সুদিন আনবে সদরপুর-তালুকগাঁও সেতু: দুর্ভোগ লাগব হবে ৫ গ্রামের মানুষের – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সুদিন আনবে সদরপুর-তালুকগাঁও সেতু: দুর্ভোগ লাগব হবে ৫ গ্রামের মানুষের

প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ণ, মে ২, ২০২১

সুদিন আনবে সদরপুর-তালুকগাঁও সেতু: দুর্ভোগ লাগব হবে ৫ গ্রামের মানুষের

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ:: বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্জ্ব এম এ মান্নান এমপির একান্ত প্রচেষ্টায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বহুল প্রত্যাশিত জয়কলস ইউনিয়নের উত্তর -দক্ষিণের মিলন সেতু ‌‌‌‘‘সদরপুর-তালুকগাঁও সেতুটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এক সময় রাস্তাঘাট সেতু কালভার্ট কিছুই ছিলনা নাইন্দা নদীর তীরবর্তী এই গ্রাম গুলোর। কষ্টের শেষ ছিলনা তাদের। গ্রামগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। শতবছরের অবহলেহিত এই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান। বহুল প্রত্যাশিত এই সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তরস্থাপনের পরপরই দ্রুত গতিতে এর বাস্তবায়ন হয়েছে। এখন উদ্বোধন হলেই শতবছরের দুর্ভোগ লাগব হবে এই এলাকার পাঁচটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের।

সেতুটি উদ্বোধন ফলে নাইন্দা নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাও হবে সহজ। তাদেরকে আর কষ্ট করে নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হবে না। শুধু সদরপুর -তালুকগাঁওই নয় সেতুটি উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে কামরুপদলং , কান্দিগাঁও এবং পার্বতীপুরের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাও হবে সহজতর। শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাজার ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও আসবে আমূল পরিবর্তন। দেখার হাওর থেকে সরাসরি ধান তুলতে পারবেন কৃষকরা। এক কথায় যোগাযোগ ব্যবস্থার নব দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হবে এই এলাকায়। এই অবহেলিত ৫ টি গ্রামের সাধারণ মানুষদের কথা চিন্তা করেই সেতু স্থাপনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান৷ এখন সেতুটির কাজ শেষ হওয়ায় এই পাঁচ গ্রামের মানুষের মুখে ফুটেছে হাসি।

রবিবার(২ মে) সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তালুকগাঁও-সদরপুরে নবনির্মিত সেতুটির শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে, কাজের মানও অনেক ভাল হয়েছে। সেতুটির এপ্রোজ রাস্তার দুপাশে এখন ব্লক বসানোর কাজ চলছে। ঠিকাদার জানিয়েছেন এ মাসের মধ্যেই ব্লক বসানোর কাজ শেষ করে এলজিইডি কে সেতুটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি অফিস সুত্রে জানা যায়, সদরপুর – তালুকগাঁও এলাকার নাইন্দা নদীর উপর নির্মাণ হওয়া এই ৬০ মি সেতুটির কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের প্রথম দিকে৷ সেতুটিতে মোট ব্যয় হবে ৫ কোটি ৩১ লক্ষ ২৭ হাজার ৬১৬ টাকা। সেতুটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেছে সুনামগঞ্জের মেসার্স নুরুল ইসলাম ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। তারা জানিয়েছেন দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সেতুটি উদ্বোধন করা হবে।

সদরপুর গ্রামের সিজিল মিয়া বলেন, সেতুর কাজ শেষ হওয়ায় ভালো লাগছে । পরিকল্পনামন্ত্রীর জন্যই আমরা শতবছরের কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছি। তিনি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা বাস্থবায়ন করেছেন। সেতুটি আমাদের জন্য উন্নয়নের স্বর্গ স্বরূপ।

তালুকগাঁও গ্রামের আব্দুল কাহার বলেন, আমরা মারাত্মক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছি। সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় জীবনের ঝুকি নিয়ে আর নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হবে না। আল্লাহ যেন আমাদের মান্নান সাহেবকে নেক হায়াত দান করেন।

কামরুপদলং গ্রামের দিলোওয়ার বলেন, সেতুটি আমাদের বহুল প্রত্যাশিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন। আমাদের পরিকল্পনামন্ত্রী মহোদয়ের জন্যই এটা বাস্তবায়ন হয়েছে। আমরা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়েছি৷

স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া একাধিক শিক্ষার্থীরা বলেন, সেতুটির নির্মাণ হওয়ায় আমাদের কষ্ট লাগব হয়েছে। নৌকার জন্য আর অপেক্ষা করতে হবে না। আমাদের লেখাপড়ায় আর কোন বিগ্ন ঘটবে না। নিরাপদে লেখাপড়া করতে পারবো।

জয়কলস ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও সদরপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমাদের একজন পরিকল্পনামন্ত্রী থাকায় আমরা সরাসরি উন্নয়নের সুফল পাচ্ছি। তা না হলে এই অঝপাড়া গায়ে এতকোটি টাকার সেতু নির্মানের কল্পনাই করা যেতনা। আমরা আমাদের উন্নয়নের মহারথী এম এ মান্নান মহোদয়ের প্রতি চির কৃতজ্ঞ।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে কথা হলে উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি) আল নূর তারেক বলেন, মন্ত্রী স্যারের একান্ত প্রচেষ্টায় সেতুটির কাজ হয়েছে৷ আমরা আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই এটি উদ্বোধন হয়ে যাবে।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেন বলেন, শুধু যে সদরপুর- তালুকগাঁও সেতু হচ্ছে তা না। বর্তমানে আমাদের উন্নয়নের রুপকার পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান মহোদয়ের নেতৃত্বে উপজেলাব্যাপী উন্নয়নের জোয়ার বইছে। এই সেতু নির্মান নাইন্দারপাড়ের মানুষের বহুল প্রত্যাশীত স্বপ্নের বাস্থবায়ন। আমরা উপজেলাবাসী গর্বিত এমন যোগ্য নেতৃত্ব পেয়ে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল