসি এসির আতংকে শাহপরান থানা শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ করে,পত্রিকাটি দাবি করে এসি সাজ্জাদ নিরীহ মানুষকে আটক করে বড় অংকের চাঁদা দাবি করেন।

পাঠকদের সুবিধার্থে মানবজমিন প্রকাশিত নিউজটি হুবুহ তোলে ধরা হল…

‘থানার নাম শাহপরান, ওসির নাম শাহজালাল। থানার ওসি শাহজালাল মুন্সি একে বাঁধছেন, তাকে ছাড়ছেন, বিনা অভিযোগে কাউকে থানায় আটকে রাখছেন ৪০ ঘণ্টা। তাকে শক্তি যোগাচ্ছেন সহকারী কমিশনার (এসি) সাজ্জাদ হোসেন। এসি-ওসির যুগলবন্দিতে শাহপরান থানা হয়ে উঠেছে এক আতঙ্কের নাম। এসি-ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। অভিযোগ আছে এ রমজান মাসেই বেশ কয়েকজনকে বিনা অভিযোগে শাহপরান থানায় আটকে রেখে পরে সমঝোতার মাধ্যমে তাদের মুক্তি দেয়ার। ‘স্বপ্নতরী’ বহুমুখী সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান সিলেট নগরীর সোনারপাড়ার বাসিন্দা ফয়েজ উল কয়েসকে বিনা অভিযোগে ৪০ ঘণ্টা থানায় আটকে রেখে পরে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মুক্তি দেয়া হয়। মানবজমিনের কাছে রেকর্ড থাকা বক্তব্যে ফয়েজ উল কয়েস বলেন, ৬ই জুন রমজানের প্রথম রাতে সেহরির আগ মুহূর্তে এসি সাজ্জাদ হোসেন ও ওসি শাহজালাল মুন্সির নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পরে তারা তার ছোট ভাই রেজাউল হোসেন রাজুকেও থানায় ডেকে নিয়ে আটক করে। ৪০ ঘণ্টা আটকে রাখার পর  ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে জিডি বইয়ের সাদা পৃষ্ঠায় ও কয়েকটি সাদা কাগজে দস্তখত রেখে ৮ই জুন সন্ধ্যায় তাদের মুক্তি দেয়া হয়। আটক করে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ রয়েছে শাহপরান থানার ওসি শাহজালাল মুন্সির বিরুদ্ধে। ৯ই জুন সেহরির পর শাহপরান মাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে পুলিশ আটক করে জনৈক আলী হোসেনকে। দুই দিন থানায় আটকে রেখে তাকে ডাকাতি মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তার বাবার কাছ থেকে আদায় করা হয় ৬৫ হাজার টাকা। ১০ই জুন পাভেল ও সাজন নামের দুজনকে আটক করে শাহপরান থানায় আটকে রাখা হয় দুদিন। পরে ৫৮ হাজার টাকার বিনিময়ে মুক্তি মেলে তাদের। ১৪ই জুন বিনা অভিযোগে আটক করা হয় শাহপরান গেট এলাকার মদিনা ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী জাবেদ আহমদকে, টাকা দাবি করা হয় তার কাছেও। জানতে পেরে স্থানীয়রা থানা ঘেরাও করলে মুক্তি দেয়া হয় জাবেদ আহমদকে। এ সময় এসি সাজ্জাদ হোসেন স্থানীয়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করেন।

ওসি শাহজালালের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝুলি যেন খালি হবার নয়। নগদ লাভের বিনিময়ে বিভিন্ন ‘গল্পে’ নিরীহ লোকদের ফাঁসানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনই এক অভিযোগ তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাবুল মিয়ার, যিনি শাহপরান থানার একটি অপহরণ মামলার আসামি। বাবুল মিয়ার অভিযোগ, শাহপরান থানার ওসির যোগসাজশেই তাকে ফাঁসানো হয়েছে সাজানো অপহরণ মামলায়। ৪ঠা জুন ছিল তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। সে নির্বাচনে ১নং ওয়ার্ডে সদস্য পদে প্রার্থী ছিলেন বাবুল মিয়া। দক্ষিণকুল গ্রামের বাসিন্দা বাবুল মিয়ার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে ফাজিলপুর গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে মো. ফয়সলের। বাবুল মিয়াকে নির্বাচন থেকে সরাতে ফয়সল শাহপরাণ থানার ওসির যোগসাজশে অপহরণের নাটক সাজান-এমনটিই অভিযোগ বাবুল মিয়ার। শাহপরাণ থানায় মামলা (নং-১, তারিখ-৩-৬-২০১৬) হলেও ঘটনাস্থল দেখানো হয় এয়ারপোর্ট থানাধীন ধোপাগুলকে। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়।

এর মধ্যে ১ ও ৫নং আসামি স্থানীয় পরিচয়ধারী হলেও ২, ৩ ও ৪নং আসামি হিসেবে রয়েছেন বাবুল মিয়া ও তার দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন তার চাচাতো ভাই। পুলিশ পরে বাবুল মিয়ার ভাই জয়নাল ও চাচাতো ভাই রতি মিয়াকে সুনামগঞ্জ আদালতের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে। যারা দুজনে ফয়সলেরই এক ভাইয়ের দায়ের করা একটি মামলায় জামিন নিয়ে  আদালত থেকে বের হয়েছিলেন। সুনামগঞ্জ থেকে আটক করা হলেও জয়নাল ও রতি মিয়াকে সিলেটের আদালতে প্রেরণের সময় এ বিষয় কৌশলে গোপন রাখেন ওসি শাহজালাল। সিলেটে আসার আগে দীর্ঘদিন সুনামগঞ্জের ছাতক থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন শাহজালাল মুন্সি। সেখানেও তিনি অসংখ্য কীর্তি রেখে এসেছেন। ২০১৪ সালে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল। পরে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়েই ছাতক থানা থেকে বদলি হতে হয় ওসি শাহজালাল মুন্সিকে। ওসি শাহজালাল মুন্সি গতকাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ‘ঊর্ধ্বতনরা যাই বলেন আমরা তাই পালন করি। যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করি ন্যায়বিচার করতে।’ এর বেশি কিছু মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে সহকারী কমিশনার থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে এরকম অভিযোগ খুব কমই লক্ষ করা যায়। কিন্তু এসি সাজ্জাদ ট্রেনিং থেকে ফিরে শাহপরান থানায় যোগ দিয়েই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তার কর্মকাণ্ডে পুলিশের অনেক কর্মকর্তাই বিব্রত।’

এদিকে ছাত্রলীগ ছাড়াও শাহপরান থানার এসি সাজ্জাদের কর্মকাণ্ডে আওয়ামীলীগ’র অনেক নেতৃবৃন্দ অসন্তুষ্ট বলে জানা গেছে।

দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের মনে সাজ্জাদ আতঙ্কে দিন কাটছে বলে খবর পাওয়া যায়,আইনের একজন প্রভাবশালী লোক হওয়ায় এসি সাজ্জাদের বিরুদ্ধে অনেকেই মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল