স্বজনেরা ফিরছেন, আট পরিবারে ঈদের আনন্দ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

স্বজনেরা ফিরছেন, আট পরিবারে ঈদের আনন্দ

প্রকাশিত: ৪:২৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০১৬

স্বজনেরা ফিরছেন, আট পরিবারে ঈদের আনন্দ

fd61584cc8a462f518993ce88eccd739-Malaysia-1দেড় বছর আগে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় নিখোঁজ হন যশোরের ঝিকরগাছার শহিদুল ইসলাম। এরপর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। কাল বুধবার শহিদুল দেশে ফিরছেন, এমন খবর শুনে স্ত্রী সেলিনা আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আল্লাহ, তুমি তাইলে আমার কথা শুনিছ।’

আর নারায়ণগঞ্জের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সুমী আক্তার বাবার ফিরে আসার খবর শুনে বললেন, ‘কাল তো তাহলে আমাদের ঈদের দিন।’

এই দুজন ছাড়াও সগরপথে পাচারের শিকার আরও ছয় বাংলাদেশি কাল বুধবার মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরবেন। এঁরা হলেন কক্সবাজারের খায়রুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের খলিলুল্লাহ, যশোর সদর উপজেলার আলমগীর হোসেন, নরসিংদীর রায়পুরার মিলন মিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের সিরাজুল ইসলাম ও বরিশালের মুলাদীর মোহাম্মদ সজীব হোসেন। স্বজনের ফিরে আসার খবরে প্রতিটি পরিবারের এখন উচ্ছ্বাস-আনন্দ।

মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা আজ মঙ্গলবার বিকেলে এ প্রতিবেদককে এই আট বাংলাদেশির ফিরে আসার তথ্য জানালেন। এর সূত্র ধরে বিকেলে মুঠোফোনে কথা হয় শহিদুলের স্ত্রী সেলিনার সঙ্গে। স্বামী ফিরে আসার খবর পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘২০১০ সালে আমাদের বিয়ে হয়। চার বছরের একটা মেয়ে আছে। ১৮ মাস ধরে স্বামী নিখোঁজ। কত জায়গায় ঘুরছি। কোনো খবর পাই না। আল্লাহই তারে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছে।’

আলমগীর হোসেনের স্ত্রী রিজিয়া বেগম বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ধরে স্বামী নিখোঁজ। মাছের ব্যবসা করত। কার পাল্লায় যেন পড়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। ধরা পড়ার পর একবার জেল থেকে কথা হয়। আর কোনো খোঁজ নেই। দুশ্চিন্তা করতে করতে শেষ। আজকে সেই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেলাম।’

বাবা আনোয়ার হোসেনের ফেরার খবর পেয়ে সুমী আক্তার জানাল, ‘কাল বাবা বাড়ি এলে তাদের ঈদ হবে।’ আনোয়ার আটক হওয়ার পর যে প্রতিবেশীর নম্বর দিয়েছিলেন, সেই সূত্রে সুমীর সঙ্গে আলাপ। জানা গেল, আনোয়ার মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। স্ত্রী শেফালী কাজ করেন সেলাইয়ের দোকানে। দুই মেয়ে, এক ছেলের সংসার। ভাগ্য ফেরাতে মালয়েশিয়া গিয়ে নিখোঁজ হন।

ভাগনে মোহাম্মদ সজীব হোসেনের ফেরার কথা শুনে জামাল শিকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বোনটা অনেক দিন ধরে অসুস্থ। ভাগনেটা আমরাই মানুষ করছিলাম। কীভাবে যে মালয়েশিয়া গেল। সবাই ধরেই নিয়েছিল বুঝি আর বেঁচে নেই…।’ জামাল শিকদার বাকি কথা শেষ করার আগেই কাঁদতে থাকেন। সেই কান্না থামতে সময় লাগে।

এই আট বাংলাদেশিরে ফিরে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (শ্রম) শাহিদা সুলতানা আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৮৭ ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর থেকে এই আটজন কাল বিকেলে ঢাকায় পৌঁছাবেন। এ নিয়ে মোট ৬৭৮ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হলো।’

সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় গত বছরের ১১ মে লংকাবি উপকূল থেকে এই ৭১৬ জন বাংলাদেশিকে আটক করে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মালয়েশিয়া ছাড়াও মিয়ানমার থেকে ৯১১ জন, ইন্দোনেশিয়া থেকে ৭৬৪ জন এবং থাইল্যান্ড থেকে এখন পর্যন্ত ৪৪৮ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে এঁদের পাচারের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা প্রায় সবাই ধরাছোঁয়ার বাইরে।