সুনামগঞ্জে নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, বন্যার আশঙ্কা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সুনামগঞ্জে নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, বন্যার আশঙ্কা

প্রকাশিত: ১০:৩৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

সুনামগঞ্জে নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, বন্যার আশঙ্কা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের প্রধান নদী সুরমাসহ সবকটি নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। সুরমা নদীর পানি শনিবার দুপুরে বিপৎসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে করে শহর ও শহরতলীর নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলীয় এলাকার বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়ক।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি ষোলঘর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৬ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১৯০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বুধবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত এখন পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় জেলার যাদুকাটা, রক্তি, খাসিয়ামারা, চলতি, সুরমা, পাটলাইসহ সবকটি সীমান্ত নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। এ ছাড়া পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওর এলাকাগুলোতে পানি বাড়ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, জেলার শক্তিরখলা, মুসলিমপুর, ডলুরা, আক্তাপাড়া, জগন্নাথপুর ও সোলেমানপুর, লাউড়েরগড় পয়েন্টে সীমান্ত নদীর পানি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ দিকে সুরমা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সুনামগঞ্জ শহরের নদী তীরবর্তী নবীনগর, ষোলঘর, কাজিরয়েন্টে, উকিলপাড়া, উত্তর আরপিননগর, তেঘরিয়া, পশ্চিমবাজার এলাকায় জলাবদ্ধাতা দেখা দিয়েছে। এ সব এলাকার অনেক সড়কে জলাদ্ধতার কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এ সব এলাকার অনেক ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ।

শহরের পশ্চিম হাজীপাড়ার তানভীর আহমদ বলেন, এমনিতেই করোনা কারণে ঘরবন্দি, তার উপর আবার ঘরে পানি উঠার উপক্রম। মূল সড়কে পানি উঠায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।

শহরের মধ্যবাজার এলাকার ব্যবসায়ী পল্টু রায় বলেন, আমার দোকানে পানি ঢুকে গেছে। ড্রেনে ময়লা জমে যাওয়ার কারণে পানিও নামছে না। শুধু আমার দোকান নয়, পার্শ্ববর্তী অনেকের দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। করোনাভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যে এখন বন্যার আতঙ্কে ভোগছি আমরা ব্যবসায়ীরা।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের মেঘালয়-চেরাপুঞ্জিতে গত ৭২ ঘণ্টায় ৯০২ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১৯০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে জেলায় বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে হাওরগুলোর পানি ধারণ ক্ষমতা এখনও স্বাভাবিক আছে বলে জানান তিনি।