সুলতান মনসুর রাজনীতির ক্লিনম্যান –সুহানুর আলী মিরাজ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সুলতান মনসুর রাজনীতির ক্লিনম্যান –সুহানুর আলী মিরাজ

প্রকাশিত: ১২:৪৯ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৬

সুলতান মনসুর রাজনীতির ক্লিনম্যান –সুহানুর আলী মিরাজ

13233253_1284084748287863_202182912_n[১] সকল মানুষের জন্য । সাধারন কথায় সমাজের সকল মানুষ সাধারন মানুষ হিসাবে বিবেচিত । সময়ের প্রয়োজনে আজকে সমাজের আমরা যারা সাধারন হিসাবে আছি বা যারা সাধারন মানুষ তাদের মূল্যায়ন কতটুকু হচ্ছে ,তাদের চাওয়া পাওয়া কতটুকু পূরন হচ্ছে , কারাই বা তাদের দাবিগুলো শুনছেন??

সমাজের সাধারন মানুষগুলোই সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তৈরি করে, যারা ইংরেজিতে VIP ( ভি আই পি ) বলে সম্বোধিত । সাধারনের পছন্দে অসাধারন হওয়া সেই সকল ব্যক্তিদের , সাধারনের সাথে সাধারন থাকাটা কি কাম্য নয়?? আমরা অনেকে আজ অনেক কিছু বলতে চেয়েও বলি না, এটা অবশ্যই আমাদের ব্যর্থতা ।

রাজনীতি বা রাজনীতিবিদ সমাজের জন্য, সমাজ কখনো রাজনীতি বা রাজনীতিবিদদের জন্য হতে পারে না । কিন্তু কালের বিবর্তনে সমাজটাই যেন রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের জন্য হয়ে গেছে । রাজনীতি শব্দটির তাৎপর্য অনেক গভীর । তাই রাজনীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের তাৎপর্য পূর্ণ হওয়াটাকি বেশি কিছু?? হয়তবা বেশি কিছুই ??

বেশি না হলে , সাধারনের মতামতের দ্বারা নির্বাচিত হওয়া সেই সকল অসাধারন ব্যক্তিদের আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে কোমলমতি শিশু আহতের ঘটনা ঘটতনা । ওনাদের পরিবারের সদস্যদের এলোপাতাড়ি গুলিতে কোন খেটে-খাওয়া মানুষকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হতনা । কিন্ত আজকে খুব অবাক লাগে, যখন মনে হয় সমাজের সাধারন মানুষগুলি হয়তো আজকে মূল্যহীন হয়ে গেছে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের কাছে ।

বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন সেই স্বপ্নে সমাজের এইরূপ বা অবস্থা কখনোই ছিলনা । তাহলে কেন আজকে সমাজের এই অবস্থা ? এই কেন কথার আগে আরও একটি কথা চলে আসে আর তাহলো, কারা সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন করছেন ?

যে জাতিকে মাথা উচু করে বেচে থাকার জন্য , স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার জন্য, নিরাপদে থাকার জন্য – ৩০ লক্ষ বাঙ্গালী শহীদ হয়েছিলেন ও লক্ষ লক্ষ মা-বোনেরা বীরাঙ্গনা হয়েছিলেন ,সেই বাঙ্গালি জাতি কেন আজ নিরাপত্তার বিষয়ে সন্দীহান, কেন তারা জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা ও ওনাদের পরিবার-পরিজন দ্বারা কোনঠাসা অবস্থায় ??

আজকে বাংলার জনগণ অবাক হয় – যখন দেখে যে প্রতীক তলে স্বাধীনতা এসেছিল, যে প্রতীক বিশ্ব দরবারে বাঙ্গালির মুক্তির প্রতীক হিসাবে বিদ্যমান ,সেই প্রতীক আজ অনেক প্রতিনিধিদের কারণে তার গৌরব হারাচ্ছে । তাহলে প্রতিনিধিরা কি ওনাদের রাজনৈতিক স্বচ্ছতা হারিয়েছেন , নাকি কেউ স্বচ্ছ রাজনীতিবিদের খোলস পরে আছেন ??

[২] আমি একজন মুজিব সৈনিক হিসেবে বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করা রাজনীতিবিদেরা কখনোও কোন অস্বচ্ছ রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন না , নেই এবং থাকবেনও না । আজকে অনেকেই নিজেদেরকে আপাদমস্তক মুজিব সৈনিক বলেন কিন্তু ওনারা হয়তো ভুলে গেছেন, একজন আপাদমস্তক মুজিব সৈনিক কখনো সত্যকে অস্বীকার করেননা, স্বার্থের রাজনীতি করেন না , নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে জগণের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতার দাবি করেন না, দলের কর্মীদের সাথে মনোমালিন্যতায় জড়ান না ।

প্রিয় পাঠক, আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যা দেখে অনুভব করেছি তাই আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছি । আমি আমার দেখা একজন নেতার কথা আপনাদের বলতে চাই, যার সর্ম্পকে বলতে বলতে হয়তো শব্দগুচ্ছ শেষ হয়ে যাবে কিন্তু বলা শেষ হবে না, যার জীবনের প্রতিটি মূহুর্তে রয়েছে বাংলার আন্দোলন সংগ্রামের বীরত্ব গাথা, যার অক্লান্ত ও নিস্বার্থ পরিশ্রমের পদচিঞ্ছ আজও ছড়িয়ে আছে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া – রূপসা থেকে পাথুরিয়া, বর্তমান প্রজন্মের কাছে যিনি বঙ্গবন্ধুর মানসপুত্র হিসেবে পরিচিত, ৮৯ এর মহানায়ক, জাতীয় নেতা সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমেদ ।

আজকের জাতীয় এই নেতা হুট করে রাজনীতিতে আসেননি, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ১৯৬৮ সালে রাজনীতিতে যোগদান করেন । সেই সময়ে তিনি ছিলেন মৌলভীবাজার সরকারি স্কুল ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক । সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদ আপাদমস্তক একজন মুজিব সেনার উজ্জ্বল উদাহরণ । হয়তো অনেকে ভাবতে পারেন আরও অনেক নেতাইতো বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে রাজনীতিতে যোগদান করেছিলেন, তাহলে সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমেদ ওনাদের ব্যতিক্রম কিভাবে ।—– প্রিয় পাঠক, সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদ শুধুমাত্র, জেলের তালা ভাঙবো শেখ মুজিবকে আনবো/ রউফ-তোফায়েল বলেরে যুদ্ধে মোরা যাবোরে স্লোগানকেই উচ্চারণ করেননি , তিনি করেছিলেন সাহসী কণ্ঠে প্রতিবাদ বাঙ্গালি জাতির পিতা হত্যার । তিনি শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের তরুণ সংগঠকই নন, তিনি বাঙ্গালি জাতির পিতা হত্যার প্রতিরোধ যুদ্ধের সংগঠক ও সমন্বয়ক, সেই সময়ের একজন বিদ্রোহী কামান্ডার । সেই সময়ের অনেক নেতারা তখন বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ মিছিলের কোন খবরও নেননি, অনেকে অনেক বাহিনীর নেপথ্য কারিগরের ভূমিকায় থাকলেও সেই সময়ে যেন বাহিনীহীন হয়ে পরেছিলেন । যে সময়ে বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়াটা ছিল মৃত্যুকে ডেকে আনা, সেই সময়ে সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমেদ নেমেছিলেন রাজপথে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন অক্ষুন্ন রাখতে । তাহলে সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদকে কি আপাদমস্তক মুজিব সেনার জ্বলজান্ত উদাহরণ বলাটা বেশি কিছু ??

(৩) ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের উপর শুরু হয় নির্যাতনের এক কালো অধ্যায় । সেই ক্রন্তিলগ্নে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দায়িত্ব নেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজ উদ্দিনের সহধর্মিণী জোহরা তাজ উদ্দিন, বঙ্গবীর জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী, মরহুম আব্দুর রাজ্জাক এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ । পরবর্তীতে দলিয় ঐক্যের স্বার্থে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ডঃকামাল হুসেনের পরামর্শে, সে সময়ের আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের স্বিদ্ধান্তে ঐক্যের স্বার্থে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দায়িত্ব অর্পণ করা হয় বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর । বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সাংগঠনিকভাবে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে একটি শক্তিশালী রূপ দেয়ার গুরু দায়িত্বটি এক পর্যায়ে অর্পণ করা হয় সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদের উপর । বঙ্গবন্ধুর মানসপুত্র সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদ সেই গুরু দায়িত্বটি পালন করেছিলেন যথাযত ভাবে । বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হয়েছিল বাংলার আপামর জনগণ ও ছাত্রসমাজের কাছে গ্রহনযোগ্য একটি ছাত্র সংগঠন, শিক্ষিত,সচেতন ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের যোগ্য সন্তানেরা যোগদান করেছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনে ।

বর্তমান সময়ে সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদের মতো নেতৃ্ত্ব আজ বড়ই প্রয়োজন । বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে রাজনীতির নামে যে অরাজকতার লুটতরাজ ও জনবিরোধী যে কার্যকলাপ শুরু হয়েছে, তা থেকে বাংলার জনগণকে স্বস্তি দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিকল্প নেই । বর্তমান সময়ে যে সকল নেতা-কর্মীরা নিজেদেরকে মুজিব আদর্শের সৈনিক বলে দাবি করেন, ওনারা কি রাজনৈতিক স্বচ্ছতাকে অক্ষুন্ন রাখতে পেরেছেন? ওনারা কি স্পষ্টভাষী স্বভাব অক্ষুন্ন রাখতে পেরেছেন? ওনারা কি দেশের ও দলের প্রতি নিষ্ঠা রাখছেন?— নাকি কেবল বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নাম পূজি করে নিজস্ব ফায়দা হাসিলের পায়তারা করছেন?

লোকমুখে শোনা যায়, আজকে অনেকে নাকি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন, কলা গাছ থেকে বট গাছ হয়েছেন অনেকে নাকি বিদেশে বাড়ী-গাড়ীর মালিক হয়েছেন । এই সকল কি গুজব নাকি সত্য, গুজব হলে জনগণকে জবাব দিন আর সত্য হলে নিজের অন্তর আত্মাকে জিজ্ঞেস করুন- এটাই কি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নাকি নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অসম্মান নয় বা কলঙ্কিত করা নয় ?, যে দল আপনাকে সম্মানের সিংহাসন দিল সেই দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা নয় কি ?

(৪) বঙ্গবন্ধুর মানসপুত্র সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদ কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি, ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি, সংগঠনের নাম ক্ষুন্ন হয় এমন কোন কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত হননি, সরকারি অর্থে পকেট ভরেননি, বিদেশে গাড়ি-বাড়ির মালিক হননি, সহকারিদের মাধ্যমে সরকারি অর্থ পাচার করেননি, কোন সন্ত্রাসবাদীদের প্রশ্রয় দেননি, নিজের পরিবার পরিজনদের কোন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেননি, ঘুষ বাণিজ্য করেননি, অযোগ্যকে যোগ্যতার আসনে আসীন করেননি, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস নৈরাজ্যকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেননি, বিতর্কিত কাউকে সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হবার সুযোগ করে দেননি ।

স্বাধীনতা উত্তর স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে প্রথম বিজয় এনে দেয়া বঙ্গবন্ধুর মানসপুত্র সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদ কখনো মোসাহেবী ও তোষামোদের রাজনীতি করেননি, তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনিতি করেছেন, করছেন এবং আমৃত্যু করে যাবেন । এটা আমার কথা না, এই কথাটি সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদ নিজেই বলেছেন । জাতীয় এই নেতা সর্বদা সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলেই রাজনীতি করেন, তিনি কখনো ঘুরিয়ে পেচিয়ে বা মিথ্যার ফুলঝুড়ির আশ্রয় নেন না । তিনি যা বলেন স্পষ্ট ও সরাসরি বলেন ।

স্বাধীনতা উত্তর স্বাধীনতার চেতনার স্বপক্ষের শক্তিকে প্রথম বিজয় এনে দেয়া এই নেতাই সর্বপ্রথম ডাকসু ভবণে বঙ্গবন্ধুর ছবি উত্তোলন করেছিলেন, সেই সময়ে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর রোষানলে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন ” বঙ্গবন্ধুর ছবি নামাতে হলে,আমি সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদের লাশের উপর দিয়ে যেতে হবে ”।

হযরত শাহজালাল (রঃ)ও শাহ পরাণ (রঃ) এর স্মৃতি বিজড়িত পূণ্যভূমি বৃহত্তর সিলেটের সূর্যসন্তান মরহুম হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী গর্ব করে বলেছিলেন- ” এই আধ্যাতিক ভূমি  থেকে আগামী দিনে কেউ যদি জাতীয় পর্যায়ে জাতীয়  কাণ্ডারি হওয়ার যোগ্যতা রেখে রাখে, তবে সে হচ্ছে সুলতান মুহামদ মনসুর আহমদ “। সিলেটের উন্নয়নের আরেক সারথি সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে- আপাদমস্তক সৎ,নিষ্ঠাবান, দেশ প্রেমিক জাতীয় রাজনীতিবিদের উদাহরণ হিসাবে সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদের নাম উল্লেখ করেছিলেন ।

শুধু তাই নয়- মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম দেওয়ান ফরিদ গাজী, স্বাধীনতা উত্তর ও পরবর্তী বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদের স্নেহ ও সান্নিধ্যে পরিপক্ক হয়ে ওঠা সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদ পেয়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিবাহিনীর প্রধান, জাতির শ্রেষ্ঠ সাহসী সন্তান জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর কাছ থেকে সন্তানতুল্য ভালবাসা ও দেশ গঠনের দিক নির্দেশনা ।

জনশ্রুতি আছে, যার বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করে সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদ, ছাত্র-জনতার হৃদয় সালতানাতের সুলতান হয়েছিলেন- সেই হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদও- সৎ,নির্লোভ,মেধাবী,যোগ্য এই ছাত্র রাজনীতির জীবন্ত কিংবদন্তীকে, এক প্রজ্ঞাবান বিচক্ষণ সংগঠক ও কমিটেড রাজনীতিবিদ বলে অভিহিত করেছিলেন । এমনকি বি এন পি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও, ৮০ এর দশকের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দদের সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদকে অনুসরণ করার পরামর্শ দিতেন । প্রচলিত আছে যে, সে সময়ের আমান-খোকনরা নাকি এখনো সে কথা স্বীকার করেন । এমনকি বঙ্গবন্ধু কন্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে আপন ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন এবং একটি জনসভায় বলেছিলেন-” ১০ লক্ষ মানুষের মধ্য থেকে,১ জনকে বেছে নিতে হলে আমি সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদকে বেছে নিব”।

তাহলে কেন আজ এই নেতা বঙ্গবন্ধু কন্যার পাশে নেই? কাদের স্বার্থে বা কোন গোষ্ঠীর সুবিধার্থে আওয়ামীলীগের সাবেক এই সাংগঠনিক সম্পাদককে দলের পক্ষে ভূমিকা রাখা থেকে দূরে রাখা হয়েছে? কোন উদ্দেশ্য জনগণের হৃদয় সালতানাতের সুলতানকে জনগণের পক্ষে ভূমিকা রাখা থেকে দূরে রাখা হয়েছে?

প্রিয় পাঠক, গত কয়েকদিন আগে জাতীয় একটি দৈনিকে দেখলাম, স্থানীয় নির্বাচন কেন্দ্রীক একটি খবর যেখনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চিঞ্ছিত একজন রাজাকারকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে । এখন প্রশ্ন আসে যে সংগঠন নিজেদেরকে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচয় দেয়, সেই সংগঠনের নির্বাচনী প্রতীক একজন রাজাকার পায় কিভাবে? কারা সেই মনোনয়ন পাইয়ে দিলেন বা ব্যবস্থা করলেন? কিসের কারণে?

অথচ বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০০৮ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের তরুণ সংগঠক, বঙ্গবন্ধু হত্যার সশস্ত্র প্রতিবাদ মিছিল ও প্রতিরোধ যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সমন্বয়ক, স্বাধীনতা উত্তর স্বধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে প্রথম বিজয় এনে দেয়া ব্যক্তিকে, ডাকসু ভবণে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুর ছবি উত্তোলনকারী বঙ্গবন্ধুর মানসপুত্র, ৮৯ এর মহানায়ক সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদকে দলীয় গঠনতন্ত্রের বিরুদ্ধে গিয়ে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হল ।

(৫) বর্তমান স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশে অনেক কিছুই ঘটে যাচ্ছে, অনেকে দলীয় প্রার্থী হয়েছেন আবার অনেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন । যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ওনারা কেন্দ্রের নির্দেশকে অবমাননা করার কারণ কি? এই বিষয়টি অবশ্যই সংগঠনের সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তার অথবা টালমাটাল অবস্থার অবর্ণনীয় বর্ণনার বিবরণ দিয়ে দেয় । অনেক স্থানে দেখা যায় বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হচ্ছেন আর দলীয় প্রার্থী পরাজীত হচ্ছেন । আবার পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে দেখা যায় যে, অনেক স্থানে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানাবিধ সংঘর্ষ হচ্ছে, সেই সংঘর্ষে অনেক প্রাণহানিও ঘটছে, শিশুসহ মারা যাচ্ছে অনেকেই, কোথাও কোথাও আবার দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে অনেক আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী সহ শতাধিক নিরীহ লোক প্রাণ হারিয়েছেন, এই সকল বিষয়গুলো কি সাংগঠনিক পর্যায়ের মধ্যে পরে না? আর যদি সাংগঠনিক আওতাধীন হয়ে থাকে তাহলে এই সকল অপূরণীয় ক্ষতিগুলোর দায়ভার কার?

আমাদের দেশে একটি সময় ছিল যখন নির্বাচন একটি উৎসব মূখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হত, আর বর্তমান সময়ে নির্বাচন যেন কারও কাছে হাস্যকর আবার কারও কাছে আতঙ্কের । নির্বাচনে যারা প্রার্থী হন তাদের সমর্থকেরা কেন সংঘর্ষ তৈরি করেন, সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধানো কি প্রার্থীর যোগ্যতাকে ও জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্য করা নয়? এবার আরও একটি প্রশ্ন আসে, সমর্থকেরা কেন সংঘর্ষে জড়াবেন? যদি সমর্থকেরা সংঘর্ষ তৈরি না করেন তাহলে সংঘর্ষ বাধে কিভাবে, এর পিছনে কারা ইন্দন যোগায়? কিসের এবং কার স্বার্থে?

২০০৮ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর মানসপুত্র সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদ, আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের একক পছন্দনীয় ছিলেন, এমনকি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সংসদীয় নির্বাচনী কমিটির সর্বসম্মত সমর্থন পাওয়ার পরও কোন উদ্দেশ্যে বা কোন গোষ্ঠীর স্বার্থে মনোনয়ন বঞ্চিত হলেন, তা আজও জাতি তথা স্বয়ং সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদও আজ অবধি অজ্ঞাত রইলেন ।

সেই নির্বাচনে আজকের জাতীয় এই নেতা মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও কোন বিদ্রোহ করেননি এবং অন্য দলে যোগদান করেননি। ওনার সমর্থকেরাও কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেননি । কেন্দ্রের নির্দেশের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে দলের কল্যাণের জন্য নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগিয়েছেন ।

ডাকসু ভবণে বঙ্গবন্ধুর ছবি উত্তোলনকারী এই নেতাকে, গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধারের এই মহানায়ককে, তথা কথিত ১/১১ এ – যিনি সর্ব প্রথম জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে বলেছিলেন ‘বঙ্গবন্ধু কন্যাকে গ্রেফতারের পরিণাম হবে ভয়াবহ’ সেই আপদমস্তক মুজিব সেনাকে কোন কারণে দীর্ঘ ৮ টি বছর ধরে দল ও জনগণের পক্ষে ভূমিকা রাখা থেকে দূরে রাখা হয়েছে, তা বঙ্গবন্ধুপ্রেমীদের জানার অধিকার নেই কি?

”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””’

প্রিয় পাঠক, আপনাদের কাছে এখন জানতে চাই, সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদ কি রাজনীতির ক্লিনম্যান বা স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তি নন, তিনি কি মুজিব আদর্শের জলজ্বান্ত উদাহরণ নন, তিনি কি মা,মাটি ও গণমানুষের প্রিয়জন নন, তিনি কি সারা বাংলার ছাত্রসমাজের কাছে অনুপ্রেরণা নন, তিনি কি ছাত্র রাজনীতির এক জীবন্ত কিংবদন্তি নন ।

আপনাদের মতামতের আশায় থেকে,এখনকার মতো ইতি টানছি ।

জয় বাংলা          জয় বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ   দীর্ঘজীবি   হোক