সোহাগী হত্যা : ২১ দিনেও গ্রেপ্তার নেই – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সোহাগী হত্যা : ২১ দিনেও গ্রেপ্তার নেই

প্রকাশিত: ৭:৫৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৬

সোহাগী হত্যা : ২১ দিনেও গ্রেপ্তার নেই

19758কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ২১ দিনেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি।

রোববার দুপুরে সিআইডির উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুব মোহসিন তনুর লাশ পাওয়ার স্থান পরিদর্শন করেছেন, এবং এরপর তিনি তনুর মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেন।

সিআইডির কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. নাজমুল করিম খান পরিদর্শনের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও তনুর লাশের প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকসহ দুই চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার বিকেলে তাদের কুমিল্লা সিআইডি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে সিআইডির উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুব মহসিনের নেতৃত্বে সিআইডির একটি দল কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাস এলাকায় প্রবেশ করে। এরপর তারা ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার ও জিওসি মেজর জেনারেল মো. এনায়েত উল্লাহ, স্টেশন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জে. কাজী শওকত আলম, তনুর বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তনুর লাশ উদ্ধারের স্থান পরিদর্শন শেষে বিকেল সোয়া ৩টায় তারা কুমিল্লা সিআইডি দপ্তরে ফিরে আসেন।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল আজাদ চৌধুরী, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ও তদন্ত সহায়ক দলের প্রধান আবদুল কাহার আকন্দ, কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার নাজমুল করিম খান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম।

পুলিশ সুপার বলেন, তনুর হত্যার স্থানটি পরিদর্শন করে ডিআইজি মাহবুব মোহসিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগমসহ কয়েকজন স্বজনের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তিনি জানান, সেখান থেকে দুপুরের পর সিআইডি কার্যালয়ে ফিরে আসেন। সেখানে প্রথম ময়নাতদন্তকারী ফরেনসিক বিভাগের ডাক্তার শারমিন সুলতানা ও বিভাগীয় প্রধান কামদা প্রসাদ সাহাকে তাদের ময়নাতদন্তের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় নিজের বাড়ির কয়েকশ গজের মধ্যে ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনুর লাশ পাওয়া যায়। তাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে পুলিশের ধারণা।

প্রথম দফা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত না মেলার কথা বলা হলেও কবর থেকে লাশ তুলে ইতোমধ্যে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করা হয়েছে আদালতের নির্দেশে।

এ ঘটনায় তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মচারী ইয়ার হোসনের করা মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও ২৫ মার্চ ডিবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ৩০ মার্চ মামলাটি আবার সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।

কিন্তু হত্যাকাণ্ডের ২১ দিন পরও এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন কাউকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে না পারায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ-মানববন্ধন চলছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল