সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার, এসকে সিনহার পিএসসহ ১০ জনকে বদলি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার, এসকে সিনহার পিএসসহ ১০ জনকে বদলি

প্রকাশিত: ১:৩০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৭

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার, এসকে সিনহার পিএসসহ ১০ জনকে বদলি

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার একান্ত সচিব (পিএস) মো. আনিসুর রহমানসহ ১০ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন জেলায় বদলি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। রোববার দুপুরে আইন মন্ত্রলালয় থেকে বদলির এই সুপারিশ এলে সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওহহাব মিঞা তা অনুমোদন দেন।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিদেশ যাওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এই বদলি ঘটনা ঘটল।

রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলামকে নূন্যতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (বিচার ও প্রশাসন) সাব্বির ফয়েজকে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা জজ, প্রধান বিচারপতির একান্ত সচিব আনিসুর রহমানকে পঞ্চগড় জেলার অতিরিক্ত জেলা জজ, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার যাবিদ হোসাইনকে রংপুরের নারী-শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক, আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনকে ঢাকার স্পেশাল জজ, আপিল বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার অরুনাভ চক্রবর্তীকে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা জজ, ফারজানা ইয়াসমিনকে পিরোজপুরের যুগ্ম জেলা জজ, কামাল হোসেন শিকদারকে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা জজ, হাইকোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার( প্রশাসন ও বিচার) আজিজুল হককে ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা জজ এবং এইচএম ইসমাঈলকে বরগুনাতে বদলি করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এক মাসের ছুটির কথা জানিয়ে চিঠি দেন। পরে তার ছুটি আরও নয় দিন বাড়িয়ে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়।

এই ছুটি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, ‘প্রধান বিচারপতি ক্যান্সারে আক্রান্ত, নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এজন্য তিনি এক মাসের ছুটি চেয়েছেন।’

ওই সময় প্রধান বিচারপতির ছুটির আবেদন সাংবাদিকদের দেখান আইনমন্ত্রী। এতে লেখা ছিল, ‘আমি ইতোপূর্বে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলাম। বর্তমানে আমি শারীরিক জটিলতায় ভুগছি।’

কিন্তু, গত শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। কিন্তু, ইদানিং একটা রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী, বিশেষভাবে সরকারের মাননীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন, এতে আমি সত্যিই বিব্রত।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকারের একটি মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে পরিবেশন করায় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন। এই অভিমান অচিরেই দূর হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

এসকে সিনহা বলেন, ‘সেই সঙ্গে আমি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও একটু শঙ্কিত বটে। কারণ, গতকাল প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবীণতম বিচারপতির উদ্ধৃতি দিয়ে মাননীয় আইনমন্ত্রী প্রকাশ করেছেন যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অচিরেই সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনে পরিবর্তন আনবেন।’

‘প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো রেওয়াজ নেই। তিনি শুধুমাত্র রুটিন মাফিক দৈনন্দিন কাজ করবেন, এটিই হয়ে আসছে’ যোগ করেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করলে এটি সহজেই অনুমেয় যে, সরকার উচ্চ আদালতে হস্তক্ষেপ করছে এবং এর দ্বারা বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হবে। এটি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।’