সিলেট বিএনপি এখন দু”ভাগে বিভক্ত : বিজয় দিবসে আরিফ-মুক্তাদির দু বলয়ের শোডাউন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেট বিএনপি এখন দু”ভাগে বিভক্ত : বিজয় দিবসে আরিফ-মুক্তাদির দু বলয়ের শোডাউন

প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৬, ২০২০

সিলেট বিএনপি এখন দু”ভাগে বিভক্ত :   বিজয় দিবসে আরিফ-মুক্তাদির দু বলয়ের শোডাউন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিজয় দিবসে আরিফ-মুক্তাদির দু বলয়ের শোডাউন । রাজপথে জানান দিল সিলেট বিএনপি এখন দু”ভাগে বিভক্ত । বিজয় দিবসে বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে বিশাল শোডাউন করে তারা দেখালেন তাদের শক্তি।

দীর্ঘদিন পর বিজয় দিবসে সিলেটের রাজপথে বিএনপি’র আরিফ-মুক্তাদিরের দ্বন্ধ প্রকাশে্্য দেখল নগরবাসী । বিএনপির এক অংশের র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বেও বিজয় দিবসের কর্মসূচি পালন করেছে সিলেট জেলা বিএনপি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর ১২টায় নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠ থেকে শহিদমিনার পর্যন্ত তারা বিজয় র‌্যালি করে তারা। এ কর্মসূচিতে ছিল বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সরব অংশগ্রহণ।

বিজয় দিবসে হঠাৎ সরব হওয়া সিলেট বিএনপি নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বিজয়ের এই দিনে বিএনপি নেতা কর্মীদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শপথ নিতে হবে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার পাশাপাশি এদেশের মানুষকে মুক্ত করার জন্য আমাদেরকে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। আজ আমাদের বাক স্বাধীনতা, মৌলিক স্বাধীনতা ও অধিকার হরণ করা হয়েছে। বিজয় দিবসে আমাদের বাক স্বাধীনতা ও অধিকার ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, বিএনপি সব সময়ই গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। দেশের জনগণের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলতে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। গণতন্ত্রের মাধ্যমেই শহীদদের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে হলেও জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পায়নি। বিজয় দিবসে শহীদের শ্রদ্ধা জানাতে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসেছি। তবে এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। সরকারের দমন-নিপীড়ন সহ্য করে সব সময় রাজপথেই আছি এবং থাকবো। দেশের জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে সোচ্চার থাকবো।

এ বিষয়ে সিলেট বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, করোনাকালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকলেও ‘মানবিক সহায়তা’ কার্যক্রম নিয়ে বিএনপি সক্রিয় ছিল। নিজেদের দলীয় গণ্ডির ভেতরে নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে হয়েছে সভা। এ কারণে আগের যে দূরত্ব ছিল সেই দূরত্ব অনেকখানি কমে এসেছে। এ কারণেই বিজয় দিবসে সিলেট বিএনপি সকল নেতাকর্মীকে নিয়ে কর্মসূচি পালন করতে পেরেছে। মুক্তাদির-আরিফের নেতৃত্বে আবার সরব হয়েছে সিলেট বিএনপি। রাজপথে কর্মসূচি পালনের আগে করোনাকালে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে একাধিক সভা করেছে।

এদিকে ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে বাংলাদেশ জাতীয়দাবাদী দল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশাল র‌্যালি-শোডাউন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। র‌্যালি শেষে নেতাকর্মীদের নিয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

বুধবার সকাল ১১টায় নগরীর কুমারপাড়াস্থ মালঞ্চ কমিউনিটি সেন্টার থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারই বিজয় দিবসের শপথ। এই বিজয় দিবসে আমাদের একটাই অঙ্গীকার গণতন্ত্র উদ্ধারসহ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। দেশের জনগণের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলতে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। গণতন্ত্রের মাধ্যমেই শহীদদের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। আজকের এই দিনে আমরা স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে হলেও জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পায়নি। জনগণের অধিকার আদায়ে যেকোন আন্দোলন, সংগ্রামে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে বিএনপি নেতা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নেতৃত্বে বিজয় দিবসে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির বর্ণাঢ্য র‌্যালীতে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল কাহের শামিম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বক্ত সাদেক, মহানগর যব্দুলের আহ্বায়ক নজিবুর রহমান নজিব, স্বেচ্ছাসেবকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ফরহাদ চৌধুরী শামীম, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, মহানগর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি সামিয়া চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের জেলা আহ্বায়ক মো. শহীদ আহমদ চেয়ারম্যান, জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবি দল সিলেট জেলা আহ্বায়ক তারেক কালাম, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহনেওয়াজ বকত তারেক, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মকসুদ আহমদ, ছাত্রদল সিলেট জেলা সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন, মহানগর ছাত্রদল সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এ্যাশ, সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী হাসান, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন নাদিম প্রমুখ।

র‌্যালী পরিবর্তীতে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে পৃথক পৃথকভাবে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

অপরদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে র‌্যালি ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট আশিক উদ্দিন আহমদ, আব্দুল মান্নান, এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সৈয়দ মঈন উদ্দিন সোহেল, নাজিম উদ্দিন লস্কর, আহমেদুর রহমান চৌধুরী মিলু, ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারি রিপন, মাহবুবুল হক চৌধুরী, ইকবাল বাহার চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আহাদ উস সামাদ, ফাত্তাহ বকসী, মোস্তাক আহমদ, আলাউর রহমান, নিজাম উদ্দিন জায়গীরদার, শ্রমিকদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সোরমান আলী, কাউন্সিলর এবিএম জিল্লুর রহমান উজ্জল, আব্দুর রকিব তুহিন, রেজাউল করিম নাচন, কবীর আহমদ, আব্দুস শুকুর, আব্দুস সাত্তার মামুন, শফিকুর রহমান টুটুল, কামরুজ্জামান দিপু, আব্দুস সামাদ তুহেল, সেলিম মাহমুদ, জাসাস সিলেট জেলার সভাপতি জসীম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আহমদ রানু, মহানগরের সভাপতি মুসা রেজা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর হোসেন মজনু, সিলেট জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক শহীদ আহমদ চেয়ারম্যান, সদস্য সজিব তাজরুল ইসলাম তাজুল, আব্দুস শহীদ মাসুক, জহিরুল ইসলাম মকর, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সালেহা কবীর শেপী, সাধারণ সম্পাদক আমেনা বেগম রুমি, মহানগরের সভাপতি জাহানারা ইয়াসমিন, রেহানা ফারুক শিরীন, সাফিয়া খাতুন মনি, মহানগর শ্রমিকদলের সভাপতি ইউনুস মিয়া, সাধারণ সম্পাদক লিটন আহমদ চৌধুরী, জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুক এলাহী, সাংগঠনিক সম্পাদক খোকন আহমদ, জেলা যুবদলের সাবেক নেতা ফরিদ আহমদ, মমতাজ আহমদ মুন্না, সাহেদ আহমদ, আব্দুল খালিক, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জসীম উদ্দিন, এস ইসলাম কাদির, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এখলাছুর রহমান মুন্না, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লুৎফুর রহমান, সুমেল আহমদ চৌধুরী, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মাশরুর রাসেল, সোহেল রানা, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন শামীম, জিয়াউর রহমান জিয়া, দক্ষিণ সুরমা ছাত্রদলের মিজান আহমদ প্রমুখ।

অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট মোস্তাক আহমদ, এডভোকেট সাইদুর রহমান জুবেদ, মহানগর হকার্সদলের সভাপতি আব্দুল আহাদ, সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান খোকন, সিনিয়র সহ সভাপতি নুর ইসলাম, রেল শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন, ইমতিয়াজ হোসেন আরাফাত, রিয়াজ উদ্দিন বাদশা, সাইদুর রহমান জুবের, নজরুল ইসলাম, নাজমুল হোসেন রিপন, বাবর আহমদ, আব্দুল মান্নান, মুরাদ আহমদ, সুমন আহমদ, আজাদ আহমদ, সুবেল আহমদ, স্বাধীন আহমদ, কয়েছ আহমদ সাগর, মো. নুমান আহমদ, সুজন আহমদ, জমজম বাদশা, মাসুম আহমদ, নজির হোসেন, জহিরুল ইসলাম বাবু, আরিফ আহমদ, দিদারুল ইসলাম, কবীর মেম্বার, আনোয়ার হোসেন মানিক, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, খলিলুর রহমান খলিল, সেলিম আহমদ, আব্দুল মুকিত তুহিন, ইমন আহমদ, চৌধুরী সোবহান আজাদ, দেলোয়ার হোসেন, জহির আহমদ, আহমদ আল কবীর, বায়েজিদ আহমদ, নাহিয়া আহমদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাদিকুর রহমান সালমান, জুবের আহমদ রিপন, ওমর, জামিল, মনুসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।