সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে মৃত্যুঝুঁকি বেড়েছে – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে মৃত্যুঝুঁকি বেড়েছে

প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০১৬

সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে মৃত্যুঝুঁকি বেড়েছে

sorok dorgotonaশেখ কামরুল হাসান সাহান: এক সপ্তাহের বাড়তি চাপে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে গেছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে। গেল কয়েক দিন ধরে শেরপুর সড়ক বন্ধ। বিকল্প হিসেবে ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক ব্যবহৃত হচ্ছে। আর এই সময়ের মধ্যেই ছোট-বড় ১০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে করে ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে শঙ্কা বাড়ছে। সড়কের আশপাশে প্রায় ৪-৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে এ সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থীরা এখন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। এছাড়া এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনের সড়কেও কোনো ডিভাইডার নেই। চালকরা এ রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর ফলে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের কদমতলী থেকে শিববাড়ী পর্যন্ত অন্তত রাস্তার ওপর ১০টি ডিভাইডার দেয়া অত্যন্ত জরুরি হয়েছে। তাই অতিদ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা। বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের মোগলাবাজার থানার সামনে দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কেউ হতাহত না হলেও সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে দীর্ঘ যানজট লেগে ছিল। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা এমন তথ্য জানিয়েছেন। মোগলাবাজারের ব্যবসায়ী নানু মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে মোগলাবাজার থানার সামনে দুটি ট্রাকে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এর পর থেকে সিলেট ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট লাগে। বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট ছিল। এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে মোমিনখলা স্টার লাইট একাডেমির সামনে একটি কাভার্ডভ্যান গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি রেন্টিগাছ ও একটি মিনি টংয়ের চা’র দোকানে উঠে পড়ে। পরে ট্রাকটি অপসারণ করে নেয়া হয়। কদমতলী থেকে শিববাড়ী পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে প্রায় ৫শ’ মতো ওয়ার্কশপ রয়েছে। তারা রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে ট্রাকের ইঞ্জিনের মেরামত করছে। এতে যানচলাচলে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চালকরা ঝুঁকি নিয়ে অভার টেকিং করে গাড়ি বেপরোয়া চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এ সড়কে দুর্ঘটনা দিনদিন বাড়ছে। ভোলাগঞ্জ, জাফলং, কোম্পানীগঞ্জ থেকে বড় বড় ট্রাক পাথর বুঝায় করে শাহজালাল ব্রিজ হয়ে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের রাস্তায় প্রবেশ করে হুমায়ুন রশীদ চত্বর হয়ে হাইওয়ে সড়কে প্রবেশ করে। ফলে একদিকে যেমন পাথর বুঝায় ট্রাকের চলাচল অন্যদিকে রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ লোকজন এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। এছাড়া হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে শিববাড়ী এলাকা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ঝুপড়ি দোকান ঘর। এসব ঝুপড়ি দোকান ঘরের পেছনে রয়েছে রেল লাইন। এতে করে ট্রেন আসলে দেখা যায় না। ফলে প্রায় সময় লোকজন ট্রেনের নিচে কাটা পড়ছে। এ সড়কে অনুমোদন ছাড়া ১৫টির মতো রেলের ওপর রাস্তা রয়েছে। ট্রেনের রাস্তা দিয়েও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।