সিসিকের অচলাবস্থা কাটেনি:’বাধ্যতামূলক’ ছুটিতে ৩ কর্মকর্তা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিসিকের অচলাবস্থা কাটেনি:’বাধ্যতামূলক’ ছুটিতে ৩ কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০১৬

সিসিকের অচলাবস্থা কাটেনি:’বাধ্যতামূলক’ ছুটিতে ৩ কর্মকর্তা

sylhet-city-cor১৯ অক্টোবর ২০১৬, বুধবার: সরকারদলীয় কাউন্সিলর কর্তৃক তিন কর্মকর্তার কার্যালয় তালাবদ্ধ করার তৃতীয় দিনেও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) অচলাবস্থার নিরসন হয়নি। বুধবারও (১৯ অক্টোবর) তালা ঝুলতে দেখা গেছে ওই তিন কর্মকর্তার কার্যালয়ে। এই অচলাবস্থার প্রেক্ষিতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাত দিনের ‘বাধ্যতামূলক’ ছুটিতে আছেন সিসিক কর্মকর্তারা।

চলমান অচলাবস্থা নিরসনে সরকারদলীয় কাউন্সিলরদের সাথে গতকাল সোমবার রাতে বৈঠক করেছেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

বৈঠকে উপস্থিত কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বৈঠকে আন্দোলরত কাউন্সিলররা সিসিকের ওই তিন কার্যালয়ের চাবি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের নিকট হস্তান্তর করেন এবং তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তাকে কার্যালয়ে আসতে নিষেধ করার অনুরোধ করেন। নেতারা এ ব্যাপারে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চান এবং সিসিকের সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তাকে আগামী ৭ দিন ছুটিতে রাখা হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

বৈঠকে এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের নির্দেশনা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান, সাধারন সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ লুৎফর রহমান, সাধারন সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিসিকের কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান, আমজাদ হোসেন আবজাদ, ইলিয়াছুর রহমান, শান্তনু দত্ত সন্তু, সিকন্দর আলী, সাইফুল আমিন বাকের, রকিবুল ইসলাম ঝলক, তৌফিক বক্স লিপন প্রমুখ।

এ ব্যাপারে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ছুটিতে আছি, কিন্তু এই ছুটি বাধ্যতামূলক কিছু না। ছুটির মধ্যেও তো আমরা কাজ করি। আওয়ামী লীগ নেতারা সম্ভবত সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত, তাই উদ্ভুত সমস্যা সমাধানে একটু সময় লাগছে। আশা করছি, দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।”

আওয়ামী লীগ নেতারা তিন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তালা খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

যদিও বুধবার দুপুরে সিসিকের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান ও প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আ ছ ম মনসুর এর কক্ষে তখনো তালা ঝুলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, সোমবার বিকেল থেকেই ওই তিন কক্ষে তালা ঝুলছে। একবারের জন্যও তালা খোলা হয়নি।

এদিকে, কর্মকর্তারা ছুটিতে থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে সিসিকের দৈনন্দিন কার্যক্রম। বিভিন্ন বিভাগে কর্মচারীদের উপস্থিতিও কম। কোনো কোনো কক্ষ প্রায় ফাঁকা অবস্থায় রয়েছে। এমতাবস্থায় সেবা নিতে আসা নাগরিকরা শিকার হচ্ছেন চরম ভোগান্তির।

জানা যায়, আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র থাকাকালীন গত বছর সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন লাল দিঘীরপাড় সিটি মার্কেট ভাঙার দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরবর্তীতে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সে সময় মার্কেটের ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়। উচ্চ আদালতে রিটের শুনানি রায় সিসিকের পক্ষে আসে। কিন্তু সরকারদলীয় কয়েকজন কাউন্সিলর সমঝোতার মাধ্যমে ১ কোটি ৫ লাখ টাকায় এই কাজ নিতে চান। এ ঘটনা নিয়ে মূলত সিসিকের ওই তিন কর্মকর্তার কার্যালয় তালাবদ্ধ করা হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল