সিলেট যুবদলের পুরাতন কোন্দল আবারও মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেট যুবদলের পুরাতন কোন্দল আবারও মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে

প্রকাশিত: ৮:০৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০১৮

সিলেট যুবদলের পুরাতন কোন্দল আবারও মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে

জাতীয়তাবাদী যুবদল সিলেট জেলা শাখার সর্বশেষ সম্মেলন হয়ে ছিল ২০০০ সালে। তখন কামাল আহমদ সভাপতি ও তালাত আজিজ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ফখরুল ইসলাম বাদল ও সাদিকুর রহমান সাদিক সমান সংখ্যক ভোট পাওয়াতে সমঝতার ভিত্তিতে ফখরুল ইসলাম বাদলকে যুগ্ম সম্পাদক ও সাদিকুর রহমান সাদিককে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।
২০০১ সালের প্রথম দিকে সভাপতি কামাল আহমদ ব্যাক্তিগত কারণে পদত্যাগে করিলে সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান সভাপতির দায়িত্বপান। ২০০১ সালের শেষে দিকে সাধারণ সম্পাদক তালাত আজিজ স্থায়ী ভাবে যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ায় প্রথম যুগ্ম সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন সাধারণ সম্পাদককের দায়িত্ব পান। তখন হইতে অধ্যাবদি সেই কমিটি বিদ্যমান রয়েছে। ২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা সিটি কর্পোরেশন শাখা গঠন করিলেও আদ্যবদি যুবদলের কোন কমিটি গঠন করা হয়নি।
সিলেটের যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে, অতীতে সিলেটের যুবদল বিএনপি ও ছাত্রদলের চেয়েও শক্তিশালী ছিল। কিন্ত বর্তমান দুর্বল নেতৃত্বের করণে সেই সাংগঠনিক আজকে স্থিমিতি হয়ে পড়েছে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এই তিনজনের অহংকারী, কর্তিত্ববাদী ও এ গুয়ামির কারণে যুবদলে বিভক্তি দেখা দেয়। তারা তিনজন জেলা শাখার কোন ধরনের সভা বা জেলা শাখায় অন্যদের সাথে আলোচনা না করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং থানা ও পৌর শাখার কমিটি ঘোষণা করতেন এ থেকে সিলেটের যুবদল দুই ভাগে বিভক্ত হয়। এক পক্ষের নেতৃত্বে দিতেন জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুর রহমান সাদিক অপর পক্ষে জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরী, সহ-সভাপতি সুদিপ রঞ্জন সেন বাপ্পু। এই সব কোন্দল কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় হামলা-মামলা ও ভাংচুর হয়েছে। পরবর্তিতে মাঝে মধ্যে ঐক্যবদ্ধ দেখা গেলেও বেশির ভাগ সময়ে দুই গ্রুপের পৃথক পৃথক মিছিল সমাবেশ করতে দেখা যেত।
বিগত ৫ ফেব্রুয়ারী বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সিলেট আগমনের পূর্বের দিন ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাগত মিছিল করতে দেখা গেলেও ৫ তারিখে আগমনের দিনে শুধু মাত্র ইকবাল বাহার চৌধুরীর নেতৃত্বে ব্যাপক শোডাউন করতে দেখা গেছে এবং ৮ ফেব্রুয়ারী জিয়া আরফোনেজ ট্রাষ্ট দূর্নীতি মামলায় রায়ের দিনে সিলেটের সিটি পয়েন্ট, বন্দরবাজার, জিন্দবাজার এলাকায় ইকবাল বাহার চৌধুরীর নেতৃত্বে ও যুবদলের প্রচার সম্পাদক আলী আহমদ হিরা, যোগাযোগ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলাই, অর্থ সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন মাওলা, ধর্ম সম্পাদক মামুনুর রশিদ মারুফ, সহ-ধর্ম সম্পাদক আমিনুর রহমান চৌধুরী শুয়েব, কৃষি সম্পাদক কামরুল ইসলাম নেছার, যুবদল নেতা সামছুল ইসলাম টিটু, খন্দকার আব্দুল মুমিন, মুহিবুর রহমান মুহির সহ অসংখ্যা নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে বিশাল মিছিল ও শোডাউন হয়েছে এবং পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সাথে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘঠেছে। এতে যুবদলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া গ্রেফতারের পর মাত্র ২ দিন ঐক্যবদ্ধ ভাবে মিছিল করতে দেখা গেলেও অন্যান কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে পৃথক ভাবে মিছিল করতে দেখা যায়। বিগত ১০ এপ্রিল সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে ২ গ্রুপ আলাদা মিছিল নিয়ে যোগদান করতে দেখা যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উক্ত সমাবেশে কেন্দ্রীয় যুবদলের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্তাজুল করিম বাবলু, যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান সমাবেশ শেষে বাদ মাগরিব আম্বরখানার একটি হোটেলে উক্ত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সিলেট যুবদলের বিদ্যমান পক্ষদয়কে নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠক করেন। উক্ত সভায় জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মান্নান অনুপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জেলা শাখার সভাপতির অনুপস্থিতর কারণ জানতে চাইলে উপস্থিত সিলেট যুবদলের নেতৃবৃন্দ জানান সভাপতি বিগত কয়েক বছর ধরে বিএনপির দায়িত্বশীল পদে থাকার কারণে যুবদলের কর্মসূচিতে নিস্ক্রয় রয়েছেন। তখন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সভাপতি নিস্ক্রয়তার কারণে সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুর রহমান সাদিককে দলের এই দুঃসময়ে একে অন্যের সাথে পরামর্শ করে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার নির্দেশ প্রদান করেন।
ইদানিং আবার সেই কোন্দল মাতা ছাড়া দিয়ে উঠেছে। গত ১৬ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবী করে ইকবাল বাহার চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করে এক ফেস্টুন প্রচারিত হলে। জেলা শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রদান করেন। ঐ দিনই সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরী ফেইসবুক, অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়া উক্ত ফেস্টুনের বিষয়ে অবস্থান ব্যাখ করে এর সাথে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন এবং তার সাথে কোন আলোচনা না করে প্রেসবিজ্ঞপ্তি করায় জেলা শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের সমালোচনা করেন।
সিলেট যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ আলোচনা করে জানা যায়, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হওয়ার পরে সিলেট নতুন কমিটি গঠনের তৎপরতা শুরু হলে যুবদলের পুরাতন কোন্দল তীব্র আকার ধারণ করে। যুবদলের এই ২ বলয়ের লোকজনই নতুন কমিটিতে আসতে আগ্রহী, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে বিভিন্ন অভিযোগের মাধ্যমে ঘায়েল করতে তৎপর রয়েছেন।
বিগত জেলা ও মহানগর বিএনপির নতুন কমিটিতে যুবদল দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের পক্ষের লোকজন আন্তভূক্ত হয়েছেন। এই কথা জানিয়ে ইকবাল বাহার চৌধুরীর পক্ষের লোকজন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অভিযোগ করে জানিয়েছেন যারা বিএনপির কমিটিতে চলে গেছেন তাদের কাউকে যুবদলের কমিটিতে না রাখার জন্য। এবং আব্দুল মান্নান ও মামুনের পক্ষ বলেছেন যুবদলের নতুন কমিটিতে তাদেরকে আন্তর্ভূক্ত করা হলে বিএনপির পদ থেকে তারা পদত্যাগ করবেন।
জানা যায়, বর্তমান জেলা বিএনপির কমিটিতে যুবদল সভাপতি আব্দুল মান্নান ৩য় সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন ২য় যুগ্ম সম্পাদক, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুল মালেক সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক, সদর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন জায়গীদার প্রচার সম্পাদক, শাহপরাণ থানা যুবদলের আহবায়ক হাবিবুর রহমান সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, মহানগর বিএনপিতে রয়েছেন সদর যুবদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ, শহর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শামীম মজুমদার প্রচার সম্পাদক পদ লাভ করেছেন। ইকবাল পক্ষের জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সুদিপ রঞ্জন সেন বাপ্পু মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি পদ লাভ করেছেন।
জানা যায় এই দু’গ্রুপের নতুন কমিটিতে যারা আসতে চান, আব্দুল মান্নান গ্রুপের জেলা শাখার সভাপতি পদে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নিজাম উদ্দিন জায়গীরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সদর যুবদলের আহবায়ক ও জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, মহানগর শাখার সভাপতি পদে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুর রহমান সাদিক, সদর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আজিজ, সাধারণ সম্পাদক পদে মহানগর বিএনপির প্রচার সম্পাদক শামীম মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে শহর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সাব্বির আহমদ। ইকবাল গ্রুপের জেলা শাখার সভাপতি পদে জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে ইকবাল বাহার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা যুবদলের প্রচার সম্পাদক আলী আহমদ হিরা ও জেলা যুবদলের সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আামিনুর রহমান চৌধুরী শুয়েব, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সদর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সামসুল ইসলাম টিটু। মহানগর যুবদলের সভাপতি পদে জেলা যুবদলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মামুনুর রশিদ মারুফ, সাধারণ সম্পাদক পদে যুবদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক আলাউদ্দিন আলাই, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বিমান বন্দর থানা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মুহিবুর রহমান মুহির।