সেতু ও সড়ক নিয়ে বিপাকে ২৫ গ্রামবাসী, দূর্ভোগ পোহাতে চাই সংশ্লিষ্ট্র কর্তৃপক্ষে নজরদারী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সেতু ও সড়ক নিয়ে বিপাকে ২৫ গ্রামবাসী, দূর্ভোগ পোহাতে চাই সংশ্লিষ্ট্র কর্তৃপক্ষে নজরদারী

প্রকাশিত: ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২০

সেতু ও সড়ক নিয়ে বিপাকে ২৫ গ্রামবাসী, দূর্ভোগ পোহাতে চাই সংশ্লিষ্ট্র কর্তৃপক্ষে নজরদারী

সেতু ও সড়ক নিয়ে চরম বিপাকে আছেন জামালগঞ্জে ২৫ গ্রামবাসী। তাদের দূর্ভোগ পোহাতে চাই সংশ্লিষ্ট্র কর্তৃপক্ষের নজরদারী। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর এলাকায় রক্তিনদীর ওপর সেতু নির্মাণের দেড় বছর পরও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এই কারণে সেতুর সুফল ভোগ করতে পারছেন না সাচনা বাজার ইউনিয়ন ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ২৫ গ্রামের মানুষ। ২০১৫ সালে রক্তি নদীর ওপর ৭২ মিটার দীর্ঘ ও ২৪ ফুট প্রস্তের সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০১৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কাজ শেষ হয়। কিন্তু সেতুর দুই পাশে এপ্রোচ রোড না থাকায় বাঁশের চাটাই দিয়ে দুই পাশে আড় বেঁধে এসব এলাকার মানুষ অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে সেতু ব্যবহার করছেন।

দুর্লভপুর গ্রামের আবুল কালাম বলেন, সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এলাকার মানুষ সেতু ব্যবহার করতে পারছেন না। বাঁশের চাটাইয়ের ওপর দিয়ে হেঁটে পার হন। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রতিদিন শতশত মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনে সাচনা বাজারে আসা যাওয়া করেন। নুরপুর গ্রামের গৃহিনী তাহমিনা খাতুন বলেন, ‘সাচনা বাজারে ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে এসেছেন। ছোট শিশু হেঁটে সেতুতে উঠতে ভয় পায় তাই কোলে নিয়ে সেতু পার করছেন। ’

রাধানগর গ্রামের তেরাব আলী বলেন, ‘রক্তি নদীর উত্তরপাড়ে ১৩টি গ্রামের ২০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। সেতুর সড়ক না থাকায় ১৩ গ্রামের মানুষ সাচনা বাজারে প্রতিদিন কষ্ট করে যাতায়াত করছেন।’ রামনগর গ্রামের সেলিম আহমদ তালুকদার বলেন, ‘এলাকার মানুষ আগে নৌকা দিয়ে খেয়া পারাপার হয়ে সাচনা বাজারে আসা-যাওয়া করতেন। সেতু নির্মাণ হওয়ায় তাদের কষ্ট ও সময় সাশ্রয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ সেতুর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’ সাচনাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হক অফিন্দি বলেন, ‘দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রনিজত চৌধুরী রাজন বলেন, ‘সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলে ফতেহপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের লোকজন সরাসরি সাচনা বাজার ও জামালগঞ্জ উপজেলা সদরে সড়ক পথে চলাচল করতে পারবেন।’

সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল আহমদ বলেন, ‘৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রথমবার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় কোনও ঠিকাদার দরপত্রে অংশগ্রহণ করেননি। বর্তমানে শর্ত কিছুটা শিথিল করে দ্বিতীয় পর্যায়ে দরপত্র আহ্বান করার প্রক্রিয়া চলছে। এটি হলে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করা যাবে। ’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •