সিলেট-৩ আসনে উপ-নির্বাচন : প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাপ শুরু – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেট-৩ আসনে উপ-নির্বাচন : প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাপ শুরু

প্রকাশিত: ২:৪৩ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২১

সিলেট-৩ আসনে উপ-নির্বাচন : প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাপ শুরু

মো. মুন্না মিয়া ::
অবশেষে সিলেট-৩ আসনে উপ-নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৪ জুলাই ভোটগ্রহণের তারিখ ঠিক করে গত বুধবার তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আসনগুলোতে আগামী ১৫ জুন মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৭ জুন। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৩ জুন। ভোট গ্রহণ ১৪ জুলাই। ইতিমধ্যে সরকার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন ফরম গত শুক্রবার থেকে বিক্রি শুরু করে দিয়েছে। বেশ কয়েকজন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেতে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন। জাতীয় পার্টি এ আসন ফের নিজেদের দখলে নিতে জোট থেকে বের হয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে বলে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমঙ্গীর জানিয়েছেন। সরকার দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ইতিমধ্যে প্রতীক পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করে ফেলেছেন।

জানা যায়, তফসিল ঘোষণার আগ থেকে দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলাকে নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হতে যান প্রায় দুই ডজন খানিক নেতা। ইতিমধ্যে এমপি হওয়ার ইচ্ছা পোষণকারী নেতারা দৌঁড়ঝাপও শুরু করেছেন। তবে এ নির্বাচন আসার পূর্ব থেকে হাতেগোনা দুই-তিনকে মাঠে চষে বেড়াতে দেখা গেলেও এখন এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই ডজনে। এ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জট দেখা গেছে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, প্রবাসী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবীসহ নানা অঙ্গনের ব্যক্তিরা এই আসনে নৌকার প্রার্থী হতে তৎপরতা শুরু করেছেন।

আরও জানা যায়, এ আসন থেকে বারবার নির্বাচিত হয়েছেন সদ্য প্রয়াত সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১১ মার্চে মারা গেলে এ আসন শূণ্য ঘোষণা করে ইসি। চলতি মাসে এ আসনে উপনির্বাচন হওয়ায় কথা থাকলেও করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে তা পিছিয়ে ১৪ জুলাই তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে, কয়েসের মৃত্যুর পর থেকেই এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অন্তত দুই ডজন নেতা।

ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন কেউ কেউ। কেউ কেউ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নজর কাড়তে করোনার সংকটকালীন সময়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান প্রয়াত সাংসদ কয়েসের স্ত্রী ফারজানা সামাদ চৌধুরী। যিনি আগে কখনো রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীরই আসনের এমপি হতে ক্ষমতাসীন দলের প্রতীক নৌকা চেয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি। গেল ঈদুল ফিতরের সময় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। কয়েসের স্ত্রী ছাড়াও এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দলটির উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল,যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ম্যানচেস্টার শাখার সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্যার এনাম উল ইসলাম, সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুর রকিব মন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল আলম রুহেল, কোষাধ্যক্ষ শমসের জামাল, সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু জাহিদ ও বালাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুর রহমান মফুর, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুল, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা সভাপতি সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ মুজিবুর রহমান জকনও।

এ ছাড়া বেশ কয়েকজন প্রবাসীও আছেন এই তালিকায়। এদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আ স ম মিসবাহ, ম্যানচেস্টার আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এনাম উল ইসলাম (স্যার এনাম) ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মনির হোসাইন।

কয়েসের মৃত্যুর পর এই আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির একাধিক নেতার নামও শোনা গিয়েছিল। তবে গেল কিছুদিন পূর্বে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন সিলেট-৩ সহ উপনির্বাচন হওয়া ৪টি আসনে অংশ নেবে না বিএনপি।
একসময় জাতীয় পার্টির (জাপা) ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে আলাদাভাবে নির্বাচন করতে চায় দলটি। দলের একাধিক প্রার্থী এরই মধ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন। এখনও এই আসনে জাপার বড় ভোটব্যাংক রয়েছে বলে ধরা হয়। দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান মহাজোট থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য এরই মধ্যে প্রচারণা শুরু করেছেন। এ ছাড়া জাপার হয়ে এই আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য আব্দুল মুকিত খান, সিলেট-২ আসনের সাবেক সাংসদ ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া, জাপার কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বাবুলও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

কয়েসের মৃত্যুর পরপরই সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় পোস্টারিং ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে তৎপরতা শুরু করেন। কয়েসের মৃত্যুতে শোক জানানো, ঈদের শুভেচ্ছা জানানোসহ নানা উপলক্ষে পোস্টারিং করে প্রচার শুরু করেছেন তারা। করোনাকালীন নির্বাচনী এলাকায় ত্রাণ বিতরণও করতে দেখা গেছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের হাতেগোনা দুয়েকজনকে। আর প্রবাসী মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও দেশে এসে তৎপরতা শুরু করেছেন।

কয়েসের মৃত্যুর পর তার ভাই যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ব্যবসায়ী আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা গিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ভাই নয়, প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কয়েসের স্ত্রী ফারজানা সামাদ চৌধুরী। ঈদের পর দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেছেন তিনি। স্বামীর অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করতে প্রার্থী হতে চান বলে জানিয়েছেন ফারজানা।

তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনের ভোটারসংখ্যা মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৯ জন। মোট ১১ বার নির্বাচন হওয়া এই আসনে আওয়ামী লীগ চারবার। তিনবার করে জয়ী হয়েছে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল