হাওরে ভাসমান শৌচাগার – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

হাওরে ভাসমান শৌচাগার

প্রকাশিত: ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৬

হাওরে ভাসমান শৌচাগার

696eb2ca179127e417c7c1ff66331cc0-7২৫ আগস্ট ২০১৬, বৃহস্পতিবার: হাওরের মাঝখানে ছোট একটি গ্রাম। নাম ঘাগটিয়া। চারদিকে থই থই পানি। বর্ষা মৌসুমে এই গ্রামের শৌচাগারগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। এ কারণে গ্রামবাসী প্রাকৃতিক কাজ সারতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। কিন্তু এবার উপজেলা প্রশাসন গ্রামবাসীদের বিনা মূল্যে দিচ্ছে ভাসমান শৌচাগার।
ঘাগটিয়া গ্রামটি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরপাড়ের। এই গ্রামের ৪৮টি দরিদ্র পরিবারকে দেওয়া হয়েছে বিশেষভাবে তৈরি স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার।
হাওরের বাসিন্দাদের এই দুর্ভোগ লাঘবের ভাবনাটি আসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তালুতের মাথায়। পরে নিজেই শৌচাগারের নকশা করেন। এখন বাস্তবায়নেও তিনি রাখছেন মুখ্য ভূমিকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও তালুত বলেন, বর্ষা মৌসুমে পানিতে গ্রামের শৌচাগারগুলো তলিয়ে যায়। আর তখন কিছু গ্রামের মানুষ উন্মুক্ত জলাশয়েই প্রাকৃতিক কাজ সারে। দূষিত হয় হাওরের পানি। এই পানিই আবার গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করা হয়। এতে নানা রোগবালাই দেখা দেয়। এ থেকে হাওরের বাসিন্দারা কীভাবে মুক্তি পেতে পারেন, তা ভাবতে ভাবতে একদিন ভাসমান শৌচাগার তৈরির চিন্তা মাথায় আসে তাঁর।
ইউএনও বলেন, তাঁর উপজেলার একটি নদীর বালুমহাল থেকে অবৈধ বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হতো। এসব বোমা মেশিন চালাতে স্টিলের ড্রাম ব্যবহার করা হয়। প্রায়ই ওই নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ড্রাম, বাঁশ ও রশি জব্দ করতেন তাঁরা। একসময় জব্দ করা ড্রাম, বাঁশ ও রশি ফেলে আসতেন। কিন্তু যখন ভাসমান শৌচাগার তৈরির চিন্তা তাঁর মাথায় আসে, তখন থেকে ড্রাম, রশি ও বাঁশ সংগ্রহ করা শুরু করেন।
ভাসমান শৌচাগার তৈরি করতে পাঁচটি ড্রাম ব্যবহার করা হয়। দুটি করে ড্রাম পাশাপাশিভাবে বসিয়ে ওপরে বাঁশ দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। মাঝখানের ড্রামটি ব্যবহার হয় সেপটিক ট্যাংক হিসেবে। ওই ড্রামেই বসানো হয় প্লাস্টিক প্যান। তিন-চারজনের পরিবার ১৫ দিন সেটি ব্যবহার করার পর ড্রামটি পরিষ্কার করতে হয়। একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে পাইপ দিয়ে আবর্জনা পরিষ্কার করার ব্যবস্থা রয়েছে এতে। সব শৌচাগারের আবর্জনা একটি স্থানে ফেলে জৈবসার তৈরি করা হয়। উপজেলার ফতেপুর ইউপির চেয়ারম্যান রণজিৎ চৌধুরী বলেন, ভাসমান শৌচাগার সহজেই তৈরি করা যায়। প্রয়োজনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানেও সরিয়ে নেওয়া যায়।
ইউএনও বলেন, তাঁর কাছে এখনো যে পরিমাণ ড্রাম আছে, সেগুলো দিয়ে আরও ২০০ ভাসমান শৌচাগার তৈরি করা যাবে। দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা ব্যয় করে যে কেউ এ ধরনের শৌচাগার বানাতে পারেন।