সেজে ওঠেছে কমলগঞ্জে মনিপুরী পাড়া, মহারাসলীলা ৩০ নভেম্বর – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সেজে ওঠেছে কমলগঞ্জে মনিপুরী পাড়া, মহারাসলীলা ৩০ নভেম্বর

প্রকাশিত: ৪:২৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২০

সেজে ওঠেছে কমলগঞ্জে মনিপুরী পাড়া, মহারাসলীলা ৩০ নভেম্বর

স্বপন দেব, নিজস্ব প্রতিবেদক :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মনিপুরী মহারাসলীলা সোমবার (৩০ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই কমলগঞ্জে মনিপুরী পাড়ায় পাড়ায় উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুরের মনিপুরী অধ্যুষিত গ্রামগুলোর পাড়ায় পাড়ায় এখন রাস উৎসবের রং ফুটে ওঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন মন্ডপে মন্ডপে চলছে রং করার কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। এলাকায় এখন মহারাসলীলার সুর বাজছে। ঘরে ঘরে চলছে শেষ মুহূর্তে রাস উৎসবের নৃত্য ও গানের তালিম। কিশোর কিশোরীরা দিবারাত্র প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন রাস লীলার।
মহারাসলীলার দিন দুপুরে উৎসবস্থল মাধবপুরের শিববাজার উন্মুক্ত মঞ্চ প্রাঙ্গণে হবে গোষ্ঠলীলা বা রাখাল নৃত্য। রাতে জোড় মন্ডপে রাসের মূল অনুষ্ঠান মহারাসলীলা। এ জন্য মনিপুরী গ্রামে বাড়ির উঠোনে ছেলেমেয়েরা নাচছে। আর গুরুরা (প্রশিক্ষক) দেখিয়ে দিচ্ছেন নাচের কলা কৌশরগুলো। কোথায় চলছে রাসনৃত্যের মহড়া। কোনো জায়গায় রাখালনৃত্যের। ভক্তি রসের এই মহা নৃত্যকে নিখুঁত করতে চলছে শেষ পর্যায়ে ঘষামাজা।
মনিপুরী সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় মহোৎসব “মহারাসমেলা”। রাসোৎসবে মনিপুরী সম্প্রদায়ের লোকজনের পাশাপাশি অন্যান্য জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার লোকজন মেতে উঠবে একদিনের এই মহাআনন্দ উৎসবে। মহারাত্রির আনন্দের পরশ পেতে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দেশি-বিদেশি পর্যটক, বরেণ্য জ্ঞানী-গুণী লোকজনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পদচারণয় মুখরিত হয়ে উঠবে মাধবপুর ও আদমপুরের মন্ডপ প্রাঙ্গণ।
রাস উৎসবকে ঘিরে মাধবপুর ও আদমপুরের মন্ডপগুলো সাজানো হয়েছে সাদা কাগজের নকশার নিপুণ কারুকাজে। মন্ডপকে করা হয়েছে আলোকসজ্জায় আলোকিত। সেখানে মনিপুরী শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুণ নৃত্যাভিনয় রাতভর মনমুগ্ধ করে রাখবে লাখো ভক্ত ও দর্শনার্থীদের। মনিপুরী পল্লীর এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থানসহ ভারত থেকেও মনিপুরী স¤প্রদায়ের লোকজনসহ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে অনেকেই ছুটে আসেন মহারাসলীলা অনুষ্ঠান উপভোগের জন্য।
এবার মাধবপুর জোড় মন্ডপে ১৭৮তম রাস উৎসব। মাধবপুরের রাসমেলার আয়োজক হচ্ছে মনিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘ। মনিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া সম্প্রদায়। উৎসবস্থল মাধবপুরের শিববাজার উন্মুক্ত মঞ্চ প্রাঙ্গণে হবে গোষ্ঠলীলা বা রাখাল নৃত্য। রাতে জোড় মন্ডপে রাসের মূল প্রাণ মহারাসলীলা।
অপরদিকে কমলগঞ্জের আদমপুরে মনিপুরী মৈতৈ সম্প্রদায় আয়োজন করছে পৃথক রাসমেলার। এবার হবে ৩৮তম রাস উৎসব। এখানেও থাকবে যথারীতি রাখাল নৃত্য ও রাসলীলা। তবে মনিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া ও মনিপুরী মৈতৈ এরা আলাদা স্থানে আয়োজন করলেও উৎসবের অন্ত:স্রোত, ভক্তিরসের কথা, আনন্দ-প্রার্থনা সবই একই। উৎসবের মূল কথা হচ্ছে বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি ও সত্যসুন্দর মানবপ্রেম।
আয়োজকরা জানান, রাস উৎসবকে সফল করতে প্রতিটি মন্ডপের পুরোহিতের পরামর্শে একজন প্রশিক্ষক ধর্মীয় বিধিবিধান মতো গোপীদের প্রশিক্ষণ দেন। গোপী শিল্পীদের বয়স ১৬ থেকে ২২ বছর। শুধুমাত্র রাধার বয়স ৫ থেকে ৬ বছর। নৃত্যের প্রতিটি দলে ন্ন্যূতম ১২ জন অংশ নিতে পারেন। একইভাবে রাখাল নৃত্যে প্রতিটি দলে ২০-২২ জন ১৪-১৫ বছর বয়সী বালক অংশ নেয়।
রাসমেলার আয়োজকরা জানিয়েছেন, মহারাসলীলাল মূল উপস্থাপনা শুরু হবে সকাল ১১টা থেকে ‘গোষ্ঠলীলা বা রাখালনৃত্য’ দিয়ে। গোষ্ঠলীলায় রাখাল সাজে কৃষ্ণের বাল্যবেলাকে উপস্থাপন করা হবে। এতে থাকবে কৃষ্ণের সখ্য ও বাৎসল্য রসের বিবরণ। গোধূলি পর্যন্ত চলবে রাখালনৃত্য। রাত ১১টা থেকে পরিবেশিত হবে মধুর রসের নৃত্য বা শ্রীশ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা। রাসনৃত্য ভোর (ব্রহ্ম মুহূর্ত) পর্যন্ত চলবে। রাসনৃত্যে গোপিনীদের সাথে কৃষ্ণের মধুরলীলার কথা, গানে ও সুরে ফুটিয়ে তুলবেন শিল্পীরা।