সিলেট সিটি করপোরেশন ছয় শতাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী আগাম প্রচারণায় – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেট সিটি করপোরেশন ছয় শতাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী আগাম প্রচারণায়

প্রকাশিত: ৭:০৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৭

সিলেট সিটি করপোরেশন ছয় শতাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী আগাম প্রচারণায়

নির্বাচনের বাকি আরও অন্তত ৯ মাস। তবে এখনই শুরু হয়ে গেছে সিলেট নগরের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণা। তাঁরা ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার-ফেস্টুন-ব্যানার সাঁটিয়ে প্রার্থিতার জানান দিয়েছেন।

ভোটাররা জানিয়েছেন, ঈদের শুভেচ্ছা জানানোকে উপলক্ষ করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে রীতিমতো গণসংযোগে নেমে পড়েছেন। তাঁরা ঈদ শুভেচ্ছা-সংবলিত পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সাঁটিয়েছেন। পাশাপাশি ঈদের জামাতে উপস্থিত হয়ে মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন।

ঈদের আগে ও পরের এক সপ্তাহ নগরের সব কটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ওয়ার্ডে নারী ও পুরুষ মিলে ২০-২৫ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর ব্যানার-পোস্টার টাঙানো আছে। এ হিসাবে ২৭টি ওয়ার্ডে ছয় শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী তৎপর রয়েছেন। নগরের ১ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তত ৩৫ জন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৩১ জন ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ২০ জন প্রার্থীর ব্যানার-পোস্টার চোখে পড়ে।

২৫নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো.নজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ধারাবাহিকভাবে ওয়ার্ডের মুরব্বি ও তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। সবাই আমাকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে অনুরোধ জানিয়েছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হব এবং সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।’

৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দুজন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী জানান, তাঁরা আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেন। সে লক্ষ্যে ওয়ার্ডবাসীকে ঈদ-শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রত্যেকে শতাধিক ফেস্টুন সাঁটিয়েছেন। এর বাইরে তাঁরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সামাজিক উৎসবেও অংশ নিচ্ছেন।

সম্ভাব্য এসব প্রার্থীর পরিচিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের বেশির ভাগই স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক। এর বাইরে এলাকায় সুপরিচিত তরুণ, সমাজসেবী, ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠকেরাও আগাম প্রচারণায় নেমেছেন।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ  বলেন, ‘নির্বাচন সবার গণতান্ত্রিক অধিকার। আমরা নতুন প্রার্থীদের স্বাগত জানাই। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা যেন প্রতিযোগিতামূলক মন-মানসিকতা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। কেউ যেন প্রতিহিংসামূলক কারণে নির্বাচনে না আসেন।’

কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন মুঠোফোনে পাড়া-মহল্লার নেতৃস্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে দোয়া চাইছেন। এ ছাড়া আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে খুদে বার্তাও পাঠাচ্ছেন। কোথাও কোথাও প্রার্থীরা ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দোয়া ও আশীর্বাদ চাইছেন।

বিলপাড় এলাকার ভোটার এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী রবিউল আলম বলেন, ‘আমি এরই মধ্যে ছয়জনের ঈদ-শুভেচ্ছাজাতীয় খুদে বার্তা মুঠোফোনে পেয়েছি। সেই বার্তায় প্রত্যেকেই নিজেকে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, নির্বাচনের সময় যে খুব বেশি বাকি রয়েছে, তা নয়। তাই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে যেহেতু কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না, তাই ওয়ার্ডগুলোতে দলের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে যিনি গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয়, তিনিই জয়লাভ করবেন।

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘দল নির্বাচনে গেলে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করব। সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চসংখ্যক প্রার্থীকে কাউন্সিলর পদে বিজয়ী করার চেষ্টা করা হবে।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১৫ জুন সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসেবে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের মেয়াদ আগামী বছরের জুন মাসে শেষ হবে।

সিলেটের জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন  বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থানীয় পর্যায়ের হওয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা একটু বেশি থাকাই স্বাভাবিক। এ কারণেই হয়তো আগাম নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। তবে যেহেতু এখনো নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়নি, তাই সংগত কারণে এসব প্রচারণা নজরদারির মধ্যে রাখা হচ্ছে না।