সৌদি জোটের ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৭ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সৌদি জোটের ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৭

প্রকাশিত: ১১:২০ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০২০

সৌদি জোটের ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৭

সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। এই হামলায় দেশটির সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফের আত্মীয়-সহ অন্তত সাত সেনাসদস্য নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে ফরাসী বার্তাসংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত সরকারের সামরিক ঘাঁটিতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় দেশটির চিফ অফ স্টাফের স্বজনসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত ২৪ এপ্রিল দেশটিতে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের এক মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বুধবার রাতে হামলা চালায় হুথি বিদ্রোহীরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি হুথিরা।

দেশটির সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর ৮ সদস্য নিহত ও আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, হুথি বিদ্রোহীরা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে একটি মারিব প্রদেশে সেনাবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে এবং অন্যটি সামরিক বাহিনীর এক ঘাঁটিতে আঘাত করেছে।

অন্যদিকে, দেশটির সেনাবাহিনীর অপর তিনটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত সাতজন মারা গেছেন। তারা বলেছেন, হামলায় চিফ অফ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল সগীর বিন আজিজ বেঁচে গেছেন। তবে তার এক ছেলে এবং ভাতিজা-সহ হামলায় সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই তথ্য টুইটারে নিশ্চিত করেছেন জেনারেল সগীরের অপর এক ছেলে।

২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে হুথি বিদ্রোহীরা। হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল-হাদি। ২০১৫ সালের মার্চের দিকে ইয়েমেনি এই প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতায় ফেরাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে।

তখন থেকে ইয়েমেনে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে দুই পক্ষের যুদ্ধে; যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। দীর্ঘ এই যুদ্ধে কবলে পড়ে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ইয়েমেন। জাতিসংঘ ইয়েমেন পরিস্থিতিকে বিশ্বে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল