স্বচ্ছ পানির ‘নীল নদ’ সিলেটের লালাখাল, যেভাবে যাবেন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

স্বচ্ছ পানির ‘নীল নদ’ সিলেটের লালাখাল, যেভাবে যাবেন

প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০

স্বচ্ছ পানির ‘নীল নদ’ সিলেটের লালাখাল, যেভাবে যাবেন

সিলেটের দিনকাল ডেস্ক:
এমনিতে সিলেট শহর হযরত শাহজাল (রঃ), শাহপরান (রঃ)-সহ আরও অনেক মাজার, কিন ব্রীজ, ঐতিহাসিক আলী আমজাদের ঘড়ি, শহর ঘেঁষা চা বাগান আর এয়ারপোর্ট রোডের আশপাশটা ঘুরেফিরে সারাদিন পার করে দেওয়া যায়। সঙ্গে রইলো পাঁচভাই হোটেল আর পানসি রেস্তোরাঁর মতো জায়গায় তৃপ্তি নিয়ে খাওয়া-দাওয়া। তবে সিলেট ভ্রমণে বাড়তি পাওনা হিসেবে জুটতে পারে আশপাশের এলাকার মধ্যে ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর আর নয়ন জুড়ানো স্বচ্ছ পানির ‘নীল নদ’ লালাখালের সৌন্দর্য।

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় অবস্থিত লালাখাল। দূরত্ব সিলেট শহর থেকে প্রায় ৩৯ কিলোমিটার। লালাখালের সবচেয়ে নয়ন জুড়নো একটা দৃশ্য বিভিন্ন অংশে নীল আকাশি এবং স্বচ্ছ পানির দেখা মেলে। এখানে অবশ্য শীতকালেই যাওয়ার উপযুক্ত সময়। কেননা ভরা বর্ষায় পানির প্রবাহ আর স্রোত বেশি থাকায় পানি অনেকটাই ঘোলাটে থাকে। আর শীত মৌসুমে গেলে পানির স্বচ্ছতা আপনাকে করবে বাকরুদ্ধ। এতটাই স্বচ্ছ যাতে পানির তলদেশ দেখে সেখানকার গভীরতাই ধারণা করতে পারবেন না।

আবার কিছু জায়গায় পানির রং বদলে হয়ে যাবে; একেবারেই একটা আস্ত সুইমিং পুল। লালাখালের দুপাশে মায়াবী সুন্দর্য আর ছোট বড় পাহাড়ি ঢেউয়ের হাতছানি আপনাকে বিমোহিত রাখবে পুরোটা সময়। সঙ্গে চা বাগানে আলগোছে কাটিয়ে দিতে পারেন আরও কিছুটা সময়। শরীরের অলসতাকে পুঁজি করে ছায়াশীতল বাগানে বিশ্রাম নিয়ে দেখতে পারেন। হয়তো জীবনের শেষের বসন্তগুলো কাটানোর জন্য এমন একটা জায়গার কথাই ভেবে রেখেছিল আপনার মন।

এপার ওপার দিয়ে বিনে সুতোর মালা গাঁথছে ছোট্ট নৌকাগুলো। লোকজন আসে, প্রাণ ভরে দেখে আর তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে পুনরায় দেখার আকুতি নিয়ে চলে যায় আপন গন্তব্যে। প্রকৃতির তারিফ করা তাদের গল্প আর ছবিগুলো কেবলই ডানা মেলে, অনুপ্রাণিত করে দেশ বিদেশের মানুষদের। প্রলুদ্ধ হয়ে আরও বেশি দর্শক আসে, এভাবে মানুষের আনাগোণা কেবলই বাড়তে থাকে রূপের রাণী লালাখালে।

যেভাবে যাবেন লালাখাল:
সিলেট শহর থেকে সিএনজি রিজার্ভ করে যাওয়া যায়। আসা-যাওয়া আর লালাখালে ঘোরার সময় পর্যন্ত অপেক্ষা সব মিলিয়ে ১০০০ থেকে ১১০০ টাকার মতো নেবে। তবে দরদাম করে আর ভ্রমণের সময়ের ওপর নির্ভর করে ভাড়া কিছু কম বেশি হতে পারে। এছাড়া জাফলংগামী বাসে চড়ে কিংবা লেগুনা দিয়ে সিলেট জাফলংয়ের মধ্যবর্তী সারিঘাটে নেমে ওখানে থেকে ট্রলারে করে লালাখাল ভ্রমণ করা যায়। ভাড়া পরবে লেগুনা বা বাসে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। আর ট্রলার সারিঘাট থেকে ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত। দরদাম আর সময়ের ওপর ভাড়া কমবেশি হতে পারে। আর সিএনজি রিজার্ভ নিলে একেবারে লালাখাল ঘাটে নিয়ে যাবে ওখানে ট্রলার ভাড়া ঘন্টায় ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায় নেওয়া যাবে। সারিঘাট থেকেও অটোতে করে জনপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকায় লালাখাল ঘাটে যেয়ে ঘণ্টা ভিত্তিতে ট্রলার ভাড়া করে ঘুরতে পারেন।

থাকার ব্যবস্থা:
আসলে ভোলাগঞ্জে সিলেট শহরের মতো খুব ভালো জায়গা না থাকলেও কিছু বোর্ডিং আছে। তবে লালাখালে পাবেন কিছু রিসোর্ট। দেড় ঘণ্টার দূরত্বে সিলেট শহর সেক্ষেত্রে সবাই শহরেই ফিরে আসে।

সাবধানতা:
ভোলাগঞ্জে সাঁতার জানা থাকলে তুলনামুলক কম স্রোত থাকা জায়গায় আর দলের সঙ্গে থেকে লাইফ জ্যাকেট নিয়েই পানিতে নামতে হবে। লালাখালে কিছু জায়গায় চোরাবালি আছে (মাঝির ভাষ্যমতে)। তাই এই ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে।

থাকা-খাওয়া:
সিলেটে ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকায় মোটামুটি ভালো হোটেলে থাকা যায়। খাবার মোটামুটি সব জায়গায়ই ভালো। তবে পানসি আর পাঁচ ভাই রেস্তোরাঁয় খেতে ভুলবেন না। সাশ্রয়ী আর স্বাদ দুটোই পাবেন। মনে রাখবেন- ছবির মতো সুন্দর জায়গাগুলোতে যেখানে সেখানে প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট, যে কোনো ময়লা ফেলে নষ্ট করবেন না। প্রয়োজনে সঙ্গে রাখুন। পরে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলুন।