সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা: জঙ্গিবাদ উত্থানের জন্য স্বৈরাচারী সরকারের শাসন দায়ী

প্রকাশিত: ২:২২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০১৬

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা: জঙ্গিবাদ উত্থানের জন্য স্বৈরাচারী সরকারের শাসন দায়ী

file (3)বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের উত্থানের জন্য অতীতের স্বৈরাচারী সরকারের দীর্ঘমেয়াদি শাসনকে দায়ি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে অতীতে বিভিন্ন সময়ে অগণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার কারণে জাতীয় স্বার্থ পরিবর্তন হয়েছে। এতে জাতীয় নিরাপত্তায় গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই প্রভাবের কারণে বর্তমানে আমরা সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের উত্থান দেখতে পাচ্ছি।

তারিক আহমেদ সিদ্দিক বলেন, আমলাতন্ত্র, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও এমনকি অনেক কূটনীতিকের উৎসাহ এবং সমর্থন ছাড়া সামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারত না।

বুধবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি একথা বলেন। ‘গণতন্ত্রে সামরিক-বেসামরিক সর্ম্পক : একটি কার্যকরী রূপরেখা’ শীর্ষক সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বিআইআইএসএস।

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেন, গুলশানে জঙ্গি হামলা মোকাবেলার মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে। এর দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে বাংলাদেশে সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান হবে না, তারা কোথাও আশ্রয় পাবে না। আমরা সন্ত্রাসকে পরাজিত করবো।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুর রহমান, সূচনা মন্তব্য করেন সংস্থার চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে: জেনারেল মাহফুজুর রহমান।

বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী জনগণের আস্থা অর্জন করেছে উল্লেখ করে তারিক আহমেদ সিদ্দিক বলেন, উন্নয়নশীল দেশের সামরিক বাহিনীকে উন্নয়ন কর্মকান্ডসহ বিভিন্ন ধরনের ভূমিকা নিতে হয়। বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। আমাদের সামরিক বাহিনীকে অনেক ধরনের কর্মকান্ডে লিপ্ত হতে হয়েছে। এসব কাজে তারা পারদর্শীতার পরিচয় দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, অনেকের ধারণা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা অনেক কিছু বিনামূল্যে পায়। ধারণাটা সত্য না। একজন বেসামরিক কর্মকর্তার তুলনায় একজন সামরিক কর্মকর্তা অতিরিক্ত কিছু পায় না। সামরিক বাহিনী তাদের সম্পদ নিজস্ব পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনা করে। এর মধ্যেই তারা নিজেদের জন্য ভাল আবাসনের ব্যবস্থা করে। সরকার থেকে তাদের যা দেয়া হয়, তার মধ্যেই তারা চলে।

সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক ও মিডিয়ার ভূমিকা সম্পর্কে তারিক আহমেদ সিদ্দিক বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে সামরিক বাহিনীর তথ্য গোপনের একটি প্রয়াস থাকে, আর মিডিয়া সেটি প্রচার করতে আগ্রহী হয়। অন্যদিকে বেসামরিক প্রশাসন মিডিয়ার প্রতি অনেক সহনশীল এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। সামরিক বাহিনী ও মিডিয়ার পেশাগত পদ্ধতিটিই সাংঘর্ষিক। তবে একজন তথ্যসমৃদ্ধ নাগরিকই সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বড় বন্ধু।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা আন্ত:বাহিনী গণসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন ।

সেমিনারে তিন বাহিনীর প্রধানসহ র‌্যাবের মহাপরিচালক ও ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এতে গণতান্ত্রিক পরিবেশে সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক উন্নয়নে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা বিষয়ক ধারণাপত্র উত্থাপন করেন জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজের (এনডিসি) কমান্ডেন্ট লে: জেনারেল চৌধুরী হোসেন সরওয়ার্দি।

সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাওরান সিং।

গণতন্ত্রে সামরিক-বেসামরিক সর্ম্পকের কার্যকর রূপরেখা বিষয়ে ধারণাপত্র উত্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক অধ্যাপক রাশেদুজ্জামান।

এই সম্পর্ক নিয়ে শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন দেশটির প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. এম এম জয়াবর্ধন।

সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক উন্নয়নে বেসামরিক প্রশাসনের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মুহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন।

বাংলাদেশে সামরিক-বেসামরিক সম্পর্কের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) শাখাওয়াত হোসেন।

সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক নিয়ে নেপালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন নেপাল রাজকীয় সেনাবাহিনীর সাবেব প্রধান লে: জেনারেল নেপাল চাদ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল