আধা কিলোমিটার সড়ক এখন পুকুরে পরিণত – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

আধা কিলোমিটার সড়ক এখন পুকুরে পরিণত

প্রকাশিত: ১০:২৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৯

আধা কিলোমিটার সড়ক এখন পুকুরে পরিণত

সিলেট শহরতলীর ধোপাগুল শহীদ মিনার চত্বর থেকে সাহেববাজার হয়ে হরিপুর সড়ক। দেশের একমাত্র জলাবন রাতারগুলে যাওয়ার পথ এটি। এ সড়কের আধা কিলোমিটার অংশের বেহাল অবস্থা কয়েক বছর ধরে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের।

বিভিন্ন সময়ে সড়কের অন্য অংশ সংস্কার করা হলেও এ অংশটি অবহেলিত। সড়কে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। রাস্তার দুই পাশে গড়ে ওঠা পাথর ভাঙার কারখানার (ক্রাসার মিল) পানি সড়কে জমে থাকে। ফলে এসব গর্ত পুকুরের আকার ধারণ করেছে।

সম্প্রতি সড়কের এ অংশ মেরামতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কয়েক গ্রামের মানুষ। তারা বলছেন, ধোপাগুল-সাহেবেরবাজার-হরিপুর সড়কের ধোপাগুল-মহালদিক সেতু অংশে কয়েক বছর ধরে সংস্কার কাজ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন জনসাধারণ। এজন্য তারা বিভিন্ন দপ্তরে বার বার ধরনা দিলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই তরা আন্দোলনে নেমেছেন।

তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) বলছে, এ সড়কের উভয় পাশে বেশ কয়েকটি ক্রাসার মিল আছে। এসব মিলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। ফলে পানি সড়কে গড়াচ্ছে। পানি বন্ধ না করলে এ সড়ক সংস্কার করে লাভ হবে না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কের এ অংশের দৈর্ঘ‌্য আধা কিলোমিটারও হবে না। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সংস্কার করা হচ্ছে না। ফলে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, গত বছর স্থানীয়রা সড়কে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এর পরেও কোনো কাজ হয়নি।

রাতারগুলে ঘুরে আসা ঢাকার শিক্ষার্থী ফয়সল বলেন, ‘সারাটা পথ ভালো। কিন্তু সড়কের এ অংশে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গর্ত এমন বিশাল যে, তাদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশার চাকা পুরোটাই পানিতে ডুবে গেছে।’

এ সড়ক সংস্কারের দাবিতে গঠিত হয়েছে ধোপাগুল-সাহেবেরবাজার রাস্তা সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ। এর আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে সড়কের বেহাল দশা। এজন্য আমরা বিভিন্ন দপ্তরে আবেদনও করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছি।’

একই কথা বলেন সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দিলোয়ার হোসেন। তিনি এ সড়ক দ্রুত সংস্কার করতে সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে এলজিইডির সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক এস এম মহসিন বলেন, ‘সড়কের ধোপাগুল-মহালদিক অংশের দুই পাশে গড়ে ওঠা ক্রাসার মিলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখেননি মালিকরা। এতে সারা বছরই পানি জমে থাকে সড়কে।’

তিনি বলেন, এই শুষ্ক মৌসুমে যে সড়কে হাঁটুপানি, সে সড়কে সংস্কার করেও সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা আশা করা যায় না। তবে পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা করলে সড়ক মেরামত করা সম্ভব।

নিজস্ব প্রতিবেদক