হত্যার দায় স্বীকার চাচির, অপর আসামি রিমাণ্ডে : অসামাজিক কার্যকলাপ দেখে ফেলায় শিশু সায়েলকে হত্যা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

হত্যার দায় স্বীকার চাচির, অপর আসামি রিমাণ্ডে : অসামাজিক কার্যকলাপ দেখে ফেলায় শিশু সায়েলকে হত্যা

প্রকাশিত: ৭:৫৮ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২০

হত্যার দায় স্বীকার চাচির, অপর আসামি রিমাণ্ডে : অসামাজিক কার্যকলাপ দেখে ফেলায় শিশু সায়েলকে হত্যা

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি

পরকীয়ার জেরে বিয়ানীবাজারে আড়াই বছরের শিশু সায়েল আহমদকে হত্যা করেন তারই চাচি সুরমা বেগম। সোমবার (০৮ মে) বিকেলে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন সুরমা বেগম। এছাড়া তার কথিত প্রেমিকা অপর আসামি নাহিদুল ইসলাম ইব্রাহিমকে ৪ দিনের পুলিশী রিমাণ্ডে নেওয়া হয়েছে।
সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫ম আদালতের বিচারক নওরীন করিম তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।  আদালতে সুরমা বেগমের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও মিডিয়া) মো: লুৎফর রহমান বলেন, প্রেমিক ইব্রাহীমের সঙ্গে সুরমা বেগমের অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার সময় শিশু সায়েল দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বসত ঘরের গোসল খানায় ড্রামে কম্বল মুড়ানো অবস্থায় শিশু সায়েলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরমা বেগম হত্যার দায় স্বীকার করে এবং অপর আসামী ইব্রাহীমকে ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (০৭ জুন) সন্ধ্যায় সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের উত্তর আকাখাজনা গ্রামে শিশু রাহেলের চাচা রুনু মিয়ার ঘরের বাথরুম থেকে শিশু সায়েল আহমদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘাতক সুরমা বেগম নিহতের চাচা রুনু মিয়ার স্ত্রী এবং নাহিদুল ইসলাম ইব্রাহিম উপজেলার চারখাই গ্রামের কামাল মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, রোববার (৭ জুন) সকালে শিশু সায়েল আহমদ তার চাচার বসত ঘরের আঙ্গিনায় আম গাছের নিচে পড়ে থাকা আম কুঁড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন দিনব্যাপী খোজাখুজি করে না পেয়ে গ্রামের মসজিদের মাইকে মাইকিং করেন।
এক পর্যায়ে বিষয়টি বিয়ানীবাজার থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়ের তত্বাবধানে বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে সুরমা বেগমের অসংলগ্ন কথাবার্তায় সন্দেহ হয়। পরে জানতে পেরে শিশু সায়েলের মরদেহ চাচি সুরমা বেগমে ঘরের বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল