সড়কে নতুন আইন জরিমানা নিয়ে আতঙ্কে চালক ও পরিবহন মালিক – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সড়কে নতুন আইন জরিমানা নিয়ে আতঙ্কে চালক ও পরিবহন মালিক

প্রকাশিত: ১১:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০১৯

সড়কে নতুন আইন জরিমানা নিয়ে আতঙ্কে চালক ও পরিবহন মালিক

ফাহাদ হোসাইন
বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ থেকে কার্যকর হচ্ছে। প্রণয়নের এক বছরেরও বেশি সময় পর আইনটি বাস্তুবায়ন হতে যাচ্ছে। নতুন এ আইনে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ৬ মাসের জেল অথবা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ- হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধের জন্য জেল-জরিমানার সঙ্গে চালকের পয়েন্ট কাটা হবে।
গত ২২ অক্টোবর আইনটি কার্যকরের তারিখ ঘোষণা করে গেজেট জারি করে সরকার। নতুন আইনে কঠোর শাস্তিুর বিধান রাখা হয়েছে। নতুন সড়ক পরিবহন আইনকে স্বাগত জানালেও আইনটির কয়েকটি ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন পরিবহন মালিকরা।
নতুন আইনে ট্রাফিক সংকেত ভঙ্গের জরিমানা ৫০০ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার, হেলমেট না পরলে জরিমানা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। সিটবেল্ট না বাঁধলে, মোবাইল ফোনে কথা বললে চালকের সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।
তবে নতুন সড়ক আইনে সিলেটের লাইসেন্স ছাড়া চালক ও রেজিষ্ট্রেশনবিহিন গাড়ির মালিকদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। লাভ হয়েছে দুনীতিকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের। এদিকে নতুন আইনের মামলা ও জরিমানা নিয়ে মটরবাইকদের মনে আতংক বিরাজ করছে। ব্যাস্তু সময় পার করছেন হেলমেট ব্যাবসায়ীরা সাথে সাথে বেড়েছে হেলমেটের ও দাম। নতুন সড়ক আইন অনুযায়ী জরিমানা ও শাস্তিু নিয়ম হলো
আইনের ১১০ নম্বর ধারায় বলা হয়, পোশাকধারী পুলিশ অফিসারের সামনে কোনো ব্যক্তি ৭২, ৭৩, ৭৫, ৭৭, ৭৯, ৮৪, ৮৬, ৮৯, ৯২ (১), ৯৮ এবং ১০৫ নম্বর ধারার অধীন শান্তিযোগ্য কোনো অপরাধ করলে ওই ব্যক্তিকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারবেন।
এ ধারায় উল্লেখিত ৭২ নম্বর ধারায় বলা হয়, রেজিস্ট্রেশন ব্যতীত মোটরযান চালানো সংক্রান্ত ধারা লঙ্ঘন করলে তিনি ৬ মাসের কারাদন্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
৭৩ নম্বর ধারায় বলা হয়, ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার ও প্রদর্শনী বিধি-নিষেধ সংক্রান্ত ধারার বিধান লঙ্ঘন করলে তিনি সর্বনিম্ন ৬ মাস এবং সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদন্ড বা সর্বনিম্ন এক লাখ এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
৭৫ নম্বর ধারায় বলা হয়, মোটরযানের ফিটনেস সনদ ব্যতীত বা মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস সনদ ব্যবহার করে বা ইকোনমিক লাইফ অতিক্রান্ত ফিটনেসের অনুপোযোগী, ঝুঁকিপূর্ণ মোটরযান চালানো সংক্রান্ত ধারা লঙ্ঘন করলে তিনি ৬ মাসের কারাদন্ড বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
৭৭ নম্বর ধারায় বলা হয়, রুট পারমিট ব্যতীত পাবলিক প্লেসে পরিবহন যান ব্যবহার সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘন করলে তিন মাসের কারাদন্ড বা বিশ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। ৭৯ নম্বর ধারায় বলা হয়, মোটরযানের বাণিজ্যিক ব্যবহার সংক্রান্ড ধারার বিধান লঙ্ঘন করলে তিন মাসের কারাদন্ড বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
৮৪ নম্বর ধারায় বলা হয়, কর্তৃপক্ষ থেকে নির্ধারিত কোনো মোটরযানের কারিগরি বিনির্দেশ অমান্য সংক্রান্ড বিধান লঙ্ঘন করলে তিনি সর্বনিম্ন এক বছর এবং সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদন্ড বা তিন লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। ৮৬ নম্বর ধারায় বলা হয়, অতিরিক্ত ওজন বহন করে মোটরযান চালানো সংক্রান্ড ধারার বিধান লঙ্ঘন করলে এক বছর কারাদন্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
৮৯ নম্বর ধারায় বলা হয়, পরিবেশ দূষণকারী, ঝুঁকিপূর্ণ ইত্যাদি মোটরযান চালানোর বিধিনিষেধ সংক্রান্ত ধারার বিধান লঙ্ঘন করলে তিন মাসের কারাদন্ড বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
৯২ (১) নম্বর ধারায় বলা হয়, মোটরযান চলাচলের সাধারণ নির্দেশনাবলী সংক্রান্ত ধারা লঙ্ঘন তিনি করলে তিন মাসের কারাদন্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন তিনি। ৯৮ নম্বর ধারায় বলা হয়, ওভারলোডিং বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে যান চালানোর কারণে দুর্ঘটনায় জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি হলে সংশিষ্ট চালক বা কন্ডাক্টর অথবা সহায়তাকারী তিন বছর কারাদন্ড বা ৩ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
১০৫ নম্বর ধারায় বলা হয়, বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত মোটরযান চালানোর কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত বা নিহত হলে তিনি পাঁচ বছর কারাদন্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাসের বলেন, এসব বিধান সব মোটরযানের জন্য প্রযোজ্য। অনান্য যান ছাড়াও মোটরসাইকেল চালকরাও অপরাধ করলে এ আইনের বিধান অনুযায়ী শান্তি পাবেন।
এ বিষয়ে চালদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এতো দিন কোনো রকম টেলাই দাকায়া চলি গেছে অনলাইন মিডিয়া কিছু নিউজ দেখলাম নতুন আইন সম্পর্কে এতো রিস্ক নিয়ে গাড়ি চালানো আমার পক্ষে সম্ভব নায়।জরিমানা ও দিতে হবে জেল ও খাটতে হবে। এভাবে চলবো কিভাবে। এক পরিবহন মালিকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমারা তো এতো দিন কোনো রকম সমিতি দিয়ে পুলিশের সাহায্য চলিয়ে নিয়েছি। এখন সমিতি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেবে তারাই ভালো জানে।
এদিকে নতুন আইনে প্রথম সপ্তাহে কোনো মামলা হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সাংবাদিক ও পুলিশের উদ্দেমে বলেন প্রথম সাতদিন এই প্রচারণা চলবে। এই সময় কোনো পরিবহনের বিরুদ্ধে নতুন আইনে মামলা দায়ের না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।’