হঠাৎ ডাকাত আতঙ্ক? ভোররাতে ৩ ডাকাত আটক – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

হঠাৎ ডাকাত আতঙ্ক? ভোররাতে ৩ ডাকাত আটক

প্রকাশিত: ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ, মে ৫, ২০১৬

হঠাৎ ডাকাত আতঙ্ক? ভোররাতে ৩ ডাকাত আটক

13139278_765659816868654_5068578073399547774_nসিলেটের শাহপরান থানা পুলিশের কাছে খবর ছিলো- ছয় সদস্যের এক দল ডাকাত ঢাকা থেকে সিলেট এসেছে ডাকাতি করতে। বুধবার রাত শাহপরান থানা এলাকায় এই ডাকাতরা হানা দিতে পারে এমন খবরও ছিলো তাদের কাছে।

এই খবর শাহপরান থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়ে দেন নিজেদের স্থানীয় সোর্স আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে ও ডাকাতের সন্ধান পেলে থানায় জানাতেও অনুরোধ করেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

এই হলো বুধবার রাতের নগরজুড় ডাকাত আতঙ্কের উৎস। এরপর এ মুখ ও মুখ হয়ে ডাকাতরা হামলা করতে পারে এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে নগরময়। শাহপরান থানা এলাকা ছাড়িয়ে নগরীর প্রায় সকল মসজিদ থেকে ঘোষণা দেওয়া হত থাকে ‘পাশের এলাকায় ডাকাত পড়েছে, নিজেরা সতর্ক হোন, ডাকাত প্রতিরোধ করুন’। এমন ঘোষণায় মধ্যরাতে দলে লোকজন নেমে আসেন রাস্তায় দা-লাঠি হাতে খুঁজতে থাকেন ডাকাত। পুরো নগরজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। নগরজুড়ে আতঙ্ক।

বুধবার মধ্যরাতে নগরীর বেশকয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন রাস্তায় রাস্তায় ডাকাত খোঁজার প্রচেষ্টা দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্র্তা (ওসি) শাহজালাল মুন্সী বলেন, ঢাকা থেকে চৌকুস একটি ডাকাত দল সিলেটে এসে প্রায়ই অভিযান চালায়। আমরা দীর্ঘদিন থেকে তাদের ধরার চেষ্টা করছি। আমাদের কাছে খবর ছিলো- বুধবার রাতেও এই ডাকাত দল অভিযান চালাতে পারে। তাই কয়েকজনকে সতর্ক থাকতে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কি করে কি করে যেনো পুরো নগরীতে ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।’

আর সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) রহমতউল্লাহ  বলেন, কিছু মানুষ অতি আতঙ্কিত হয়ে পুরো নগরীজুড়েই ডাকাতের হামলার গুজব ছড়িয়ে দিয়েছিলো। এতে আতঙ্কিত হওয়া কিছু নেই জানিয়ে রহমতউল্লাহ বলেন, পুলিশ তৎপরত রয়েছে। অতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

বুধবার রাত দেড়টার দিকে নগরীর মেন্দিবাগ এলাকা থেকে মোবাইল ফোনে কর করে এই প্রতিবেদককে জানানো হয়, তাদের এলাকার মসজিদের মাইক থেকে জানানো হচ্ছে- নদীর দক্ষিণ পাড়ের আলমপুর ও হবিনন্দী এলাকায় ডাকাত পরেছে। মাইকে সবাইকে সতর্ক হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

এসময় হবিনন্দী এলাকার বাসিন্দা রানা ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তারা শুনেছেন নদীর পশ্চিমপাড়ে মাছিমপুর এলাকায় ডাকাত পড়েছে। তাই তাদের এলাকার সব যুবকরা লাঠি হাতে ডাকাত প্রতিরোধে রাস্তায় নেমে এসেছেন।

রাত ২টা দিকে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় একদল যুবক লাঠি হাতে জিন্দাবাজারের দিকে আসছেন। শরীফ আহমদ নামে তাদর একজন বলেন, ‘শুনেছি জল্লারপাড়ের দিকে ডাকাতরা দৌড়ে পালিয়েছে। তাদের ধরতে বেরিয়েছি।’

নগরীর শিবগঞ্জ, টিলাগড়, বালুচর, ভার্তখলা- প্রায় পুরেোা নগরজুড়েই বুধবার রাতের চিত্র ছিলো এই। সর্বত্র ডাকাত আতঙ্ক। আর রাত জেগে পাহারা।

নগর ছাড়িয়ে ইউনিয়ন গ্রাম পর্যায়েও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খাদিমপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান আফছর আহমদ তো বুধবার রাতে তাঁর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ডাকাত হানা দিয়েছে বলে জানান।

ভোর রাতে লাক্কাতুরা চা বাগান থেকে ডাকাত সন্দেহে তিন তরুণকে আটক করে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।  তবে তারা আদৌ ডাকাত কী না এ নিয়ে সন্দিহান খোদ পুলিশই। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি।

বিমনবন্দর থানা পুলিশেরই একটি সূত্র জানিয়েছেন, মদ খেয়ে মাতলামির সময় এই তিন তরুণকে আটক করা হয়।

তবে এই ‘অতি আতঙ্কিত’ হওয়াকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এডিসি রহমতউল্লাহ। তিনি বলেন, মানুষ এখন সচেতন হয়েছে। ডাকাত প্রতিরোধে রাস্তায় এসে পাহারা দিচ্ছে। এটা ইতিবাচক দিক।

ভোররাতে লাক্কাতুরা চা বাগান থেকে ৩ ডাকাত আটক

বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগান এলাকা থেকে তিন ডাকাতকে আটক করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগীতায় বৃহস্পতিবার ভোররাতে সোয়া ৩টার দিকে তাদের আটক করা হয়।

এরআগে বুধবার মধ্যরাত থেকে পুরো নগরজুড়ে ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকার মসজিদে মাইকিং করে ডাকাত প্রতিরোধে সজাগ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাতভর লাঠি হাতে পাহারা দিতে দেখা যায়।

জানা গেছে, নগরীতে ডাকাত সদস্যরা প্রবেশ করেছে এমন খবরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়। এরপর থেকে নগরীর প্রতিটি পাড়ায় শুরু হয় পাহারা। ডাকাতদের আটকের জন্য পুলিশও অভিযান শুরু করে। এক পর্যায়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় লাক্কাতুরা চা বাগান থেকে বৃহস্পতিবার ভোররাত সোয়া ৩টার দিকে ৩ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন- মো. আবদুল (১৮), সাইদুল্লা(১৯) ও রাজু (১৮)।

ডাকাত আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেনবিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল আলম।