সুনামগঞ্জ আ. লীগে গৃহদাহ, মান্নান-মতিউর বিরোধ চরমে – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সুনামগঞ্জ আ. লীগে গৃহদাহ, মান্নান-মতিউর বিরোধ চরমে

প্রকাশিত: ৩:১৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০১৭

সুনামগঞ্জ আ. লীগে গৃহদাহ, মান্নান-মতিউর বিরোধ চরমে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: দলের দুই জেষ্ট্য নেতা এমএ মান্নান ও মতিউর রহমানের বিরোধে পুড়ছে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ। চরম আকার ধারণ করেছে এই দুই নেতার বিরোধ। এই বিরোধ কথার লড়াই পেরিয়ে রাজপথের বিক্ষোভ-পাল্টা বিক্ষোভে রূপ নিয়েছিলো আগেই। এবার এসেছে মামলা হুমকিও।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা এএম মান্নান দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর এলাকার সাংসদ। অপরদিকে সাবেক সাংসদ মতিউর রহমান সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বরে রয়েছেন। গত জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে এমএ মান্নান আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ইমনের পক্ষে আর মতিউর রহমান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল হুদা মুকুটের পক্ষে অবস্থান নেন।

এই নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিভিন্ন জনসভায় প্রকাশ্যে একে অপরের প্রতি বিষেধাগার করেন এই দুই জেষ্ঠ্য নেতা। মতিউরকে সুনামগঞ্জে ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ বলে আখ্যা দেন মান্নান, অরদিকে মান্নান আওয়ামী লীগে উড়ে এসে জুড়ে বসা বলা মন্তব্য করেন মতিউর।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে মান্নান সমর্থিত ইমন পরাজিত হন মতিউর সমর্থিত মুকুটের কাছে। এই বিজয়ে উচ্ছ্বসিত মতিউর আরো একবার বিষেদাগার করেন মান্নানকে নিয়ে। গত নির্বাচনে এমএ মান্নান কারচুপি করে বিজয়ী হয়েছিলেন বলেও ইঙ্গীত করেন মতিউর।

দুই নেতার এমন আক্রমন- পাল্টা আক্রমনে বসে থাকেননি তাদের অনুসারীরাও। অনুসারীরা কথার লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নেমে পড়েন রাজপথে। চলছে বিক্ষোভ পাল্টা বিক্ষোভ। ঝাড়ু মিছিল, অবাঞ্ছিত ঘোষণা আর কুশপত্তলিকা দাহের ঘটনাও ঘটছে গত কয়েকদিন ধরে।

শুক্রবার বিকালে সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের ও বৃ্হস্পতিবার বিকালে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সদরের শান্তিগঞ্জ বাজারে এই দুই নেতার অনুসারীরা পাল্টাপাল্টি মান্নান ও মতিউরের কুশপুতুল দাহ করেন।

অনুসারীদের এই ক্ষোভের পালে এবার হাওয়া দিয়েছেন খোদ এমএ মান্নান।

শনিবার বিকালে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে আয়োজিত জনপ্রতিনিধিদের দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মান্নান জানান, তাঁকে জড়িয়ে ‘মানহানিকর’ বক্তব্য দেয়া অভিযোগে জেলা আ.লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকার মানহানীর মামলা করবেন তিনি।

এই সভায় প্রতিমন্ত্রী জেলা আ.লীগ সভাপতিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “দুই তিন কোটি টেখার মানহানীর মামলা খরলে, তখন আর বালুপাথর বেচিয়াও কুলাইত নায়।”

মান্নান বলেন, “এরার খতা কিতা খইতাম। তারা বালু খায়, পাথর খায়, গম খায়, ঠিকা খায়, নমিনেশন খায়- কিতা খায় না, সব খায়। এরা আওয়ামী লীগ নামের কলংক।”

মান্নান আরও বলেন, “যারা খইছে আমি পাকিস্তানর পক্ষে চাকরি খরছি, জিয়াউর রহমান আমারে চাকরি দিছে, তারার আদালতও গিয়া প্রমাণ করা লাগব।”

পাল্টাপাল্টি বাগযুদ্ধের এক পর্যায়ে মতিউর রহমান মান্নানকে উদ্দেশ্য করব বলেছিলেন, “একাত্তরে আমরা যখন যুদ্ধের ময়দানে ছিলাম, মান্নান সাহেব তখন পাকিস্তানিদের হেফাজতে চাকরি করেছেন।”

নুরুল হুদা মুকুট সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরদিন সংবাদ সম্মেলনে মতিউর রহমান বলেছিলেন, “বিগত নির্বাচনে মান্নান সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জগন্নাথপুর উপজেলায় মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদের ‘নাবলক’ ছেলে আজিজুস সামাদ ডনের কাছে মান্নান ১০ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। পরে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। কীভাবে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন, তা কেবল এমএ মান্নান এবং তৎকালীন ডিসি ইয়ামিন চৌধুরী ছাড়া আর কেউ জানে না!”

মতিউরের এই বক্তব্যের জবাব মান্নান বলেন, “তৎকালীন ডিসি তার তার বিরুদ্ধে মামলা করবে। নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট করব।”

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল